সংবাদ শিরোনাম
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওরফে পাথর শামীম রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ:একাধিক মামলা  » «   শিক্ষকের যৌন লালসার শিকার ছাত্রীরা..এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল  » «   সুনামগঞ্জে বন্যা:পানিবন্দি কয়েক লাখো মানুষ  » «   জগন্নাথপুরে বেড়েই চলছে বন্যার পানি পরিস্থিতি অবনতি  » «   গোয়াইনঘাটে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  » «   সিলেটে বন্যা:নগরীর উপশহরসহ অনেক এলাকা বাসাবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত  » «   সূচকে আরো দুই ধাপ পেছালো বাংলাদেশি পাসপোর্টের মান  » «   সিলেটে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে  » «   ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বললেন রাহুল গান্ধী  » «   অবশেষে মাস্ক পরলেন ট্রাম্প  » «   অবৈধ ভারতীয় বিড়ি নিয়ে সমঝোতা বিড়িসহ ইউপি সদস্য আটক  » «   সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিশুর মৃত্যু  » «   সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শনির হাওর থেকে এক নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  » «   জগন্নাথপুরে আরো ২জন মহিলা করোনায় পজেটিভ, মোট আক্রান্ত ৯৮: সুস্থ ৮৩  » «   জগন্নাথপুর ২য় দফা বন্যা,পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষ  » «  

মাশরাফিকে নিয়ে চিকিৎসকদের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেছেন, নড়াইলের এমপি ও বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় অবস্থিত জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।’

সংসদ সদস্য মাশরাফি গত ২৫ এপ্রিল আকস্মিকভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাজিরা খাতায় তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে তিনি দু’জন চিকিৎসককে ফোন করে কথা বলেন।

ওই কথোপকথনে মাশরাফির বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক চিকিৎসক ফেসবুকে মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে ফেসবুকে কটূক্তি করা ছয় চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সে প্রসঙ্গ টেনে মুরাদ হাসান বলেন, ‘মাশরাফিকে এদেশের মানুষ হিরো, একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধা বলে মনে করে। শুধু একজন ভালো ক্রিকেটার হিসেবে না, মাশরাফির ভেতরে যে চেতনা, সাতবার অস্ত্রোপচারের পরেও সে যেভাবে অসম্ভব শারীরিক কষ্ট সহ্য করে খেলে, তা বিরল।’

তিনি বলেন, ‘এই যে ধৈর্য, সহ্য, দেশপ্রেম- সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফি। প্রধানমন্ত্রী নড়াইল থেকে তাকে মনোনয়ন দেন। নড়াইলবাসী বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। দেশের যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালেও মাশরাফি নির্বাচিত হতেন।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের সভাপতি থাকেন সংসদ সদস্য। এলাকার হাসপাতালে সমস্যা থাকলে সেটা দেখভালের দায়িত্বও তার।’

তিনি বলেন, ‘উনি সভাপতি হিসেবে গিয়েছেন, রোগীদের কষ্টের কথা শুনেছেন। ডাক্তার সাহেবদের ওই মুহূর্তে পান নাই। যাকে পান নাই নম্বর নিয়েছেন, কথা বলেছেন। কিছু কথার মধ্যে হয়তো একটু ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে, হতে পারে। কিন্তু, অতি উৎসাহীরা ওই ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন, এটি কোনোভাবেই কাঙ্খিত ছিল না।’

মুরাদ হাসান বলেন, ‘ডাক্তার সাহেবরা এ বিষয় নিয়ে তাকে (মাশরাফি) খুব বেশি রকম আক্রমণ করা, এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শুধু একজন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় না, সংসদ সদস্যও বটে। সংবিধানে তার মর্যাদা অনেক।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। মানুষের সেবা করা আমাদের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। হ্যাঁ, মাশরাফি ভাই বলেছেন আমাকে ওইভাবে বলতে হবে কেন?’

‘মাশরাফির সঙ্গে তো আমাদের ডাক্তারদের কোনো ঝগড়া নাই, বিবাদ নাই। মাশরাফির মতো মানুষ যদি একটা কথা বলেই ফেলে, যদি আমার কাছে ঠিক মনে নাও হয়। আমি কোনোদিনই ওইভাবে এটার প্রতিবাদ করতাম না।’

ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমরা সেবা করব মানুষের। সেবা করতে গিয়ে যদি আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করি, অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলি- এটা  কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটার জন্য তাদের শোকজ করা হয়েছে। সমাধান আমরা বের করব। তাদের সতর্ক হতে হবে, সংশোধন হতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে তিনি বলেন, ‘জরুরি বিভাগে ২টা পর্যন্ত ডাক্তাররা বেশি থাকেন। এরপর ডাক্তারদের সংখ্যা কমে যায়। সারা দেশের সকল হাসপাতালে সকাল ৮টা-৯টা থেকে সকল ডাক্তাররা দুইটা-আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। এরপর শিফটিং। এটা অনেকেই বোঝেন না। প্রত্যেক ডাক্তার যদি ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেন তাহলে তো তার পক্ষে  বেঁচে থাকা সম্ভব না।’

মুরাদ হাসান দেশে যে ডাক্তারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম, তা তিনিও স্বীকার করেন। ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতারে যতজন ডাক্তার থাকা উচিৎ, বর্তমানে তা নেই।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে চমেক হাসপাতালের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ, চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.