সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশে মুসলিমরা নির্যাতিত হিন্দুদের আশ্রয় দেয় : তসলিমা নাসরিন  » «   আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী  » «   দিনের অনশনে অসুস্থ ৫১ শিক্ষার্থী  » «   বিদ্যুতের বাড়তি দাম মেনে নিতে বললেন ওবায়দুল কাদের  » «   বিয়ে করেই শাস্তির মুখে সৌম্য সরকার  » «   ভিডিও দেখতে চাপ, পর্নোগ্রাফিতে স্ত্রী’কেই দেখে তাজ্জ্বব স্বামী  » «   ওসমানীনগরে অগ্নিকাণ্ডে দুই লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাঁই  » «   দিল্লিতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ  » «   স্পেনের চার শহরে করোনাভাইরাস: বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের নির্দেশনা  » «   মোদীকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবেনা:সিলেটে জমিয়তের নেতৃবৃন্দ  » «   সিলেটে বাংলাবিদ ২০২০ বাছাইপর্বে পনেরশো ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণ  » «   দিল্লি সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩৮  » «   বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যেসব যুক্তি দিল এনার্জি কমিশন  » «   মুজিববর্ষে বাংলার মাটিতে মোদিকে দেখতে চায় না মানুষ : আল্লামা শফী  » «   আরেক দফা বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, ঘোষণা বিকালে  » «  

‘সালমানের সঙ্গে আমার শেষ কথা ছিল, নাকে তেল দিয়ে ঘুমান’

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::আমি জাকির হোসেন রাজু’ সালমান শাহ্’র যে কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজে! এবং যে স্মৃতিগুলো এখনো আমার চোখে ভাসে। রোমান্টিক চরিত্রে সালমানের বিকল্প ছিল না, এখনও গড়ে ওঠেনি। রাজ্জাক ভাইয়ের পরে এ দেশের চলচ্চিত্রে একমাত্র সালমানই অভিনয়ে স্বকীয় ধরন তৈরি করতে পেরেছিল। দর্শকদের হলমুখো করতে সমর্থ হয়েছিল সে। আবার কবে, কতদিন পরে যে সালমানের মতো অভিনেতা আসবে, আমরা পাবো-সন্দেহ আছে।
সালমানকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজে পরামর্শ দিতো। তবুও আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থকতাম। তখন সে রাগ করতো, অভিমান করতো। আমি তো কেবল (জীবন সংসার) পরিচালক হলাম। অনেক বড় বড় পরিচালক ওর কথা শুনতো, শুনতে বাধ্য হতো। পরে আমার ছবির রাশ দেখে, ডাবিং শেষে আমাকে বলতো, ‘রাজু ভাই, আপনি ভালো পরিচালক হবেন।’
প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ ছেলে ছিল সালমান শাহ্, বাহির থেকে সেটা বোঝাই যেত না। ‘জীবন সংসার’-এর ১৫ নম্বর রিলে শাবনূরের বিষ খাওয়ার একটা সিকোয়েন্স আছে। শুটিং করার সময় সালমান শাহ্-শাবনূর দু’জনেই দরদ দিয়ে, অনেক আন্তরিকতার সাথে অভিনয় করে। ওদের অভিনয়শৈলী গোটা এফডিসিতে সে সময় আলোড়ন তুলেছিল। খুবই ভালো করেছিল সালমান, শাবনূরও। তাদের আগ্রহ ছিল পুরো সিকোয়েন্সটা স্ক্রিনে দেখবে, ডাবিং করার সময় খণ্ড খণ্ড দেখে ওদের মন ভরেনি। এই সিকোয়েন্সটা দেখার জন্যে সালমান ল্যাবে এসে অনেকক্ষণ বসেছিল। তখনো ১৫ নাম্বার রিলটি প্রিন্ট হয়নি, বসে আছে তো আছেই ও আর ল্যাব ছেড়ে যায় না!
প্রিন্টিং ও ডেভেলপে সালমান নিজে গিয়ে ওদের বলেছিল-ভাই এই রিলটা আগে করেদিন। প্রজেকশন রুমে শুয়ে শুয়ে ও পুরো রিলটা দেখে। শেষ হওয়ার সাথে সাথে এসে আমাকে জাপটে ধরে রাখে। কথা নেই, বার্তা নেই। সে কি বলতে চাইলো সে জানে, আমি কি বুঝলাম আমি নিজেও জানি না! এরপর ল্যাব ছেড়ে সে সোজা বেরিয়ে যায়।
মৃত্যুর একদিন আগে শিবলি ভাইয়ের (শিবলি সাদিক) ছবির শ্যুটিংয়ে ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ও গাড়ির উপর বসে শট দিচ্ছিল, আমি শুটিং স্পটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমাকে দেখতে পেয়ে গাড়ির ওপর বসেই শিবলি ভাইকে বলছিল, জিনিস ছোট হলেই খারাপ হয় না। শিবলি ভাই প্রথমে বুঝতে পারেনি।
কাছে গেলে শিবলি ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, সালমান ঠিকই বলেছে। তার প্রমাণ আমি সেন্সর বোর্ডে পেয়েছি। ওখানে আমার ছবির সেন্সর প্রিন্ট করাতে গেলে ওরা আমাকে বলেছিল-অনেক দিন পরে ভালো একটা ছবি (জীবন সংসার) দেখলাম। সালমানকে নিয়ে আমার আরেকটি ছবি করার পরিকল্পনা করছিলাম ‘জীবন  সংসার’-এর কাজ শেষ করার পরেই।
সালমান তা জানতে পেরে আমাকে বলেছিল-‘আমাকে নিয়ে কাজ করার জন্যে অনেক পরিচালক, প্রযোজক ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিডিউল দিতে পারছিনা। অনেকে হয়তো ছয় মাস ঘুরেও পাবেনা, কিন্তু আপনি ঘরে বসে পেয়ে যাবেন। আমার শিডিউল আপনাকে ভূতে জোগাড় করে দিবে। আপনি যেদিন নতুন ছবি পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন সেদিনই আমার কাছে চলে আসবেন। এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমান’। ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমান’ সালমান শাহ্’র এই কথাটি রাতে এখনো আমার কানে বাজে। যখন ওর কথা মনে পড়ে ভীষণ খারাপ লাগে।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওর কত স্মৃতি, মনে পড়ে ১৫ নাম্বার সিকোয়েন্সটা দেখার পরে আমাকে জাপটে ধরার কথা। আমি জাকির হোসেন রাজু ‘সালমান শাহ্’র হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’
‘জীবন সংসার’ চলচ্চিত্র খ্যাত পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ২০১৭ সালের এই দিনের ফেসবুকের পোষ্ট থেকে সংগৃহীত

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.