সংবাদ শিরোনাম
কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার  » «   মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি কারাবন্দি মনি  » «   কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদী উপজেলার যুবদল সভাপতি নিহত  » «   বিধবাকে গণধর্ষণ, এএসআই প্রত্যাহার  » «   বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ  » «   সরকার দুর্নীতির দায় এড়াতে বিএনপিকে দোষ দিচ্ছে  » «   শামীমের রাজ্যে যেনো টাকার বিকল্প কিছু নেই  » «   সিলেটে ৪৫৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা  » «   মোজাম্বিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর দুই ভাই নিহত  » «   ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে রিয়াদ-আবুধাবি ধ্বংস হযে যাবে’  » «   ফেসবুক কার্যালয়ে কর্মীর আত্মহত্যা  » «   আফগানদের বিপক্ষে সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ  » «   মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «   সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু  » «   নগরীর বন্দরবাজারে অস্ত্রসহ ছিনতাইকারী আটক  » «  

গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়া উচিত

 ॥ আবু মালিহা ॥দলীয় ব্যানারে স্থানীয় নির্বাচন

সিলেটপোস্ট ডেস্ক : ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে। দেশের ৪৮৭টি উপজেলা এবং থানা পর্যায়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। বস্তুত: গণতন্ত্রকে টেকসই পদ্ধতিতে এগিয়ে নেয়ার জন্য এ নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বের দাবীদার। অনেক দেশেই এ ধরণের নির্বাচন করে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরো প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের দেশেও এ ধরনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়ে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে এ নির্বাচন কতটা অর্থবহ হবে এ ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায় বটে!
নির্বাচন তো জনগণের জন্য। জনগণ যদি নির্বাচন করার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে না পারে তবে সে নির্বাচন কতটুকু গণতন্ত্রকে সমুন্নত করবে এ বিষয়ে জনমতামত এবং তার মূল্যায়ন তুলে ধরতে যদি ব্যাহত হয় তবে নির্বাচন তার বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব দুই-ই হারাবে। অর্থাৎ এ নির্বাচনের আর কোন যৌক্তিকতা থাকবেনা। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন যদি না ঘটে তবে এ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ঘটবে না।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের শ্লোগান হলো ‘আমার ভোট আমি দিব, যারে খুশি তারে দিব’। কিন্তু বর্তমানে আমার ভোটটি দেয়ার মত মৌলিক অধিকার ও দায়িত্বটুকুর খেয়ানত কীভাবে হচ্ছে এ বিষয়ে বিগত নির্বাচনগুলো তার সাক্ষী। নির্বাচনী কাঠামোকে তছনছ করে দিয়ে জনগণের মতামতকে কোন গুরুত্ব না দিয়েই এক পেশে দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে নির্বাচন পদ্ধতিকে শুধু বিনষ্টই করে নাই, নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে একেবারে তলানীতে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ এ সমস্ত প্রহসনের নির্বাচন জনগণ আর বিশ্বাস করেনা। অতএব জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যায়নকে যেখানে ভন্ডুল করে দেয়া হয় সেখানে এ ধরনের প্রহসনমূলক নির্বাচন দিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ভাল কোন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা যাবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারী দলের ক্যাডার এবং সন্ত্রাসী মার্কা প্রতিনিধি যখন বিনা ভোটেই নির্বাচিত হয়ে আসবে, তখন এ ব্যক্তি দ্বারা দেশ জাতির উন্নতি হওয়ার পরিবর্তে অরাজকতা, লুটপাট এবং সামান্য স্বার্থ হাছিলে প্রশাসনের সহায়তায় হত্যাকান্ডের মত ঘটনা ঘটাতে আর দ্বিধা করেনা বরং উত্তরোত্তর সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত নারায়নগঞ্জের সাত খুনের মার্ডার সহ সমগ্র দেশের শত শত হত্যাকান্ডের ঘটনা।
দেশে আজ কোন গণতন্ত্র নেই। আছে শুধু পেশী শক্তির দাপট ও সরকারী দলের শত শত মাসলম্যানদের দৌরাত্ম। জাতি এদের থেকে মুক্তি চায়। জুলুম আর নির্যাতনের যে জাহেলিয়াত শুরু হয়েছে তার থেকে এদেশের জনগণ পরিত্রাণ চায়। আজ দেশের জনগণকে জঙ্গি দমনের নাম করে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। জনগণের চোখে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সন্ত্রাসে সন্ত্রাসে দেশের জনগণ অস্থির। উৎকন্ঠা ও শঙ্কা বাড়ছে প্রতিটি দিন। কখণ কার উপর খড়গ নেমে আসে নিরীহ নিরাপরাধ জনগণের উপর সে উৎকন্ঠা থেকেই যায়। বিরোধী দলের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে সন্ত্রস্ত জনপদে পরিণত করেছে। এ সরকার গণতন্ত্রের ভাষা বোঝে না। স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতায় একদলীয় জুলুমতন্ত্র কায়েম করে রেখেছে। হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রেখে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। এরি মধ্যে ঘোষণা করেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর অর্থ হলো, বিগত সময়ের মতই আর একটি প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে বিরোধী মত ও দলের কোন প্রার্থীকেই প্রশাসন থেকে দূরে রাখার আর একটি কূটকৌশল মাত্র। সরকারের এ সমস্ত ষড়যন্ত্র জনগণের এখন বুঝতে বাকী নেই। দেশের জনগণ আর তাদের নিয়ন্ত্রণে কোন নির্বাচন চায় না। বর্তমানে দেশের জনগণ চায় এ জুলুমশাহীর অবসান।
এবার সরকারের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দলীয়ভাবে নির্বাচনী প্রার্থীতা ঘোষণা করতে পারবে। এর অর্থ হলো সরকার দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে প্রশাসন সহ সকল স্তরের দলীয় নেতা কর্মীদের উৎসাহিত করছে। যাতে করে বিরোধী দল আর মাঠে না থাকতে পারে বা তাদের কোন প্রার্থী পদ না পায় এবং জনগণকে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে যেন অন্য কোন চিন্তাভাবনা না করে সরকারের দলীয় প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে হবে। সে কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা। এতে অবাধ নিরপেক্ষ নির্দলীয় নির্বাচনের আর কোন সুযোগ থাকলোনা। এর অর্থই হলো স্বৈরতান্ত্রিক প্রতিনিধি নির্বাচনে অন্য কোন বাধা থাকলো না। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক মতামতের অসহায় আত্মসমর্পণের করুণ দশায় নিপতিত হবে।
গণতান্ত্রিক চর্চাকে রুদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট মানসিকতায় একদলীয় শাসনকে কুক্ষিগত করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার আরেক লজ্জাজনক চর্চার পথকে উন্মুক্ত করে দেয়া হলো। স্থানীয় জনপ্রশাসন নির্বাচনে জনগণের পছন্দ মাফিক ব্যক্তি নির্বাচনের আর কোন সুযোগ থাকলো না এবং গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে সরকার আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলেই সচেতন মহল মনে করছে। তাই আমরা জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে যেন দলীয়ভাবে কোন প্রার্থী ঘোষণা না করা হয় সে ব্যাপারে সচেতন জনগণ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ভবিষ্যতে যেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধি নির্বাচনে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সকল দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধের ভিত্তিতে যেন প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গঠনের দ্বারা দেশ ও জাতির উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন প্রত্যাশাই গোটা দেশবাসীর এবং গণতন্ত্রের স্বার্থেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়া উচিত।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট ও সভাপতি সিলেট কেন্দ্রিয় লেখক ফোরাম।

সিলেটপোস্ট২৪ডটকম/ফয়ছল আহমদ/২৬.১১.২০১৫

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.