সংবাদ শিরোনাম
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ  » «   জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা-মামলা  » «   অর্থমন্ত্রী বাসায় ফিরেছেন  » «   শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান হলেন রশিদ তালুকদার  » «   জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ইউসুফ আল আজাদ বিজয়ী  » «   জুড়ীতে বাসের চাপায় ফল ব্যবসায়ী নিহত  » «   বিয়ানীবাজারে ইভটিজিংয়ের দায়ে তরুণের কারাদন্ড  » «   রাজনগরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি  » «   বিরোধীদলগুলোকে সংসদে সমান সুযোগের প্রতিশ্রুতি মোদির  » «   পানির নিচে খাঁচার ভিতর প্রাণ গেল জাদুকরের  » «   তীব্র দাবদাহে বিহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৪  » «   চীনে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২  » «   গোপনেই দাফন করা হল মুরসিকে  » «   ‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে’  » «   নওগাঁয় মাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১  » «  

গচ্চা সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::এসএসসি-সমমানে কাঙ্ক্ষিত পাস নেই ২ সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানে * শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে -সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ

চলতি বছর ২ হাজার ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর অর্ধেকই ফেল করেছে। এবার সবমিলে পৌনে ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে।

ফেল করা শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের কারণে সর্বমোট গচ্চা গেছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের পেছনে কেবল এমপিও হিসেবে সরকারি বিনিয়োগ আছে অন্তত ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। বাকিটা ফেল করা শিক্ষার্থীর পেছনে দু’বছরে অভিভাবকদের লেখাপড়াসহ অন্যান্য ব্যয়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি এমপিওভুক্ত সাধারণ ও ভোকেশনাল স্কুল থেকে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ পাস করতে হবে।

একটি মাদ্রাসায় অন্তত ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে হবে। নইলে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওর (শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের সরকারি অংশ) জন্য বিবেচিত হবে না। কিন্তু উল্লিখিত ২ হাজার ৬১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করেনি। ১ হাজার ৭৫১টি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ১৪৩ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং ৬০টি প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ।

কম পাস ও ফেল করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই বিভাগের সচিব মো. আলমগীর শনিবার বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান দু’বছর ধরে লেখাপড়া করিয়েও সন্তোষজনক হারে শিক্ষার্থী পাস করাতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রথমে শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে এমপিওভুক্ত শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও স্থগিত করা হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয় কিন্তু স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, সেগুলোর স্বীকৃতি বাতিল হবে। গত বছরও আমরা একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

এ বছর এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ২৮ হাজার ৬৭৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত।

যে ২ হাজার ৬১ প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, সেগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯৫০টিই এমপিওভুক্ত। এগুলোর পেছনেই দু’বছরে ১ হাজার ৭৮১ কোটি ২২ লাখ টাকা এমপিও হিসেবে সরকার ব্যয় করেছে।

আর এবার ফেল করা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫০ শিক্ষার্থীর পেছনে প্রতিমাসে একজন অভিভাবকের গড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। দু’বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পেছনে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি বা পাসের হার কাক্সিক্ষত নয়, সেগুলোয় ছাত্রছাত্রী সংখ্যাও খুবই কম। অথচ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, একটি শহরের দাখিল মাদ্রাসা থেকে ন্যূনতম ৩০ জন এবং মফস্বলে ২০ জন থাকতে হবে। এ বছর সব পরীক্ষার্থী ফেল করা মাদ্রাসাগুলোর একটি গাজীপুরের শ্রীপুরের মারিচর চালা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১২ শিক্ষার্থী।

পটুয়াখালীর দশমিনায় আছে পূর্ব আলীপুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন। রংপুর সদরের মমিনপুর হাট দাখিল মাদ্রাসা থেকে চারজন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের সালটি মুরাদপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন, যশোরের কেশবপুরের মির্জাপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১২ জন অংশ নেয়। জানা গেছে, এভাবে শতভাগ ফেল কিংবা কম পাস নন-এমপিও কিন্তু বোর্ডের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই দশা।

জানা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাসে ব্যর্থ ১০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৩টি এমপিওভুক্ত নয়। এগুলো কেবল বোর্ড থেকে স্বীকৃতি নিয়ে পরিচালনা করছে।

এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। বাকি ১৪টি এমপিওভুক্ত, যা স্থগিত করা হবে। তবে ব্যবস্থা নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হবে।

অপরদিকে উল্লিখিত ২ সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭৯টি স্কুলের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এর মধ্যে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশই ফেল। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০০টির শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে এমপিও পাচ্ছে।

এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানে সরকার প্রতি বছর এমপিও হিসেবে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। সেই হিসাবে দু’বছরে ৭০০ প্রতিষ্ঠানের পেছনে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ৬৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এই গোটা অর্থই সরকারের গচ্চা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ৭৭৯টি স্কুলের মধ্যে ঢাকা বোর্ডের সর্বাধিক ৩৭৩টি। এ ব্যাপারে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, দু’বছর পড়ানোর পরও মোট ছাত্রছাত্রীর অর্ধেকও পাস করাতে পারবে না, তা মেনে নেয়া যায় না।

প্রথমত, এ ধরনের ফল কেন হল, তার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শাতে বলা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে এমপিও সংক্রান্ত ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) সুপারিশ করা হবে।

ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে আছে মাদ্রাসা। ১০৭টির মধ্যে ৫৯টিই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অবশ্য ৯টি এমপিওভুক্ত। অপরদিকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ শতাংশ ফেল করেছে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও মাদ্রাসা শীর্ষে, ৮২২টি।

আবার উল্লিখিত সংখ্যার মধ্যে ৮৭টি মাদ্রাসায় পাসের হার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, একটি দাখিল মাদ্রাসায় সরকারের বার্ষিক ব্যয় ৫৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

সেই হিসাবে কাঙ্ক্ষিত হারে পাসে ব্যর্থ এমপিওভুক্ত ৭৫০ মাদ্রাসার পেছনে সরকার দু’বছরে ব্যয় করেছে ৭৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দু’বছর ধরে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরও পাস করতে ব্যর্থতার কারণে সরকারি এই ব্যয়ের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্ল্যা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করায় না এবং পাস করাতে পারে না, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

বিশেষ করে নামে মাদ্রাসা, কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, আউটপুট (ফলাফল) নেই- সেগুলোর ব্যাপারে অতীতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ বছরও নীতিমালা ও বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এমপিও বন্ধের কাজটি মন্ত্রণালয় করে থাকে। আমরা পর্যালোচনা শেষে সুপারিশ পাঠাব।

একজন শিক্ষার্থীও পাস করাতে পারেনি- এ ধরনের ১০৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ের স্কুল আছে ৪৩টি। আর পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ শতাংশই ফেল করেছে- এমন ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান ৪৬০টি। জানা গেছে, এগুলোর বেশির ভাগই সাধারণ হাইস্কুল সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত স্কুল শাখার সঙ্গে তারা ভোকেশনাল খুলেছিল। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৪শ’ এমপিওভুক্ত বলে জানা গেছে।

এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে সরকারের তিন ধরনের ব্যয় আছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ভোকেশনাল স্কুলের পেছনে বছরে ব্যয় ৪৪ লাখ ৬ হাজার টাকা। সংযুক্ত স্কুলে ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার আর মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখার পেছনে ব্যয় হয় ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

গড়ে ৪০০ প্রতিষ্ঠানের পেছনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ৩৫২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোরাদ হোসেন মোল্লা এ ব্যাপারে বলেন, ফল পর্যালোচনার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরকে চিঠি পাঠানো হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.