সংবাদ শিরোনাম
এবার দিল্লির ধরনা থেকে মহাজোটের বার্তা, মোদী হঠাও  » «   আমিরাতে সাধারণ ক্ষমায় বৈধ হলো ৫০ হাজার বাংলাদেশি  » «   মালয়েশিয়ায় পুলিশের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত  » «   অচল কানাডা: মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কতা  » «   তবু শেষ রক্ষা হলো  » «   রাজধানীর গুলশানে গারো তরুণীকে ধর্ষণ  » «   বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বিল পরিশোধ নয়  » «   স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু  » «   সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৫০  » «   ইজতেমার বয়ানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ চলছে, প্রক্টরসহ আহত ৫  » «   সিলেট জেলা পুলিশের মাদক নির্মূলে অঙ্গীকার  » «   সিটি করপোরেশনের কাজ করে ১৩ বছরেও বিল পাননি ঠিকাদার  » «   যতনে বাঁধিও চুল, খোপায় বাঁধিও ফাল্গুনী ফুল  » «   সিলেটে দুই ড্রিংকিং ওয়াটারসহ তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা  » «  

রবিবারের কূল নেই

আসমা অধরা::হাতের মুঠোয় আলো ধরতে চাইতেই সন্ধ্যে নামে। কী নিশ্ছিদ্র নিকষ গুহা এক, অথচ সিরাতুল মুস্তাকীম হয়েও আলো আভা নেই। রূপনগরের মাঠভর্তি এত এত জোনাকি ওড়ে এই সন্ধ্যায়। গুনতে গুনতে সাড়ে সাত, হাত ভর্তি ছয় আর এক উড়ে যায়, অর্ধেক এসে ঠেকে থাকে আঙুলের ফাঁকে।

এমন সব অনির্দিষ্ট আঁধার ফুঁড়ে ওই অপেক্ষার নামাবলি। স্মৃতিভর্তি করে থাকা অনেকগুলো সকালের একটিতেও মুখ নেই কারো। কেবল চোখ খুললেই গাঢ় চকলেটি পর্দার হালকা উড়ে যাওয়া। উঁহু! বাতাস নেই বেভুল বেহুলার সুরের মতো। ঘটাং ঘটাং করে কপালের উপরে ঘুরছে, ফ্যান। তাতেই পর্দার এই টুং টাং করে বেজে ওঠার কসরত। নৈশব্দ্যের পতন, আর আরো একটি সকালের জলহাওয়া উবে যাওয়া রোদ্দুর।

চিলেঘর থেকে যেন চিল চিৎকারের মতো ঝনাৎ করে লাফিয়ে পড়ে বিষাদ। খুব হরর, শিউরে ওঠা জানে ওসব অনুভব। চুমুর মতো করে জেগে ওঠা রোমকূপের সে কী ইনসাল্টিং হাসি, কেবল শিহরণ কী তাতেই হয়? বোঝো এবার! অথচ এই এক মখলুকাত যে ক্ষীণস্বরে সারা রাত জোনাকি গুণে বসতিজুড়ে রুয়ে দিতে চাইল আলো তার কোনো মূল্যই নেই। যদিও বাজারে এসবের দাম নেই, তা বোঝার সাধ্য মনের কই! খাঞ্জাখাঁ-এর নতুন জন্মানো নাতির মতো সে ইশারায় আদেশ দিয়েই খালাস।

এই উত্তাল সমুদ্রে চোখে কম্পাস এঁকে চলতে চলতে তীর খোঁজো এবার। তাতে শার্শি মাখা রোদ থুড়ি রোদ মাখা শার্শির গায়ে শিরীষ দ্বীপের নকশা আঁকবে কে! যুদ্ধচিহ্নরা বুকের কাছে এসে ওম খোঁজে, আরো আরো অনেক কিছু। মুহূর্তফুলগুলো বেলে ঘড়ির গা বেয়ে বেয়ে ঝরে যায়, অথচ কাচ যে কত নির্বোধ সে কথা নাহয় পরেই বলি।

এসব ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরা। বাড়ি মানে ঘর নয়। বুকের কাছে, যে বুকে এখনো ধুকপুক হয়। নিজের বিচারশূন্য হলে কাঠগড়ার কী কাজ? তবু আবার ধরি ধরি করে ঘেমে যায় হাতের তালু, ধরতে গেলেই আর পেলেমনার গান। অভিকর্ষের গা থেকে ভ্রমণ খুলে গেলে ফিরে আসা মানেই ওই কড়িবর্গা পেরিয়ে কেবল একটা ছাদের নিচে সমর্পিত হয়ে যাওয়া। এই যে শীতার্ত শরীরের গা থেকে একটা রবিবার চিরতরে মুছে যাবার মতন।

এমন অনেক রবিবারের কূল নেই, কম্পাস নেই, আলো নেই, আঁধার নেই, সাড়ে সাতটা জোনাকি নেই, নেই বুক ও ঠিকানা। তবু সব রবিবারের এমনি অন্ধকার থাকে, থাকে নির্জন হয়ে মুখোমুখি বসে থাকার একটা মানুষের অভাব। সব রবিবারের ঠিকুজী কুলুজী আর কুষ্ঠী জুড়ে লেখা থাকে সোমবারের নাম। লেখা থাকে শুধু শুধুই এত এত হর্ন, হেডলাইটের ভিড় পেরিয়ে এসে ঢুকে যেতে হয় বাড়ির, না না, ঘরের দরোজায়। অনর্থক!

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.