সংবাদ শিরোনাম
কুলাউড়ায় কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-প্রেমিক জেলহাজতে  » «   কমলগঞ্জে পানিতে পড়ে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু  » «   সিলেটে ডিবি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!  » «   কমলগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন আটক  » «   আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্মদিন সিলেটে আসছেন তিনি  » «   বিশ্বনাথে দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রবাসীসহ আহত ১১  » «   নগরীর মহাজনপট্টিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১  » «   মাছ ধরার জেরে মামা-ভাগ্নের ঝগড়ায় প্রাণ গেলো অনিকের  » «   হবিগঞ্জের বাহুবলে দুই অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত  » «   বিশ্ববাসীকে জেগে উঠার আহ্বান ইমরানের  » «   সৌদি আরবে চালু তাৎক্ষণিক লেবার ভিসা সার্ভিস  » «   যাত্রা শুরু হলো ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ গাঙচিলের  » «   মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১  » «   ‘একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যেতে রাজি হয়নি’  » «   মোদির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ করবে পিটিআই  » «  

অবৈধ বালু উত্তোলন..হুমকির মুখে খোয়াই ও সুতাং নদীর বাঁধ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::শায়েস্তাগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে তিনটি ব্রিজ। দেখার যেন কেউ নেই। সরকারদলীয় প্রভাবশালী কতিপয় লোক সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব গচ্চা যাচ্ছে অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাই অন্যায়ভাবে বালুমহালগুলোর বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে অবৈধ বালু সিন্ডিকেট, বালু উত্তোলন ও পাচার বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টসহ জেলা ও থানার সরকারি অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি বালি সরবরাহের কারণে গ্রামীণ সড়ক পথ খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রতিদিনই খোয়াই বাঁধের নতুন নতুন স্থানে বাঁশের বেড়া বেঁধে দখল করে  ভূমিহীদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ আয় করছে প্রভাবশালী মহল।

এসব ভূমি ক্রয় করে বাঁধের দুই তীরে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ বসতি। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ দখলের প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদিকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নদী থেকে ইচ্ছেমতো বালু উত্তোলন করছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল। চুনারুঘাট থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত নদীর প্রায় অর্ধশত স্থান থেকে ট্রাক-ট্রাক্টর দিয়ে  অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। খোয়াই নদীর  প্রতিরক্ষা বাঁধের কিনারা থেকে শুরু করে  ব্রিজের কিনারা পর্যন্ত কোনো কিছু মানছে না এ মহলটি। এসব স্থানে ট্রাক-ট্রাক্টর ওঠানামা করার জন্য প্রতিরক্ষা বাঁধ কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। ফলে প্রতিরক্ষা বাঁধের দুই তীরে শতাধিক স্পট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি। আগামী বর্ষায় জেলা শহর রক্ষা বাঁধসহ দুই তীরের অসংখ্য স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ভাঙা বাঁধ সংস্কারের নামে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা লুটপাট হয়।

কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। কোনো সরকারের আমলেই খোয়াই প্রতিরক্ষা বাঁধের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। খোয়াই নদীর উৎপত্তি স্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। ভৌগোলিক কারণে নদীটি ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে চুনারুঘাট উপজেলা হয়ে জেলা সদর হবিগঞ্জের উপর দিয়ে চলে গিয়ে বানিয়াচং লাখাই উপজেলা ছাড়িয়ে যুগযুগ ধরে খরস্রোতা এ নদীটি  হবিগঞ্জবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে। বর্ষাকালে সীমান্তের ওপার থেকে  পাহাড়ি ঢল নেমে এসে খোয়াই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে।
কোথাও বাঁধ উপচে আবার কোথাও বাঁধ ভেঙে তলিয়ে নেয় মানুষের সব সহায় সম্বল। আর গ্রীষ্মে তলদেশ শুকিয়ে নদীটি পরিণত হয় মরা খালে। এ অবস্থায় খোয়াইয়ের ধ্বংসলীলা এর বিরূপ প্রভাব থেকে নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল এবং জানমাল রক্ষায় ১৯৬৯ সালে তৎকালীন সরকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে। সে সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ খোয়াই নদীর স্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য ৩৯ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্প পরিকল্পনায় খোয়াই নদীর উভয় তীরে ৭৮ মাইল প্রতিরক্ষা বাঁধ, ৬টি স্থানে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ৬টি স্থানে নদীর বাঁক কেটে সোজা করা এবং আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ, আখাউড়া-সিলেট রেলওয়ে সেকশনের শায়েস্তাগঞ্জে খোয়াই নদীর উপর রেল সেতু পুনর্নির্মাণ, দুইটি পাইপ নির্গমন প্রণালি ও পাম্প স্টেশন স্থাপন, ৬৫ মাইল জুড়ে পানি নির্গমন ব্যবস্থা নদীর গতিপথ পরিবর্তন প্ল্যানিং প্ল্যান্ট এবং ৩৭ মাইল সেচ পয়ঃনালী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বন্যার কবল থেকে ফসলি জমি ও শহর রক্ষা এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা ছিল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এরপর থেকে কয়েক দফায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ৪৩ বছরেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। নদীর দুই তীরের ভুক্তভোগীরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে নদীর প্রকল্পটি করানোর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পর ও এর সুফল মিলছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আনেন তারা। এদিকে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খরস্রোতা খোয়াই পরিণত হয় মরা খালে। বিভিন্ন স্থানে নদীতে চর জেগে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়। ফলে সেচ কাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় অথচ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে অর্ধশতাধিক হেক্টর জমির ফসল।
সরজমিনে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা থেকে জেলা সদর হবিগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে অসংখ্য স্থান হুমকির সম্মুখীন হয়ে রয়েছে। বেশ কিছু স্থানে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নেই। বাঁধের বেশকিছু স্থান দুর্বল হয়ে রয়েছে এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নতুন ব্রিজ পুরান ব্রিজ সিলেট-আখাউরা রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ রেল ব্রিজের মধ্য স্থান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০টি ছোট ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছেন। ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে এখন পর্যন্ত মামলার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মামলায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধ চক্র বালু পাচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে বালু উত্তোলন মহোৎসব।
শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের লস্করপুর মৌজার ১৬২নং জে এল নম্বরে বিভিন্ন দাগ থেকে খোয়াই নদীর বাঁধের ভেতরে নদীর পূর্ব পাশে ওই প্রভাবশালী নেতারা অবাধে বালু উত্তোলন করে চলছে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে নদী থেকে বালু পাচার করে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নেতারা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খোয়াই নদীর পশ্চিম পাশে গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর পানি প্রবাহের ভারসাম্য না থাকায় বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে সড়ক পথের দুইটি ও রেল পথের ব্রিজসহ নদীর  পূর্ব-পশ্চিম পাশ ঘেঁষা পুরান বাজার ও আশপাশের গ্রামগুলো। বেশ কয়েকটি স্থানে নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য বাঁধ কেটে ট্রাক-ট্রাক্টর ওঠানামা করার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নদীর বাঁধের গোড়া কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এ অবস্থায়  হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধসহ শতাধিক স্থান মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলা শহরে প্রতিরক্ষা বাঁধের দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে শতশত ঘরবাড়ি। একটি প্রভাবশালী মহল নদীর বাঁধ দখল করে অসহায় ভূমিহীনদের কাছে বিক্রি করেছে। শহর থেকে দূরবর্তী স্থানে প্রতি হাত ২ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আর শহরে কামড়াপুর গরুর বাজার ও শায়েস্তানগরে প্রতিরক্ষা বাঁধ বিক্রি হয় ২ থেকে ৪ লাখ টাকা শতক হিসেবে। প্রভাবশালীদের জায়গা দখলের এসব কর্মকাণ্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা করে চলছে বলে জানিয়েছে কয়েকজন দখলদার। এদিকে সরজমিন ঘুরে দেখা যায় বাঁধের ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন অসহায় গরিব মানুষ তাদের দুঃখের কথা  প্রতিবেদককে জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.