সংবাদ শিরোনাম
লুকিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে…  » «   তীব্র গরমে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু  » «   সংসদে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন তারেক রহমান  » «   নুসরাতের কবরে গিয়ে শপথ নিয়েছিলাম ন্যায়বিচারে লড়বো: ব্যারিস্টার সুমন  » «   রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা!  » «   ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও শক্তিশালী : আপিল বিভাগ  » «   ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার  » «   সোহেল তাজের ভাগ্নেকে প্রেমের জেরে অপহরণের অভিযোগ  » «   ১৩ বছর বয়সে আটক মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে সৌদি আরব!  » «   বাসায় আটকে দেহব্যবসা, কান্না শুনে ২ নারীকে উদ্ধার  » «   এখনও অনেক কিছু বাকি :মেসি  » «   স্ত্রীকে বোন বানিয়ে একাধিক বিয়ে, অতঃপর…  » «   বাবা দিবস আজ  » «   জগন্নাথপুরে পালাক্রমে দুই শিক্ষক ধর্ষণ করে ছাত্রীকে এখন সে অন্তঃসত্ত্বা-পিতার দায়িত্ব কে নেবে  » «   শুরুতে বেকায়দায় মুমিন চৌধুরী  » «  

সিলেটে ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যা ‘পরিকল্পিত’

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনে মহানগর ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে আদালতে দেয়া চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১২ই মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে এ মামলার চার্জশিট প্রদান করেন। আর এই চার্জশিটে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সিলেট ছাত্রদলের সিনিয়র নেতা আবদুর রকিব চৌধুরীকে। আলোচিত এ ঘটনার কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল ২৬ জন দুর্ধর্ষ ক্যাডার। আদালতে দেয়া চার্জশিটে সিলেটের কোতোয়ালি থানার এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করেছেন।

গত বছরের ১১ই আগস্ট খুন করা হয় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুকে। ওইদিন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল নিয়ে তার বাসার সামনে পৌঁছলে ছাত্রদলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীরা হামলা চালিয়ে রাজুকে প্রথমে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। আদালতে দেয়া চার্জশিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন- মামলার প্রধান আসামি আবদুর রকিব চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে উপশহরে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন রাজু। গত বছর ১৩ই জুন জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি রাজু মহানগরে পদ প্রাপ্তির কথা থাকলেও দেলোয়ার হোসেন দিনার জেলার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজু গ্রুপ ছেড়ে চলে গেলে লিডার রকিব চৌধুরী তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। রাজু তার জুনিয়র সহকর্মীদের অনুপ্রেরণায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে। এক সময় সে আরিফুল হক চৌধুরীর আস্থা ভাজন কর্মী হয়ে উঠে। এতে রকিবসহ অন্যরা ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত বছরের ১১ই আগস্ট রাতে নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। পরে তিনি নেতা-কর্মীদের যার যার বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন।

এরপর নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওয়ানা দেন। রাজু তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (সিলেট-হ-১২-২৩২০) যোগে জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সালাউদ্দিন লিটনকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে কুমারপাড়াস্থ আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার গলির মুখে পৌঁছামাত্রই আব্দুর রকিব চৌধুরীর নির্দেশে দেলোয়ার হোসেন দিনার, এনামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ হোসেনসহ অন্যরা রামদা, চাপাতি, দা, লোহার রড, রোল ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজুর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। দেলোয়ার হোসেন দিনার, মোস্তাফিজুর রহমান ও এনামুলদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিতে জাকির হোসেন উজ্জলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় রাজুসহ অন্যরা মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে দিনার রাজুর মাথার পেছনে কুপাতে থাকে। এরপর রাজুর উপর এলোপাতাড়ি কুপানো শুরু হয়। পরে লোকজন রাজুকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়। নিহত রাজু মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহাপুরের মো. ফজর আলীর পুত্র। রাজু হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আদালতে ৬ জন জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে মামলার এ জাহারভুক্ত আসামি ফাহিম আহমেদ তোহা ও সাদ্দাম হোসেন ফৌজধারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছে- আব্দুর রকিব চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন দিনার, এনামুল হক, একরামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ নয়ন মিয়া, সৈয়দ আমিরুল হক সলিড, ফরহাদ আহমদ, সাদ্দাম হোসেন, মুহিবুর রহমান খান রাসেল, রাসেল আহমদ উরফে রাসেল উরফে কালা রাসেল- উরফে কানা রাসেল আরাফাত এলাহী প্রকাশ বাবু, মোফাজ্জল চৌধুরী মুর্শেদ, আলফু মিয়া, শহীদুল হক সুফিয়ান, নজরুল ওরফে জুনিয়র নজরুল, ফাহিম আহমদ তোহা, আফজল প্রকাশ আবজল আহমদ চৌধুরী, সাহেদ আহমদ চৌধুরী, রুবেল মিয়া, মামুন আহমদ, জুমেল আহমদ চৌধুরী, মুহিত ওরফে মুহিব, মুর্শেদ আলম ওরফে রাসেল আহমদ, জাবেদ আহমদ ও জামাল মিয়া। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন- তদন্তকালে রাজু হত্যা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যথেষ্ট প্রদান মিলেছে। সেই অনুযায়ী আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.