সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুরে হাওর থেকে এক অঞ্জাতনামা ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ১ ব্যক্তি: মোট ১০, সুস্থ ৬, আইসোলেশনে ৪  » «   দোয়ারাবাজারে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০  » «   সিলেটে দক্ষিণ সুরমায় দু’দল বাস শ্রমিকের মধ্যে দেড় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ  » «   করোন:এক দিনে ৯৩ জন আক্রান্ত সিলেট বিভাগে:মোট ১০৪০ জন  » «   ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে নিহত ৩৬: এ মামলার প্রধান আসামি রফিকুল গ্রেফতার  » «   সিলেট থেকে বাস চলাচল শুরু  » «   ছাতকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু  » «   সুনামগঞ্জে চেয়ারম্যানের অপসারনের দাবীতে অভিযোগ দায়ের  » «   সুনামগঞ্জে র‍্যাব ক্যাম্পের ১৬ জন সদস্যসহ মোট ২১ জন করোনায় আক্রান্ত  » «   জগন্নাথপুরে মানসিক রোগী দীর্ঘ এক বছর পর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফিরে পেল পরিবার  » «   রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১৯-২০ বছরের উন্মুক্ত বাজেট পেশ  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরেক জন  » «   জগন্নাথপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরিমানা আদায়  » «   গোয়াইনঘাটে এসএসসিতে পাশের হার ৭৯.২৭ জিপিএ ৪৫ জন  » «  

ইউপি মেম্বরের নেতৃত্বে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক ইউপি মেম্বরের নেতৃত্বে স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। এরপর ওই দিনই অভিযান চালিয়ে উপজেলার ১২ নং ভানী ইউনিয়নের ৩নং সূর্য্যপুর ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ নবীরুল মেম্বার (৩৯) এবং মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মোঃ বাবুল খানের পুত্র মোঃ শহিদ খান পাখীকে (৩২) গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের শনিবার (১১ মে) দুপুরে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হয়।
কুমিল্লা ৪নং বিচারিক আমলী আদালতের জেষ্ঠ্য বিচারক রোকেয়া বেগম’র আদালতে অভিযুক্তরা ধর্ষণের সত্যতা ও দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বিচারক তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, ১৮ জানুয়ারি দুপুরে স্বামীকে নিয়ে ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুরের রাস্তা দিয়ে স্বামীর বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার প্রান্তি গ্রামে যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী তরুণী। পথে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে শামিম, আকাশ, পাখিসহ অজ্ঞাত আরও ৮-৯ জন তাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে তরুণীর স্বামীর পরিচয় জানতে চায় তারা।
তারা দুইজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে ইউপি সদস্য নবীরুল তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চায়। পরে তরুণীর স্বামী বিয়ের কাগজপত্র দেখালে ইউপি সদস্য কাগজপত্র ভুয়া আখ্যায়িত করে বলে এসব কাগজপত্রে হবে না।
পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নবীরুলের সঙ্গে থাকা আকাশ নামে এক যুবক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা দিলে তা সমাধান করে দেবে বলে প্রস্তাব করে। পরে ওই তরুণীর স্বামী টাকার ব্যবস্থা করার জন্য স্ত্রীকে ইউপি সদস্য নবীরুলের হেফাজতে রেখে চলে যান।
ওইদিন সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসেন তরুণীর স্বামী। ২০ হাজার টাকা নেয়ার পর স্ত্রীকে রেখে স্বামীকে নিজের বাড়ি প্রান্তি গ্রামে চলে যেতে বলেন ওই ইউপি সদস্য। তার হেফাজতে রেখে ওই তরুণীর বাড়ি কুমিল্লার ছোটরায় এলাকায় পৌঁছে দেবে বলেও জানায় ইউপি সদস্য। পরে স্বামী প্রাণভয়ে তার নিজের বাড়ি চলে গেলে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম শামিম, পাখি, আকাশসহ আরও কিছু অজ্ঞাত যুবকের হাতে ওই তরুণীকে তুলে দেয়। তারা তরুণীকে ওই রাতেই বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ভানী ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়।
পরে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আকাশ। ফোনে তরুণীসহ তাদের অবস্থানের জায়গার নাম জানানো হয় ইউপি সদস্য নবীরুলকে। পরে ইউপি সদস্য নবীরুল জঙ্গলে এসে ওই তরুণীকে দুইবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ইউপি সদস্য নবীরুল ভুক্তভোগী তরুণীকে পাখি, আকাশ ও শামীমদের হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে ৭/৮ জন যুবক ওই তরুণীকে পুনরায় পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে ওই তরুণীকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, মেম্বারসহ মোট ৯ জন ধর্ষণে জড়িত। আমি তাদের একে অপরকে ডাকতে শুনে ২/৩ জনের নাম জানতে পেরেছি। বাকিদের নাম বলতে পারবো না। আমি চিৎকার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা আমার হাত-মুখ চেপে ধরে রেখেছিল। এর আগে আমার স্বামীর অনুপস্থিতেতে আমার হাতে কনডম দিয়ে আমাকে খারাপ মেয়ে বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়।
এ ব্যাপারে ভানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান মুকুল বলেন, এ ঘটনা প্রায় ৪ মাস পর জানতে পারলাম। নিশ্চয়ই এখানে কোনো চক্রান্ত লুকিয়ে আছে। ওই তরুণী এতদিন কেন কালক্ষেপণ করলেন? সত্যিকারে যদি এ কাজে জড়িতের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।
দেবীদ্বার থানা পুলিশের ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ইউপি সদস্য নবীরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন,  ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার নবীরুল ও শহীদ খানকে আটক করে আদালতে হাজির করলে ধর্ষনের দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.