সংবাদ শিরোনাম
‘ধর্ষিতা কন্যাকে চুপ থাকতে বলেন’ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী  » «   নিউ জিল্যান্ডে অগ্ন্যুৎপাত ॥ নিহত ১,কয়েকজন নিখোঁজ  » «   বঙ্গবন্ধু বিপিএলে একমাত্র দেশী কোচ সালাউদ্দিন  » «   নারীরা এখন সর্বত্র কাজ করছে ॥ প্রধানমন্ত্রী  » «   ২২ ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজি বদলি  » «   এখন থেকে প্রতিদিন তিনবার ফুটপাতে অভিযান চলবে-মেয়র আরিফ  » «   মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির শোভাযাত্রা মঙ্গলবার  » «   নগরীর কাষ্টঘর এলাকা থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার  » «   সিলেটে আজ থেকে কার্যকর হলো নতুন সড়ক পরিবহন আইন  » «   কমলগঞ্জে ৫ মাস পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন  » «   প্রত্যেক নারীকে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার হতে হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   দিরাইয়ে দুইদিন থেকে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার  » «   ছাতকে পিকআপ ভর্তি ভারতীয় কসমেটিকসহ আটক ৩  » «   সিলেটে চালু হচ্ছে আরও একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়  » «   রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ, আটক ১২  » «  

সময় এখন গ্রাম ভ্রমণের…

জাভেদ হাকিম::সময় এখন বাংলার রূপ দেখার। সময় এখন আবহমান বাংলাদেশের নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাবার। সময় এখন মাছ ধরার মহা উৎসব পালন করার। দেশের প্রতিটি গ্রামের মাঠ এখন কাঁচা-পাকা ধান গাছে বাতাসের দোল। যেন পুরো গাঁ জুড়ে সবুজের ক্যানভাস। কোথাও কোথাও আবার পাকা ধানের ম ম ঘ্রাণ। বাড়ি বাড়ি নতুন চালের পিঠা, পুলি, পায়েস তৈরিতে ব্যস্ত মা, চাচি, বউ, ঝিরা। সেই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে পানি কমে যাওয়া, মাছ ধরারও ধুম লেগেছে। এটা আমার বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য। বাঙালী সংস্কৃতিরই একটা অংশ। সেই অংশেরই অংশীদার হওয়ার জন্য এবার দে ছুট ভ্রমণ সংঘর বন্ধুদের নিয়ে গ্রাম-বাংলার মাঠ-ঘাট ভ্রমণের পাশাপাশি মাছ ধরার আয়োজন করা হয়েছিল। ভ্রমণের ধরন হতে পারে অনেক রকম। পাহাড়, বন, জঙ্গল, সমুদ্র ও ইকো পার্ক এ ঘুরে বেড়ানোর সময় যেমন প্রকৃতির নানা রূপের দর্শন ভিন্ন ভিন্ন আনন্দ দেয় ঠিক তেমনি গ্রামের পথে যাপিত জীবনের বিবিধ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মাঝেও রয়েছে ভ্রমণের অন্যরকম সার্থকতা। দে ছুট ভ্রমণ সংঘর বন্ধুরা সব সময়ই ঘুরে বেড়ানোর সময় একটু ভিন্ন কিছুর আনন্দ পেতে নতুনত্ব খোঁজে। তাই এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে গ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে, ভ্রমণে নতুন করে যোগ করেছে মাছ ধরা আর ফসলি জমির আইল ধরে ঘুরে বেড়ানোর অভিযান। এখন থেকে মাঝে মধ্যেই সুযোগ করে গ্রামাঞ্চলে, ভ্রমণের ফাঁকে চলবে মৎস্য শিকার।

মৎস্য অভিযানের ধারাবাহিকতায় বামুনশুরের পর এবার গিয়েছিলাম গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার চাটারবাগ গ্রামে।আগে থেকেই সেই গ্রামের সোহেলকে জানিয়ে রেখেছিলাম।তিনি যেন আমাদের জন্য একটি পুকুর দেখে রাখেন। যেই পুকুরে চাষ করা নয় প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশীয় প্রজননে বেড়া ওঠা মাছের সমাগম হবে। এ রকম পুকুরগুলোতে সাধারণত বর্ষার সময় পার্শ্ববর্তী খাল, বিল, নদী হতে মাছ এসে জমা হয়। যে রকম কথা সে রকম কাজ। সব কাজের কাজী সোহেল ওরকমই এক পুকুর যাকে গ্রাম্য ভাষায় ডোবা বলে, আমাদের জন্য পনেরো হাজার টাকায় কিনে নিল। খবর পেয়ে আমরা বেজায় খুশি। চলল প্রস্তুতি, রাতে হবে ক্যাম্পিং সঙ্গে বার বি কীউ আর সকালে হবে ভুনা খিচুড়ি। পুকুর কেনার পর মাঝে কয়েকদিনের গ্যাপ কারণ বৃহস্পতিবার ছাড়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না সেখানে যাওয়া। এদিকে আকাশে মেঘের ঘনঘটা, মাঝে মধ্যেই ধুম বৃষ্টি। মেঘলা আকাশের রূপ দেখে সোহেলের টেনশনের পারদও বেড়ে যায় বহুগুণ। অবিরাম বৃষ্টি হলে মাছ ভেসে যাবে পাশের ইরি ক্ষেতে। তখন হবে কী উপায়? এই ভেবে সে বেশ অস্থির। আমি তাকে অভয় দেই। কিসমতে যা আছে তাই হবে এই নিয়ে তুমি ভেব না। টেনশন মুক্ত থাক। অপেক্ষার পালা শেষে কাক্সিক্ষত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ছুটলাম চাটারবাগ গ্রামে। যানজট ঠেলেঠুলে রাত গভীরে পৌঁছলাম। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত আর নির্ধারিত পুকুরের পাশে উঁচু এক জমিতে চলল জোর প্রস্তুতি। কেউ তাঁবু গাড়ে কেউ চুলা ধরায় কেউবা আবার বার বি কিউর সরঞ্জাম রেডি করে। পুকুরের পানি সেচার জন্য বিরামহীন শ্যালো মেশিন চলছে। সে এক বিশাল কর্মজজ্ঞ। এই ফাঁকে সোহেল ঢাকি জাল দিয়ে বেশ কিছু মাছ ধরে আনে। লাফানো মাছের করুণ চাহনি শহুরেদের রসনা বিলাসের নিকট হার মানে। এটাই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। নিয়মের কোন ব্যত্যয় নয়। রাত প্রায় সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে মহা সমারোহে ফিস আর বিফ বার বী কিউ। অতঃপর কিছুটা সময় তাঁবুতে গড়াগড়ি। মোয়াজ্জীনের আজানের ধ্বনি ‘ আসসালাতু খায়রুন মিনাননাউম’ যার বাংলা অর্থ ঘুম হতে নামাজ উত্তম। শয়তানের দেয়া ঘুমের চাদর সরিয়ে দে ছুটের বন্ধুরা চলে যাই অযু-এস্তেঞ্জা সারতে। নামাজ শেষে শুরু হয় মাছ ধরা। ততক্ষণে পুকুর প্রায় পানি শূন্য। কোমর পর্যন্ত কাদা পনিতে নেমে ধরতে হবে মাছ। এই শিকার যেনতেন মাছ শিকার নয় একেবারে প্যাঁচপেঁচে কাদায় দেশীয় কৈ, শিং, মাগুর, পুঁটি ও সোল, টেঙরাসহ নানা পদের মাছ। শিং মাছের কাঁটার আঘাত আর সোল মাছের ঝাঁকুনি আহ্ সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বাতাসে ফসলের মাঠে ঢেউ খেলে যায়। চারপাশে সবুজের অবগাহন তার মাঝে মাছ ধরার আনন্দ সত্যিই সে এক ভিন্ন রকম রোমাঞ্চ। ইতোমধ্যে সকালের নাশতার জন্য ভুনা খিচুড়ি রেডি। পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ায় চলে উদর পূর্তি। প্রত্যাশার চাইতেও বেশি মাছ প্রাপ্তির আনন্দে ভ্রমণ বন্ধুরা সবাই মহা খুশি। জুমার তাড়া থাকায়, বেলা প্রায় ১১টায় সমাপ্তি টানি। ভ্রমণ কালীন মাছ ধরা আয়োজনের আনন্দ ফুর্তি সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। যদি শিক্ষণীয় ভাবে নেই তাহলে জেলেদের, কখনও জাউল্লা বলে উপহাস করব না। ভ্রমণের পাশাপাশি এটাই নৈতিক শিক্ষা। ভ্রমণ শুধু নিছক বিনোদনই নয় শিক্ষা লাভেরও এক মহা মাধ্যম।

কোথায় কোথায় মিলবে এ রকম সুযোগ : দেশের প্রত্যেকটি গ্রামেই এ রকম সুযোগ মিলবে যদি পূর্ব পরিচিত কেউ থাকেন। তাদের মাধ্যমে পুকুর/ডোবার মাছ কিনে নিন। এরপর সেঁচ দিয়ে মাছ ধরুন। আপনি/আপনারা যেহেতু শখের বশে ধরবেন সেহেতু সেই গ্রাম থেকেই মাছ ধরার মতো অভিজ্ঞ মানুষ সঙ্গে রাখুন।

কত টাকা নিতে পারে:- পুকুর/ডোবা/জলাশয়ের আয়তন বুঝে মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত পনের হতে পঁচিশ হাজার টাকা নেবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.