সংবাদ শিরোনাম
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫  » «   স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে হত্যা করে ভিডিও করলো যুবক  » «   আরব আমিরাতকে হারিয়ে শুভসূচনা বাংলাদেশের  » «   সুদান-আলজেরিয়ায় আরব বিপ্লবের নতুন ঢেউ  » «   ‘হামলায় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত জড়িত  » «   লাখাইয়ে নিখোঁজের ২ মাস পর মিলল কলেজ ছাত্রের লাশ  » «   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধার  » «   বালাগঞ্জের কাজীপুর গ্রামে তরুণের আত্মহত্যা  » «   শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: এসআই ক্লোজড, ওসি শোকজ  » «   বুধবার আসছে জায়ানের মরদেহ  » «   শেয়ারবাজার পতনে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   শ্রীলঙ্কার সব স্কুল দুই দিন বেশি বন্ধের ঘোষণা  » «   শ্রীলঙ্কায় সিরিজ হামলায় নিহত বেড়ে ১৩৮  » «   ব্যারিস্টার আমিনুলের মৃত্যুতে ফখরুলের শোক  » «   বিএনপি নেতা আমিনুল হক আর নেই  » «  

রবিবারের কূল নেই

আসমা অধরা::হাতের মুঠোয় আলো ধরতে চাইতেই সন্ধ্যে নামে। কী নিশ্ছিদ্র নিকষ গুহা এক, অথচ সিরাতুল মুস্তাকীম হয়েও আলো আভা নেই। রূপনগরের মাঠভর্তি এত এত জোনাকি ওড়ে এই সন্ধ্যায়। গুনতে গুনতে সাড়ে সাত, হাত ভর্তি ছয় আর এক উড়ে যায়, অর্ধেক এসে ঠেকে থাকে আঙুলের ফাঁকে।

এমন সব অনির্দিষ্ট আঁধার ফুঁড়ে ওই অপেক্ষার নামাবলি। স্মৃতিভর্তি করে থাকা অনেকগুলো সকালের একটিতেও মুখ নেই কারো। কেবল চোখ খুললেই গাঢ় চকলেটি পর্দার হালকা উড়ে যাওয়া। উঁহু! বাতাস নেই বেভুল বেহুলার সুরের মতো। ঘটাং ঘটাং করে কপালের উপরে ঘুরছে, ফ্যান। তাতেই পর্দার এই টুং টাং করে বেজে ওঠার কসরত। নৈশব্দ্যের পতন, আর আরো একটি সকালের জলহাওয়া উবে যাওয়া রোদ্দুর।

চিলেঘর থেকে যেন চিল চিৎকারের মতো ঝনাৎ করে লাফিয়ে পড়ে বিষাদ। খুব হরর, শিউরে ওঠা জানে ওসব অনুভব। চুমুর মতো করে জেগে ওঠা রোমকূপের সে কী ইনসাল্টিং হাসি, কেবল শিহরণ কী তাতেই হয়? বোঝো এবার! অথচ এই এক মখলুকাত যে ক্ষীণস্বরে সারা রাত জোনাকি গুণে বসতিজুড়ে রুয়ে দিতে চাইল আলো তার কোনো মূল্যই নেই। যদিও বাজারে এসবের দাম নেই, তা বোঝার সাধ্য মনের কই! খাঞ্জাখাঁ-এর নতুন জন্মানো নাতির মতো সে ইশারায় আদেশ দিয়েই খালাস।

এই উত্তাল সমুদ্রে চোখে কম্পাস এঁকে চলতে চলতে তীর খোঁজো এবার। তাতে শার্শি মাখা রোদ থুড়ি রোদ মাখা শার্শির গায়ে শিরীষ দ্বীপের নকশা আঁকবে কে! যুদ্ধচিহ্নরা বুকের কাছে এসে ওম খোঁজে, আরো আরো অনেক কিছু। মুহূর্তফুলগুলো বেলে ঘড়ির গা বেয়ে বেয়ে ঝরে যায়, অথচ কাচ যে কত নির্বোধ সে কথা নাহয় পরেই বলি।

এসব ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরা। বাড়ি মানে ঘর নয়। বুকের কাছে, যে বুকে এখনো ধুকপুক হয়। নিজের বিচারশূন্য হলে কাঠগড়ার কী কাজ? তবু আবার ধরি ধরি করে ঘেমে যায় হাতের তালু, ধরতে গেলেই আর পেলেমনার গান। অভিকর্ষের গা থেকে ভ্রমণ খুলে গেলে ফিরে আসা মানেই ওই কড়িবর্গা পেরিয়ে কেবল একটা ছাদের নিচে সমর্পিত হয়ে যাওয়া। এই যে শীতার্ত শরীরের গা থেকে একটা রবিবার চিরতরে মুছে যাবার মতন।

এমন অনেক রবিবারের কূল নেই, কম্পাস নেই, আলো নেই, আঁধার নেই, সাড়ে সাতটা জোনাকি নেই, নেই বুক ও ঠিকানা। তবু সব রবিবারের এমনি অন্ধকার থাকে, থাকে নির্জন হয়ে মুখোমুখি বসে থাকার একটা মানুষের অভাব। সব রবিবারের ঠিকুজী কুলুজী আর কুষ্ঠী জুড়ে লেখা থাকে সোমবারের নাম। লেখা থাকে শুধু শুধুই এত এত হর্ন, হেডলাইটের ভিড় পেরিয়ে এসে ঢুকে যেতে হয় বাড়ির, না না, ঘরের দরোজায়। অনর্থক!

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.