সংবাদ শিরোনাম
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫  » «   স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে হত্যা করে ভিডিও করলো যুবক  » «   আরব আমিরাতকে হারিয়ে শুভসূচনা বাংলাদেশের  » «   সুদান-আলজেরিয়ায় আরব বিপ্লবের নতুন ঢেউ  » «   ‘হামলায় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত জড়িত  » «   লাখাইয়ে নিখোঁজের ২ মাস পর মিলল কলেজ ছাত্রের লাশ  » «   হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধার  » «   বালাগঞ্জের কাজীপুর গ্রামে তরুণের আত্মহত্যা  » «   শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: এসআই ক্লোজড, ওসি শোকজ  » «   বুধবার আসছে জায়ানের মরদেহ  » «   শেয়ারবাজার পতনে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   শ্রীলঙ্কার সব স্কুল দুই দিন বেশি বন্ধের ঘোষণা  » «   শ্রীলঙ্কায় সিরিজ হামলায় নিহত বেড়ে ১৩৮  » «   ব্যারিস্টার আমিনুলের মৃত্যুতে ফখরুলের শোক  » «   বিএনপি নেতা আমিনুল হক আর নেই  » «  

মোদির ভয়াবহতম দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন যে তিন নারী

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::লোকসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বার বিজয়ী হওয়ার পথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন সমাজের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে উঠে আসা তিন নারী।
জানুয়ারিতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা। বিরোধী দল কংগ্রেস তাকে উত্তর প্রদেশে তাদের প্রতিনিধি করেছে।

আরও দুই বর্ষীয়ান নারী রাজনীতিবিদ, পশ্চিমবঙ্গের তেজস্বী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও ছক আঁটছেন মোদির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ-কে পরাজিত করতে। তারা বিরোধী দলগুলোর এক বিশাল জোট গঠনের পরিকল্পনা করছেন, তবে তাদের মধ্যে এখনও কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

‘বিরোধীদলগুলোতে এনডিএ’র চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর নারী রয়েছে। একারনে সাধারণভাবে তারা ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবেন,’ বলেন যসবন্ত সিংহ (৮১)। সাবেক এই অর্থমন্ত্রী মোদির বিজেপি ত্যাগ করেছেন গত বছর।

‘বিশেষ করে তিনটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে পরাজিত হওয়ার পর ওদের ভীষণ দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে,’ রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন তিনি।
রাজনীতির দৌড়ে নেমেই মিডিয়ায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা।

উল্লসিত সমর্থকদের বহু ছবি দেখা গেছে, অনেকেই ৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার দাদী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মিল খুঁজে পেয়েছেন। সুবক্তা হিসেবে ভোটারদের কাছে তিনি সহজে বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন এমন মন্তব্যও শোনা গেছে। এদিক থেকে তিনি তার ভাই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর থেকে ভিন্ন। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারার জন্য অতীতে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ

মোদির ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো অন্য দুই নারী প্রিয়াঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। এবং জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই দু’জনেরই।

 

সাবেক শিক্ষিকা মায়াবতী (৬৩) গত মাসে তার দল বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) এবং এর এক সময়কার শত্রু সমাজবাদী পার্টিকে (এসপি) নিয়ে জোট গঠন করেছেন। বিএসপির সমর্থকরা মূলত হিন্দু ধর্মের সর্বনিম্ন জাতি দলিতদের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির সমর্থক হচ্ছে অন্যান্য নিম্ন বর্ণের মানুষ এবং মুসলিমরা।

এবং এদের সঙ্গে রয়েছে ৬৪ বছর বয়সী মমতা, যিনি দুইবার ফেডারেল সরকারের রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। গতমাসে তিনি বিজেপি-বিরোধী এক সভার আয়োজন করেন যাতে সমবেত হয় লাখ লাখ মানুষ।
এই তিন নেত্রীর দলের সহকর্মীরা রয়টার্সকে কোনও মন্তব্য জানাতে রাজি হননি।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে মোদি এখনও ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।

প্রথমবার ক্ষমতায় থাকার সময় মোদি নারীদের বিভিন্ন সমস্যা উপেক্ষা করেছেন এমন অভিযোগও করা যাবে না। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ নামে তিনি একটি সরকারি কার্যক্রম চালু করে মেয়ে ভ্রুণ হত্যা বন্ধেরও উদ্যোগ নিয়েছেন। দরিদ্রতর ভারতীয়দের জন্য কম খরচে টয়লেট এবং গ্যাস সিলিন্ডার দিতে তার নেয়া পদক্ষেপও নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

তার মন্ত্রিসভায় রয়েছে ছয় জন নারী, কিন্তু অনেকখানি ক্ষমতা মোদি ও জ্যেষ্ঠ দুই সহযোগীতেই কেন্দ্রীভূত।

বিজেপি বলছে তারা মোদির অধীনে সাফল্যের ভিত্তিতে ভোট চাইবেন এবং বিরোধী দল ‘এই সরকার ও তার কার্যক্রমের কোনও ইতিবাচক বিকল্প নয়’।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক

কংগ্রেস বলছে তারা মায়াবতীর বিএসপি ও এসপি জোটের সঙ্গে নির্বাচনের পর জোট গঠন করবে, যদিও তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে ৭৮টি আসনে। রাহুল ও তার মা সোনিয়া একাধিকবার জয়ী হয়েছেন গান্ধীদের এমন দুটি শক্ত ঘাঁটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না মায়াবতীর জোট।

এক সংবাদ সম্মেলনে মায়াবতী ঘোষণা দিয়েছেন, এসপির সঙ্গে তার জোটে কংগ্রেস নেই কারণ, তিনি মনে করেন ‘নির্বাচনের আগে তাদের সঙ্গে নিলে কোনও লাভ নেই’।

তবে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে বিএসপি।

মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও আনুষ্ঠানিক জোট নেই, তবে তিনি রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পরিচিত।
সাবেক মন্ত্রী ও মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিনেশ ত্রিবেদি বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রধান ও কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার ভাল ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। একারনে তার দুই সন্তানের সঙ্গে কাজ করতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

‘অভিজ্ঞতার বিচারে মমতা অনেক এগিয়ে। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা মমতা ব্যানার্জিকে দেখে অনুপ্রাণিত হলেও আমি অবাক হব না,’ বলেন ত্রিবেদি।

প্রিয়াঙ্কা, মমতা ও মায়াবতীর সম্ভাব্য জোটের শক্তিটা হচ্ছে, তারা বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন।

কংগ্রেসের দু’টি সূত্র জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেয়ায় উত্তর প্রদেশে তাদের দলের পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠা সহজ হতে পারে। ওই অঞ্চলে কংগ্রেসের অবস্থা দুর্বল, কারণ রাজ্যের উচ্চ বর্ণের ভোটাররা সাধারণত ব্যবসা-সহায়ক বিজেপিকে ভোট দেয়।
গান্ধী পরিবারের কাছের একজন কংগ্রেস নেতা বলেন, প্রিয়াঙ্কা নারী, তরুণ ও অনিশ্চিত ভোটারদের আকৃষ্ট করবেন।

প্রিয়াঙ্কা (৪৭) কোনও অনভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা নন। আগের নির্বাচনগুলোতে তিনি তার মা ও ভাইয়ের জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাহুল গত সপ্তাহে এক ভাষণে বলেছেন, ‘সবাই মনে করে, ধনী পরিবার থেকে আসায় আমাদের জন্য সব খুবই সহজ। কিন্তু আসলে সহজ নয়। আততায়ীরা আমার বাবা হত্যা করেছে, দাদীকে হত্যা করেছে। বিরাট রাজনৈতিক লড়াই ছিল, ছিল রাজনৈতিক জয়-পরাজয়।’

‘জাতীয় নেতা’

বিএসপির মুখপাত্র সুধিন্দ্র ভাদোরিয়া বলেন, মায়াবতী নারী না পুরুষ সেটা কোনও বিষয় নয়।
‘উনি একদম শূন্য থেকে শুরু করে একটা দলকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে, তিনি নারী, পুরুষ, দলিত, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া বর্ণের মানুষ, দরিদ্র ও সংখ্যালঘুদেরকে সংগঠিত করেছেন। আমি তাদেরকে নারী-পুরুষের ছাঁচে ফেলতে চাই না। আমার মতে তিনি একজন জাতীয় নেতা,’ বলেন ভাদোরিয়া।

মায়াবতীকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষীও মনে করা হয়। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনৈতিক বার্তায় তাকে ‘প্রথম শ্রেণির অহংকারী ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়াই তার ধ্যানজ্ঞান’।

কিন্তু নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের ক্ষমতায়নের জন্যও প্রশংসিত মায়াবতী।

পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের কম্যুনিস্ট সরকারকে ২০১১ সালের নির্বাচনে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসেন মমতা। তৃণমূল পর্যায়ে তার রাজনৈতিক দক্ষতার কথা সর্বজনবিদিত। বিজেপির অধীনে ধর্মীয় ইস্যুতে বিভক্ত দেশটিতে ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হিসেবেই নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.