সংবাদ শিরোনাম
এবার দিল্লির ধরনা থেকে মহাজোটের বার্তা, মোদী হঠাও  » «   আমিরাতে সাধারণ ক্ষমায় বৈধ হলো ৫০ হাজার বাংলাদেশি  » «   মালয়েশিয়ায় পুলিশের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত  » «   অচল কানাডা: মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সতর্কতা  » «   তবু শেষ রক্ষা হলো  » «   রাজধানীর গুলশানে গারো তরুণীকে ধর্ষণ  » «   বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বিল পরিশোধ নয়  » «   স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু  » «   সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৫০  » «   ইজতেমার বয়ানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   জাবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ চলছে, প্রক্টরসহ আহত ৫  » «   সিলেট জেলা পুলিশের মাদক নির্মূলে অঙ্গীকার  » «   সিটি করপোরেশনের কাজ করে ১৩ বছরেও বিল পাননি ঠিকাদার  » «   যতনে বাঁধিও চুল, খোপায় বাঁধিও ফাল্গুনী ফুল  » «   সিলেটে দুই ড্রিংকিং ওয়াটারসহ তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা  » «  

আমেরিকার পর রাশিয়াও বেরিয়ে গেল পরমাণু চুক্তি থেকে

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময় স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর রাশিয়াও একইভাবে শনিবার চুক্তিটি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া এখন নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করবে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে তারা পরমাণু অস্ত্রের ওপর কয়েক দশকের পুরানো যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেবে। কিছু বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের সময় করা এই চুক্তিটির নাম মধ্য-পাল্লার পরমাণু শক্তি চুক্তি যা সংক্ষেপে আইএনএফ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তিটি সই হয়েছিল ১৯৮৭ সালে।

এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া এখন নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করবে।

‘আমাদের মার্কিন অংশীদাররা ঘোষণা করেছে যে, তারা এই চুক্তি বাতিল করছে। এখন আমরাও সেটা বাতিল করছি,’ বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।

তবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের সব প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য দরজা খোলা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে যে মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি বা Nuclear Forces Treaty রয়েছে তা স্থগিত করা হবে। ওই চুক্তিটি ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময় হয়েছিল। রাশিয়া ওই চুক্তিটি লঙ্ঘন করে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ। যেসব ক্রুজ মিসাইলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার বেশ কিছু রাশিয়া অগ্রাহ্য করে আসছে। তবে রাশিয়া ওইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দুই দেশের মধ্যকার ওই চুক্তিটি ছিল বিশ্বের প্রথম অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। যার মধ্যে ভূমিতে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে সক্ষম এমন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়।

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছয় মাসের মধ্যে এই চুক্তি থেকে যে বেড়িয়ে আসবে তা রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এই চুক্তিতে দুটো দেশের সব ধরনের পরমাণু অস্ত্রসহ স্বল্প ও মধ্য-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

আজ শনিবার পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেনারেল ইয়েন্স স্টল্টেনবার্গ বিবিসিকে বলেছেন, ‘ইউরোপের সবগুলো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করছে, কারণ রাশিয়া গত কয়েক বছর ধরেই এই চুক্তি ভঙ্গ করে আসছে। ইউরোপে তারা নতুন নতুন পরমাণু শক্তিধর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে রাশিয়াকে যে ছয় মাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা তারা কাজে লাগাতে পারে।

চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাশিয়া সব সময়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিতে যে পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ আছে যে রাশিয়া সেগুলোর তৈরি করছে। তার মধ্যে রয়েছে ৫০০ কিলোমিটার থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

কোনো কোনো মার্কিন কর্মকর্তা এও বলেছেন যে, রাশিয়া 9M729 ক্ষেপণাস্ত্রও মোতায়েন করেছে, ন্যাটোর কাছে যা SSC-8 নামে পরিচিত।

এসব তথ্য প্রমাণ ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোর কাছে তুলে ধরলে তারাও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করেছে।

গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়াকে ৬০ দিনের সময় দিয়েছিল চুক্তির শর্ত মেনে চলার জন্য। তারা হুঁশিয়ার করে দিয়েছিল যে, অন্যথায় ওয়াশিংটনও এই চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য থাকবে না।

আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া বরং বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ইউরোপে ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থা স্থাপন করেছে যা এই চুক্তির লঙ্ঘন।

এরপর কী হতে পারে?

শনিবার প্রেসিডেন্ট পুতিন তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেছেন। তাদেরকে বলেছেন, তারা এখন নতুন অস্ত্র তৈরিকে কাজ শুরু করবেন।

এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এ রকম কালিবর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র। এসব হাইপারসনিক অস্ত্র শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি গতিতে ছুটে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ব্যয়বহুল অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মোতায়েন করার আগে তারাও কোথাও স্বল্প ও মধ্য-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে না।

এ ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলো সব সময়ই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

‘এসব নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বহন করা যায়। এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। এগুলো পরমাণু শক্তিধর। ইউরোপের যেকোনো শহরেও আঘাত হানতে সক্ষম,’ বলেছেন ন্যাটোর মহাসচিব।

আইএনএফ চুক্তিতে কী আছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে।

    অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের এই চুক্তিতে সব ধরনের পরমাণু অস্ত্র এবং স্বল্প ও মধ্য-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    রাশিয়ার এসএস-টোয়েন্টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রও ক্রুজ মিসাইল স্থাপন করেছিল। এই ঘটনা ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

    ১৯৯১ সালের মধ্যে প্রায় ২,৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।

    দুটো দেশকেই একে অপরের স্থাপনা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ২০০৭ সালে ঘোষণা করেন যে এই চুক্তি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করছে না।

    এর আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী এক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.