সংবাদ শিরোনাম
১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ  » «   চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব রদবদল  » «   কৃষক বাঁচাতে চাল আমদানি বন্ধ হচ্ছে  » «   জঙ্গী-সন্ত্রাস ও মাদকের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আগামী ২৮ মে সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা  » «   যৌনহয়রানি রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘অভিযোগ বক্স’ বসানোর নির্দেশ  » «   চুরি করে অন্য দেশের অধিবাসী,দায় পরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ঘাড়ে  » «   মেয়েকে বাঁচাতে দিনমজুর বাবার আবেদন  » «   প্রথম সন্তানের জন্ম দিলেই মায়েরা পাবেন নগদ টাকা  » «   মানুষের চোখে ৫৭৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা শক্তি!  » «   মৃত্যুর কথা আগাম টের পান যে তরুণী!  » «   আবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোদি, বুথফেরত জরিপ  » «   পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি দিলেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ  » «   কুলাউড়ায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা,দুই নারীসহ আহত ৩  » «   সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বর থেকে ভূয়া আইনজীবী আটক  » «  

মা জানে আমার ক্ষুধা কতটুকু’

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::সবার মা’র মতো আমার মা ও আমার কাছে পৃথিবীর সেরা মা। মা’র চেয়ে কাউকে বেশি ভালবাসা যায়, মিস করা যায়, এখনো পর্যন্ত তা ভাবতে পারিনা। মাকে এতো ভালবাসি, কিন্তু আজও পর্যন্ত কোনদিন মাকে বলা হয়নি “মা, তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি!’। হয়ত ভালবাসাটা যেখানে গভীর, মুখে বলাটা সেখানে অনাবশ্যক। চক্ষুলজ্জার কারণে বলতে পারিনি এমনটাও হতে পারে।
রাত ১টার বেশি বাজে। ঘুমানোর জন্য বাতি বন্ধ করে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছি। কিন্তু চোখে কোন ঘুম নেই। নেই বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তারও অন্ত।
মা’র কথা খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে মা’র বলা বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন কথা। চোখ বুজে কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গেলাম সোনালি অতীতে।
মাকে নিয়ে ভাবছি। মা’র কথা ভাবতেই এক অজানা সুখে মন আনন্দে ভরে উঠছে।
মা আমার খুব বেশি শিক্ষিত না। সন্তান লালন পালনের আদর্শ পদ্ধতি সম্পর্কেও নয় তত জ্ঞানী বা সচেতন। তারপরেও আমি বলি, আমার মা একজন আদর্শ মা। তিনি আমাদের বেশ ভালভাবেই বেড়ে তুলেছেন।
আমার মা আমার জীবনের প্রথম শিক্ষিকা। মাকে গর্ব করে বলতে শুনেছি, আমাদের তিন ভাইবোনকে ক্লাস ফাইভে উঠার আগে কখনো প্রাইভেট পড়তে হয়নি। সে নিজেই আমাদের পড়িয়েছে। রেজাল্টও আমাদের তুলনামূলক খারাপ হতো না।
একটা ঘটনা মনে পড়লো। তখন ক্লাস টু তে পড়ি। বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার হলে কিছুক্ষণ লিখে আর কিছু পারছিনা। তাই শিক্ষকের চোখ ফাকি দিয়ে খাতা নিয়ে চলে এলাম বাড়ি। মা দেখে বললো, তোর না পরীক্ষা চলছে, বাড়ি কেন? আমি বললাম, কিছু লিখতে পারছিনা তাই চলে এলাম। যাইহোক, মা কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর বলে লিখিয়ে দিলো, আর বললো, এভাবে বাড়ি চলে আসতে নেই। আমি খাতা নিয়ে আবার পরীক্ষা হলে ফিরে গেলাম।
মা আমাদের পড়ালেখার ব্যাপারে ছিলেন বেশ যত্নশীল। সব বিষয়ের পড়া মুখস্থ না করে রাতে ঘুমাতে দিতেন না। যদিও আমাদের মারতেন কম তবুও আমাদের শাসনের জন্য তাঁর ছিল একটি কঞ্চির লাঠি।
যখন একটু বড় হলাম, SSC, HSC পরীক্ষার সময়, তখন নিজের পড়া নিজেই বুঝে পড়তাম। পড়া শেষ না করে রাতে ঘুমোতে চাইতাম না। কিন্তু বই পড়তে গেলে রাত ১১টা বাজার আগেই চোখে ঘুম জেঁকে ধরত। বেডে বসে পড়ার অভ্যাস ছিল। মা চেয়ার টেবিলে বসে পড়তে বলতেন। চেয়ারে বসেও খুব একটা কাজ হতো না। কতদিন যে চেয়ারে বসে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছি তার ইয়াত্তা নেই। চেয়ার আর বিছানা প্রায় সমতল হওয়ায় চেয়ারে বসে বিছানায় পিঠ লাগিয়েও অনেক ঘুমিয়েছি! লাইট বন্ধ না করে, মশারি না টানিয়ে ঘুমানোয় মা অনেক বেশি বেশিও বলতেন।
আমার ঘুম খুব গাঢ়। একবার ঘুমিয়ে গেলে আর সহজে উঠতাম না। মা নিজেই এসে মশারি টানিয়ে দিতো আর বলতো, এরপর যদি কোনদিন বাইরে থেকে পড়তে হয় তখন কে তোকে মশারি টানিয়ে দিবে?
ঘুমানোর নিয়তে বিছানায় গেলে একঘন্টার মধ্যে আমার ঘুম আসেনা! তাই মাকে বলতাম আমি মশারি লাগিয়ে ভিতরে বসে পড়বো, পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেলে তুমি এসে লাইট বন্ধ করে দিয়ে যাবে! মা তাই করতো। যত রাত হোকনা কেন আমি ঘুমানোর আগে মা সাধারণত ঘুমাতো না।
খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারেও মা ছিলেন বেশ সচেতন। যখন পড়ার খুব চাপ থাকতো তখন মা কিছুক্ষণ পর পর আপেল আঙুর বা দুধ দিয়ে যেতেন। সকালে ও সন্ধ্যায় আধা সিদ্ধ ডিম খেতে দিতেন। পরীক্ষার দিন সকালে খাবার হিসেবে রাখতেন ভেন্ডি ভাজি এবং ছোট মুরগির মাংস বা জিতা মাছের তরকারি।
আম্মুর সব ধরণের রান্না-ই অনেক সুন্দর। তারপরেও আমি যা খেতে বেশি পছন্দ করি তাই রান্না করতেন। আমি সাধারণত সব ধরণের খাবারই খাই, তাই মা মজা করে অন্যদের বলতেন- আমার সোহেল সব খায়, ওর শাশুড়ির খুব ভাল হবে, জামাই কি খায় না খায় তা নিয়ে টেনশন করা লাগবে না।
আমি কোন বেলায় কি পরিমান খাবার খাবো তা আমার থেকে আমার মা-ই ভাল জানেন। আমি খাওয়ার ভিতর ভাত দিতে নিষেধ করলেও মা দিতো আর বলত, পেট তোর হতে পারে কিন্তু কতটুকু ক্ষুধা আছে তা জানি আমি! সত্যিই মা যেটুকু খাবার দিতো তা খেতে আমার কখনো কষ্ট হত না।
আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা অন্তরে আশাবাদী হলেও বাইরে খুব হতাশা প্রকাশ করেন। দেখেছি মা-ই তাকে আশ্বস্ত করেন। মা বলেন, তুমি টেনশন করোনা তো, আল্লাহ রুযির ব্যবস্থা নিশ্চয় একটা করবে।
আমাকে মা বলে, আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করলাম, লেখাপড়া শিখালাম, এখন তোমার ভবিষ্যৎ তুমিই গুছিয়ে নেও। তুমি বাবা ইনকাম করে তুমি চলতে পারলেই হবে, আমাদের আপাতত কিছু না দিলেও চলবে।
সেই ছোটবেলা থেকে ছোট বড় সব প্রয়োজনের কথা মাকেই বলি। এখনো পর্যন্ত বাড়ি থেকে যখন টাকা আনার প্রয়োজন হয় তখন তা মাকে বলি। যদিও আর্থিক বিষয়গুলো বাবাই পূরণ করে তবুও আব্বুর কাছে কখনো দাবি দাওয়ার কথা বলা হয়না। আমার চাওয়া পাওয়া নিয়ে মাকে অনেক সময় অনেক বেশি কথাও শুনতে হয়েছে। তারপরেও সে কখনো না করেনি। সত্যিই মা অনেক ত্যাগী।
মেয়েরা নাকি বাবাকে এবং ছেলেরা মাকে বেশি ভালবাসে। হয়তো কথাটা কিছুটা সত্য, তবে মাকে সবাইই অনেক বেশি ভালবাসে। কারো ত্যাগ মায়ের ত্যাগের সমতুল্য নয়। মায়ের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মা মানেই ভালবাসা। মা-বাবার দোয়া-ই আমাদের পথচলার পাথেয়। আমার সহ সবার মা বাবা যেন ভাল থাকুক সুস্থ থাকুক, আল্লাহ তাদের নেক হায়াত দান করুক সেই প্রত্যাশা।
আল-আমিন মোড়ল সোহেল
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.