সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর থেকে নিখোঁজ এক যুবকের লাশ উদ্ধার  » «   জগন্নাথপুরে হাওর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার  » «   জগন্নাথপুরে আরো ১জন স্বাস্থ্যকর্মী সহ ২জন করোনায় আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ৯১  » «   সুনামগঞ্জে একদল তরুণদের উদ্যোগে মানসিক ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে খাবার বিতরণ জেলা প্রশাসকের    » «   কানাইঘাটে নিখোজের ১৪ দিন পর জামাল উদ্ধার  » «   এম. এ. হক যে কোন দুর্যোগ মুহুর্তে জাতির সেবায় নিয়োজিত ছিলেন: এড. আব্দুর রকিব  » «   এম এ হকের প্রথম জানাযা সম্পন্ন  » «   এম. এ. হকের মৃত্যুতে সিলেট মহানগর যুবলীগের শোক  » «   এম. এ. হকের মৃত্যুতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের শোক  » «   এম. এ. হকের মৃত্যুতে সিলেট মহানগর বিএনপির শোক  » «   এম এ হকের মৃত্যুতে মিজান চৌধুরীর শোক  » «   মারা গেলেন সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ হক  » «   সমালোচনার মুখে ফেয়ার এন্ড লাভলীর নাম পরিবর্তন করা হলো  » «   ফিরলো কফি হাউসের সেই আড্ডা  » «   করোনা:বাসা ভাড়া না দেওয়াতে ১৩৮ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট, ল্যাপটপ, ট্রাঙ্ক ডাস্টবিনে  » «  

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ‘যক্ষা রোগী’ ভাইরাল !

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রদেশ পেরাকের রাজধানী ইপোতে সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় এক বাংলাদেশী টিবি আক্রান্তের কথিত পলায়ন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তা এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে,  স্টেট হেলথ কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সিভিল সোসাইটি ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন এন্ড হিউম্যান রিসোর্স কমিটিকে রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে হয়েছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে।

রাজধানী ইপোতে গত ২৩ মে ওই কমিটির চেয়ারম্যান মি. শ্রীনিবাসন বলেন, এটি ফেইক নিউজ। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বলা হয়, একজন বাংলাদেশী শ্রমিক অত্যন্ত ছোঁয়াচে ক্রনিক টিউবারকিউলোসিস (যক্ষা) রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। খবর রটে যে, চিকিৎসাধীন থাকা বাংলাদেশী মো. জয়াল (জয়নাল) হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। আমরা তদন্ত করে দেখেছি যে, এ খবরটি ভুয়া।
এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর শ্রীনিবাসন আরো ঘোষণা করেন,  হাসপাতালগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ওই নামে কোন বাংলাদেশী রোগী ভর্তি ছিল না। স্টেট সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে এই খবর আতঙ্ক ছড়ায় যে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বলেছে, বাংলাদেশী শ্রমিক মোঃ জয়াল সহজে অত্যন্ত সংক্রমণ ঘটে এমন এক ধরনের বিরল যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের একজন রোগী তার ওই পলায়ণ প্রত্যক্ষ করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে টিবিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি তার এক বন্ধুর কাছে থাকতে গিয়েছিলেন।

ওই বার্তায় বলা হয়, হাসপাতালের স্টাফরা বলেছেন, কথিত ওই বাংলাদেশীর টিবি খুবই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর সেটা ১৮+, যা ডাক্তারি পরিভাষায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সংক্রামক। তার কাছে যেই যাবে, সেই লোকই আক্রান্ত হতে পারে ।
শ্রীনিবাসন সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য দেন, ২৩ মে পর্যন্ত পেরাকের আশেপাশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬৩৫ জন যক্ষা রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন বিদেশি। আক্রান্ত বিদেশিদের মধ্যে শুধু একজন বাংলাদেশী। বাকিদের মধ্যে ১৩ জন ইন্দোনেশীয়। তিনজন ভিয়েতনামি, নেপাল ও মিয়ানমারের দু’জন করে। এছাড়া রয়েছেন একজন ভারতীয়।

শ্রীনিবাসন বলেন, পেরাকের যক্ষা রোগীদের প্রায় ৮০ ভাগই লাংটিবি। এই আক্রান্তদের হাঁচি-কাশি যদি কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে, তাহলে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। তার পূর্ণ চিকিৎসার দরকার হবে। আর যদি তা করতে কেউ ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
২৩ মে মালয়েশিয়ার দি সান ডেইলি-র এক খবরে বলা হয়েছিল, মো. জয়ালের স্থানীয় চাকরিদাতা দাবি করেন যে, তাদের বাংলাদেশী টিবি আক্রান্ত কর্মী জেলাপাংয়ের হেলথ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাকে ইপো জেনারেল হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে  কথিত মতে তিনি পালিয়ে যান। এ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে কথিত জয়ালের বাংলাদেশী পাসপোর্টের ছবিও দেয়া হয়েছিল।

স্থানীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে একটা হৈচৈ পড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়।  পেরাকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থান কম নয়। সেখানে বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত অনারারি কনসাল জেনারেল শেখ ইসমাইল আলাউদ্দিন দি সান ডেইলিকে বলেছেন, আক্রান্ত বাংলাদেশীর পলায়নের খবর তার জানা নেই।
ওই খবরে বলা হয় যক্ষা বায়ুুবাহিত একটি রোগ। সাধারণভাবে মালয়েশিয়ায় যক্ষার প্রকোপ অনেক আগে থেকেই বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন উপসর্গ নিয়ে এটির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের আগমনের ফলে এর প্রকোপ আরো বেড়ে গিয়েছে। যারা অবৈধভাবে আসছেন তাদের মাধ্যমে এই রোগ ছড়াচ্ছে বেশি।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.