সংবাদ শিরোনাম
উল্লাপাড়ায় বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের ৯ যাত্রী নিহত  » «   সিলেটের গোয়াইনঘাটে ডাকাত গ্রেপ্তার  » «   পুত্রবধূকে ধর্ষণ করলেন শ্বশুর!  » «   সোনারগাঁয়ে বিয়াইর ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বেয়াইন  » «   ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ডাকা হয় কলগার্লদেরও  » «   দলিত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করল পুলিশ  » «   সত্যিকার সমর্থ অনলাইন মিডিয়া নিবন্ধন পাবে : তথ্যমন্ত্রী  » «   পটুয়াখালী মায়ের পরকিয়ার জেরে সন্তান খুন, ছয় মাস পরে ইউপি সদস্য গ্রেফতার  » «   এরশাদের দাফন সংক্রান্ত প্রস্তাবে প্রস্তাবে সায় নেই সরকারের  » «   শ্রীমঙ্গলে ৪৩৪ টন ধান কিনবে সরকার  » «   সারা দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে শাবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ  » «   নবীগঞ্জে পানিবন্দি অর্ধশতাধিক গ্রাম হুমকির মুখে বিবিয়ানা  » «   মৌলভীবাজারে ইভটিজিং আতঙ্ক, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   ভিডিও বানাতে সুরমায় ঝাঁপ: ৩ দিন পর মিলল লাশ  » «   মালয়েশিয়ায় ৩০০ বাংলাদেশি আটক  » «  

রাজনগরে ১০ ভিক্ষুককে পুনর্বাসন

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিন (৫০) বয়স যখন ৩০ তখন জটিল রোগে তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। ক্র্যাচে ভর করে এক পায়েই চলতে হতো তাকে। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ের সংসার তার ওপর বুঝা হয়ে উঠে। পঙ্গুত্ব বরণ করায় উপার্জন করতেও পারছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে ১০-১২ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তিকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট পেশা জেনেও ভিক্ষার উপার্জন দিয়েই চলছিল তার সংসার। এখন তিনি ছেড়ে দিতে চান ভিক্ষাবৃত্তি। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান তিনি।

এমনি ভাবে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ কামাল মিয়া ৮ বছর ধরে ভিক্ষা করে সংসার চালিয়েছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক শক্তিও কমে গেছে। তবুও বাধ্য হয়েই বেরিয়ে পড়তে হয়েছে জীবিকার জন্য। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে মাথা উঁচু করে বাঁচার ইচ্ছা ছিল তারও। আর সেই ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে রাজনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৮ জন ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের ২ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের জন্য প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়েছে। আর এতে করেই লাঞ্ছনার জীবন ছেড়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান তারা।

গতকাল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ভিক্ষুকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। টিএমএসএস-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আবদুল মালেক আকন্দের সঞ্চালনায় ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান মামুন, ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত, দেওয়ান খয়রুল মজিদ ছালেক, মো. টিপু খান, সালেক মিয়া, নকুল চন্দ্র দাশ, শাহ শাহিদুজ্জামান ছালিক, টিএমএসএস-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির পরিচালক রেজাউল করিম প্রমুখ।
পুনর্বাসিত আফাজ মিয়া বলেন, খুব ইচ্ছা ছিল ভিক্ষাবৃত্তির পেশা ছেড়ে নিজে সম্মান নিয়ে কিছু একটা করতে। কিন্তু আর্থিক অনটন ও পুঁজির অভাবে পারছিলাম না। টাকা নিয়ে কি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটি গাভী কিনে স্ত্রী ও নিজে মিলে পালন করবো। আর এই পেশায় ফিরতে চাই না।
টিএমএসএস সমৃদ্ধি কর্মসূচির পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আমরা তাদের এই পেশা ছেড়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে মোটিভেশন করেছি। তারাও এই পেশা ছেড়ে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে চাইছে। তাই পিকেএসএফ সহায়তায় প্রত্যেককে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। তারা যাতে টাকাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগায় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করতে বর্তমান সরকারেরও একটি উদ্যোগ রয়েছে। খুব শিগগিরই রাজনগর উপজেলায় পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় টিএমএসএস যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তাতে আমাদের কাজ আরো সহজ হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.