সংবাদ শিরোনাম
পুত্রের হাতে পিতা খুন  » «   তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মালামাল আটক  » «   বড়লেখায় লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি  » «   রাজনগরে ১০ ভিক্ষুককে পুনর্বাসন  » «   হবিগঞ্জ পৌরসভার সোয়া ৮৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা  » «   মুরসির মৃত্যু স্বাভাবিক নয়: এরদোগান  » «   ফেসবুক ব্লকের শিকার হাঙ্গেরির বিশাল জনগোষ্ঠী  » «   আ.লীগের নাম ‘নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি’ রাখা উচিত: ফখরুল  » «   লুটপাট করে টাকার পাহাড় তৈরি করছে সরকারিদলের নেতারা: রুমিন  » «   দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি  » «   সাকিব-লিটনকে নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা  » «   ৪৫৫ উপজেলার ৩০২টিতে আ.লীগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯৬জন  » «   অপহরণের ১১ দিন পর আজ সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভকে উদ্ধার  » «   অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৯০ কোটি টাকা দান করলেন মার্কিন ধনকুবের  » «   দেশে ফিরছেন ভানুয়াতুতে পাচার হওয়া বাংলাদেশীরা  » «  

যে হাটে কোনো পুরুষ বিক্রেতা নেই

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::বাজার বলতে আমরা সেই স্থানকেই বুঝি যেখানে নানা ধরনের ক্রেতা ও বিক্রেতার সমাগম ঘটে। তবে ভারতের মণিপুর প্রদেশে এমন একটি বাজার রয়েছে যেখানে ক্রেতা নানা ধরনের হলেও বিক্রেতা সবাই নারী। 
সমাজজীবনের অগ্রগতি হলেও এই সমাজ এখনও পুরুষতান্ত্রিক। সেখানে মণিপুর বরাবরই নারীশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। দেশের তথা বিশ্বের একমাত্র মহিলা পরিচালিত এই বাজারে পুরুষদের কেনাকাটা করার অনুমতি থাকলেও ব্যবসা করার অনুমতি নেই। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কিন্তু সরকারি আদেশ নয়। যদি কোনো পুরুষ এখানে ব্যবসা করার চেষ্টা করে তবে সব নারীরা এক জোট হয়ে প্রতিরোধ করে।
মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে অবস্থিত ওই বাজারের নাম ‘মাদার মার্কেট’। বাজারে প্রায় পাঁচ হাজার নারী ব্যবসায়ী রয়েছেন। এটাই এশিয়া মহাদেশের নারী দ্বারা পরিচালিত সবচেয়ে বড় বাজার।
আয়তনে বড় হলেও বাজারটি বেশ ছিমছাম। এর গোড়াপত্তন প্রায় পাঁচশ বছর আগে। ওই সময়ে মণিপুরের অবস্থা ছিল টালমাটাল। অধিকাংশ পুরুষই যুদ্ধ বিগ্রহ নিয়ে পড়ে থাকতো। ফলে উপার্জনের জন্য নারীরা ব্যবসা শুরু করে। সেই থেকে শুরু। এরপর কালের বিবর্তনে বাজারের পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে নারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা।
দৈনন্দিন সদাইপাতি থেকে শুরু করে কাপড়, হস্তশিল্প সবই পাওয়া যায় বাজারে। অন্য বাজারের চেয়ে এখানকার জিনিসপত্র তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যায় বলে সকাল-বিকাল এখানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। বিশেষ করে উৎসব-পার্বণে এই বাজার থেকে কেনাকাটা করা মণিপুরবাসীদের কাছে ঐতিহ্যও বটে।
এই বাজারের আর একটি বিশেষত্ব হল, এখানকার সমস্ত দোকানি মহিলারাই বিবাহিত। অবিবাহিত মহিলাদের এখানে ব্যবসা করার কোনও অনুমতি নেই। সকলেই সংসার সামলানোর পাশাপাশি ব্যবসাও সামলান।
বিভিন্ন সময়ে মহিলাদের এই বাজারের উপরে আক্রমণ নেমে এসেছে। ষড়যন্ত্র করা হয়েছে যাতে বাজার ভেঙে যায়। তবে মহিলারা রুখে দাঁড়িয়েছেন। স্বাধীনতার আগে ১৯০৪ ও ১৯৩৯ সালে মহিলারা রীতিমতো লড়াই করে বাজার রক্ষা করেছেন। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বাজার বেশ কিছুদিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
২০০৩ সালে মণিপুর সরকার এই বাজার অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এখানে নতুন সুপার মার্কেট করার পরিকল্পনা হয়। তখন ফের প্রতিরোধ শুরু হয়। তা ভেস্তে যায়। এখন ফের রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই বাজার দেখতে আসেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.