সংবাদ শিরোনাম
বিএনপির রাজনীতি চোরাবালিতে ডুবে গেছে: কাদের  » «   জকিগঞ্জে ৫০২ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক ১  » «   নগরীতে পানির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা  » «   ভ্যাট দিবসে সিলেটে ৯ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা  » «   নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে ৪১টি বাস নিয়ে চালু হচ্ছে নগর এক্সপ্রেস-মেয়র  » «   মানবাধিকার হরণের মহোৎসবে মেতে উঠেছে সরকার-বিএনপি  » «   সিলেটে জামিন পেলেন বিএনপির ২৯ নেতা  » «   রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে-হাই কোর্ট  » «   জামায়াত থেকে সাবেক সচিব সোলায়মান চৌধুরীর পদত্যাগ  » «   বিদেশে নারী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে ॥ ফখরুল  » «   বিশ্বে অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে শতকরা পাঁচ ভাগ  » «   চিলির সামরিক বিমান ৩৮ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ  » «   সিলেটের কোচ হার্শেল গিবস এখন ঢাকায়  » «   মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কেউ রক্ষা পাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী  » «   জিবিএস ভাইরাস রোগে আক্রান্ত ছেলের জন্য এক বাবার আকুতি  » «  

খালেদা জিয়ার জামিন মেলেনি

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন  বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। খালেদার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর মো. নাসির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ৩টায় শুনানির শুরু হওয়ার পর ৩টা ৪৫ মিনিটে শেষ হয়। আদেশের আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মামলার নথি পড়ে জামিন আবেদন করেন।

জামিন আবেদনে তিনটি যুক্তি তুলে ধরেন। এক. বেগম খালেদা জিয়া একজন মহিলা, দুই. তিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন এবং তিন. খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। এই অবস্থায় আদালত তাকে জামিন দিতে পারেন। জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, আমরা এই মামলায় খালাসের জন্য আসিনি। আমরা এসেছি বেগম খালেদার জামিনের জন্য।

শুনানিতে জয়নুল আবেদীন বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়া ১৬ মাস জেল খেটেছেন। এর আগে আপনারা বিভিন্ন মেয়াদের সাজা মামলায় জামিন দিয়েছেন, সেখানে কেউ এতো দিন জেল খাটেনি। তিনি একজন বয়স্ক মহিলা। তার বয়স এখন ৭৫ বছর। দীর্ঘ দিন জেলে থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর জয়নুল আবেদীন মামলার এফআইআর থেকে পড়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এমন কিছু এখানে নেই; মামলার তদন্ত কর্মকর্তাই এটা স্বীকার করেছেন।

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে বক্তব্য শুরু করতে বলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মাই লর্ড, এ মামলায় নথি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এখানে সর্বোচ্চ চাঁদাবাজি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে এ ধরনের চাঁদাবাজি করা খুবই অন্যায়। ট্রাস্ট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাই বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ ধরনের কাজ করা খুবই অন্যায়। ট্রাস্টের নামে যে জায়গা কেনা হয়েছে তা তারেক রহমানের আত্মীয়ের জায়গা। এ জায়গা কেনার ক্ষেত্রে জমির মূল্যের অধিক মূল্য দিয়ে কেনা হয়েছে। দুই দফা টাকা দেয়া হয়েছে। এ মামলায় তাকে জামিন দিলে মানুষের মধ্যে ধারণা হবে অন্যায় করলেও সহজে পার পাওয়া যায়। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও জামিন পাওয়া যায়। এমনকি খুন করলেও জামিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া খালেদা জিয়া অপর মামলায় ১০ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামি। এ মামলায় আপিল শুনানি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ মুহূর্তে জামিন দেয়া ঠিক হবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, চাঁদাবাজির নানা ধরণ আছে। এটা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে চাঁদাবাজি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে কেউ এই ধরণের অপরাধ করলে তা হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

এরপর আদালত বলেন, আমরা পাঁচ মিনিটের জন্য বিরতিতে যাচ্ছি। বিকেল ৪টায় ফের আদালত এজলাশে বসেন। এরপর আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেন। এ সময় বিএনপির শতাধিক আইনজীবী এবং সরকারপক্ষের অনেক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। সবাই আদেশের জন্য অধীর আগ্রহে এবং উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে থাকেন। আদালত কক্ষে পিনপতন নীরবতা। এরপর আদালত আদেশ পড়া শুরু করে বলেন, ?এ মামলায় আইনের সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। আপিল শুনানির জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে। মামলা পর্যালোচনা করে আমরা জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দিলাম।

আদেশের পরপর বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বিএনপির অর্ধশতাধিক আইনজীবী ‘শেইম শেইম’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ‘এ আদেশ মানি না, শেখ হাসিনার দালাল’ বলে এজলাস কক্ষে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এজলাস কক্ষে চুপচাপ বসে থাকেন। বিএনপির আইনজীবীরা বিচারকক্ষ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ এজলাস ত্যাগ করেন। আদালতের বারান্দায়  কিছু জুনিয়র আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে ঘিরে ধরে বলেন, আপনি সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি দিন। আমরা বিক্ষোভ মিছিল করব। মাহবুব উদ্দিন খোকন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু সবাই হৈ চৈ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জুনিয়র আইনজীবীদের রোষানলে পড়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। এ কারণে সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে না। আজকে সাত বছরের সাজায় জামিন না মঞ্জুর করা অত্যন্ত দুঃখজনক। হাইকোর্ট সাত বছরের সাজার এই মামলায় জামিন নামঞ্জুর করায় আমরা লজ্জাবোধ করছি।
অপর দিকে আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত, এ তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করেছেন।

আদেশের সময় বদরুদ্দোজা বাদল, একেএম এহসানুর রহমান, নওশাদ জমির, আমিনুল ইসলাম, মো: আখতারুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সগীর হোসেন লিয়ন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনিছুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ৩০ শে জুলাই প্রথম দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। আদালত ওই দিন গতকাল বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.