সংবাদ শিরোনাম
ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্ঠার ঘটনায় মামলা  » «   শ্রীমঙ্গলে তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৭ টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ  » «   সাংবাদিক পীর হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের শাস্তি দাবি  » «   জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেরীন বিজয়ী  » «   প্রধান শিক্ষককের কাছ থেকে চাঁদা দাবী ও প্রান নাশের হুমকি  » «   জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী কাদিরের নির্বাচন বয়কট  » «   জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু  » «   দিরাইয়ে ৫ বছরের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা  » «   সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ হলেন গোয়াইনঘাট সার্কেলের এএসপিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তা  » «   ক্রসফায়ারে হত্যার চেষ্টা.এতে ব্যর্থ হয়ে ডাকাতির মামলায় ঢুকান জকিগঞ্জের ওসি  » «   সুইসাইড নোট থেকেই জানা গেলো আত্মহত্যা করা পপি গণধর্ষণের শিকার  » «   সাংবাদিক মনোয়ারা মনু আর নেই  » «   আবরার ইস্যুতে বিবৃতি দেয়ায় জাতিসংঘ দূতকে তলব  » «   ২২ দিন কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ-ডা. দীপু মনি  » «   বৃটেনে প্রতারণার আশ্রয় নিতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন নাসরিন  » «  

২০ শিক্ষার্থীর ধর্ষক শিক্ষকের বিচার দাবি

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া (কান্দাপাড়া) এলাকায় ২০ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে একাধিকার ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত অক্সফোর্ড হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক আশরাফুল আরিফের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে এলাকাবাসী। ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় সরেজমিন গেলে নারী-পুরুষ এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও তাকে সহায়তা করার অভিযোগে ওই স্কুলের মালিক ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় অবিস্থিত অক্সফোর্ড হাইস্কুল। এ স্কুলের শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ওরফে আরিফুল ইসলাম গত ৮ বছর ধরে স্কুলটিতে অঙ্ক ও ইংরেজী বিষয়ে পাঠদান করে আসছিলেন। তার চাকরিজীবনে অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেলিং করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করে আসছিলেন। ছাত্রীদের কোচিং পড়নোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ঐ ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষে খাটছিল বলে জানায় ফ্ল্যাটের দারোয়ান। তিনদিন ধরে তার অনৈতিক কার্যকলাপ ফাঁস হতে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানায়, তার মেয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ার সময় ঐ শিক্ষক কর্তৃক যৌন লালসার শিকার হয়। ঐ মেয়ে এখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ছে। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। ২-৩ দিন পূর্বে ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুব সমাজকে বলেছি। এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট্ট একটি কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলুফিকার। পরবর্তীতে ঐ স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কিনে নেয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে অঙ্ক ও ইংরেজীর শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম। এলাকাবাসী জানায়, তার অপরাধগুলোকে সহযোগিতা করত স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। তিনমাস পূর্বে স্কুলের এক শিক্ষিকার সঙ্গেও ঐ শিক্ষক যৌনহয়রানি করেছিল। ঐ শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। উক্ত হাইস্কুলে ৫শ’ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এ স্কুলটি নারায়ণগঞ্জের সাত খুনে নিহত নজরুল ইসলামের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

ঘটনাস্থলে যাওয়া র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন বলেন, গণিতের শিক্ষক আশরাফুল আরিফকে গ্রেফতার করে তার মোবাইল ডিভাইজটি সার্চ করার পর হতবাক হয়ে যাই। সেখানে ২০ এর অধিক ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধভাবে সম্পর্ক স্থাপন করার ছবি দেখতে পাই। প্রতি ঘটনাই সে ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। আমরা তার আরও ডিভাইজ নিয়েছি তা পরীক্ষা করে দেখব। ওই শিক্ষক কোচিংয়ের নামে তার ফ্ল্যাটে কোমলমতি ছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেলিং করে একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করেছে। তিনি জানান, এক ছাত্রীর মাকেও সে ধর্ষণ করেছে বলে আমরা জানতে পেয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ আমাদের কাছেও ঘটনাটি স্বীকার করেছে। র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন শুক্রবার বিকেল ৫টায় জানান, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের সুষ্ঠু বিচার দাবি এলাকাবাসীর ॥ মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দারা ওই শিক্ষকের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। স্থানীয় দোকানি আতিক জানান, আমার এক মেয়ে অক্সফোর্ড হাইস্কুলে লেখাপড়া করছে। শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ সেই শিক্ষক যদি এ ধরনের অপকর্ম করে তবে কোমলমতি শিশুরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। এ ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক অক্সফোর্ড হাইস্কুলের পাশে বুক গার্ডেনে তিনটি কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। ওই তিনটি কক্ষেই তিনটি খাটও রয়েছে। অথচ ওই ফ্ল্যাটের বাসায় তার পরিবারের কেউ থাকেন না। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে অন্য শিক্ষকরা এ ধরনের আর কোন অপকর্ম করতে না পারে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন বলেন, শিক্ষার নামে যে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও যৌনাচার চলছে তা এলাকা থেকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমরা এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার দাবি জানাই। মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা ও অক্সফোড স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মা জানান, আমাদের সন্তানদের পাঠাই নিরাপদ মনে করে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে তার চেয়ে দুশ্চিন্তার আর কিছু নেই। তিনি বলেন, আমি কুলাঙ্গার শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই এলাকার বাসিন্দা হযরত জানান, ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেলিং করে ধর্ষণের পর ওই শিক্ষক ভয়ভীতি দেখিয়ে কোন কোন শিক্ষার্থীর মাকেও ধর্ষণ করেছে বলে আমরা শুনেছি। শুধু অভিভাবকরাই নন এলাকাবাসীও অভিযুক্ত শিক্ষকের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এলাকার জন্য একটি ঘৃণিত কাজ। ঘটনাটি আড়ালে ঘটেছে। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করছি এবং অত্র প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানাই। তিনি আরও বলেন, আমরা ২নং ওয়ার্ডের প্রতিটি স্কুল পরির্দশন করে দেখব। যাতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপকর্ম আর কেউ যাতে ঘটাতে না পারে।

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ॥ নারায়ণগঞ্জ নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার অক্সফোর্ড হাই স্কুলের ২০ এর অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও মদদদাতা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলা দু’টি দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত এক ছাত্রীর পরিবার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন র‌্যাব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত র‌্যাবের মামলাটিতে অনৈতিক কাজে মদদ দেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককেও আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আসামিদের র‌্যাব-১১ এর আদমজীর কার্যালয় থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিশজনেরও বেশি ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক এ বিষয় স্বীকার করেছে। বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আগামীকাল আসামিদের দশদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.