সংবাদ শিরোনাম
মাহমুদুলের সহকারী থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি   » «   তামাবিল স্থলবন্দরে কাষ্টমস এসির সাথে ব্যবসায়ী নেতাদের সভা  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে এক পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন  করোনা আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১৭  » «   চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বন্দরবাজারের এক ব্যবসায়ী  » «   মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৩  » «   শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু  » «   সিলেটে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা : একদিনে আক্রান্ত ৮৬, মৃত্যু ৩  » «   ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু,এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২  » «   বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ মোশনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ  » «   গোয়াইনঘাটে এক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ৯  » «   বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে ও পুলিশে সংস্কারের আহ্বান ওবামার  » «   কিছু মানুষ আছে যারা কখনোই করোনায় আক্রান্ত হবেন না!  » «   করোনা পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে গর্ভবতীদের: এখন গর্ভধারণ না করার পরামর্শ  » «   উষ্ণতায় বেড়েছে বজ্রপাত সিলেট সহ সারাদেশে এক দিনেই নিহত ১২  » «   ব্যাংকে টাকা জমার খরচ বাড়ছে  » «  

মোদিকে ‘বিভাজক গুরু’ আখ্যা দিল টাইম ম্যাগাজিনের নিবন্ধ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::বিরোধীরা একজোট হলেও দ্বিতীয় বার নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় আসা আটকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আগেই সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। নির্বাচনের মধ্যে এ বার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও একই অভিযোগ উঠল। গত পাঁচ বছর ধরে ভারতে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে মোদিকে সরাসরি ‘বিভাজক গুরু’ (ডিভাইডার ইন চিফ) বলে উল্লেখ করেছে তারা।
ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ২০ মে’র সংখ্যায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন। তার প্রচ্ছদে নরেন্দ্র মোদিকে ‘বিভাজক গুরু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকবার মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
তুরস্ক, ব্রাজিল, ব্রিটেন এবং আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলির মতো যত দিন যাচ্ছে ভারতেও জনমোহিনী রাজনীতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করেছেন সাংবাদিক আতিশ তাসির। তিনি লেখেন, ‘বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে ভারতই প্রথম জনমোহিনী রাজনীতির ফাঁদে পা দেয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনে ভারতের বুনিয়াদি শর্ত, দেশ গঠনের কারিগর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্পোরেট দুনিয়া এবং সংবাদমাধ্যম- সব ক্ষেত্রেই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
নরেন্দ্র মোদির আমলে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক। তার কথায়, ‘মোদির শাসনে সব শ্রেণির সংখ্যালঘু মানুষ, সে উদারপন্থী হোক বা নিম্নবর্গের মুসলিম অথবা খ্রিস্টান, সকলকেই হিংসার শিকার হতে হয়েছে।’
‘অচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, গত পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদি কিছুই করে দেখাতে পারেননি বলে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে ক্ষোভ ছাড়ছেন বিরোধীরা। তা নিয়েও মোদি সরকারের সমালোচনা করেছে টাইম। তাদের দাবি, ‘যে অলৌকিক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোদী ক্ষমতায় এসেছিলেন, তা পূরণ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতে বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের পরিবেশ তৈরিতেও সাহায্য করেছেন তিনি।’
বিরোধীরা একজোট হলেও দ্বিতীয় বার নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসা আটকানো যাবে না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু মোদি ক্ষমতায় এলেও ২০১৪-র সেই ‘ম্যাজিক’ তার পক্ষে তৈরি করা সম্ভব নয় বলে মত ওই সাংবাদিকের। তিনি লিখেছেন, ‘২০১৪-র নির্বাচনে মসিহা হিসাবে উঠে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। মানুষকে অগণিত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আশা জাগিয়েছিলেন মানুষের মনে। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু মসিহা থেকে এখন তিনি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ সাধারণ রাজনীতিকে পরিণত হয়েছেন, যিনি ফের ক্ষমতায় আসতে মরিয়া।’
বিজেপি বিরোধীদেরও তীব্র সমালোচনা করে ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘মোদির ভাগ্য ভাল যে বিরোধী পক্ষ দুর্বল। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট একেবারেই সুশৃঙ্খল নয়। মোদীকে পরাজিত করতে তেমন নির্দিষ্ট নির্বাচনি ইস্যুও নেই তাদের হাতে।’
২০১৪-য় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরের বছর টাইম পত্রিকার প্রচ্ছদে জায়গা পেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১২-য় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও একবার তাকে নিয়ে প্রচ্ছদ ছাপা হয়েছিল। কিন্তু সরাসরি এমন আক্রমণ এই প্রথম।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.