সংবাদ শিরোনাম
ভোলাগঞ্জের খাগাইল নামক স্থানে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ২  » «   নিজের মামলায় ফেসে কারাগারে শামীমা স্বাদীন  » «   টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে রাব্বানীর ফোনালাপ ফাঁস  » «   পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী  » «   দ্রুত উইকেট পতনে কঠিন চাপে বাংলাদেশ  » «   ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে কাজ করবে জয়-লেখক  » «   মন্ত্রিত্ব গেলে আবার সাংবাদিকতায় আসব: ওবায়দুল কাদের  » «   ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়-সা. সম্পাদক লেখক  » «   ছাত্রলীগ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো শোভন-রাব্বানীকে  » «   ছাত্রদলের নেতারা নিজেরাই মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করেছে  » «   শোভন-রাব্বানীর ভাগ্য নির্ধারণ আজ  » «   সংবাদপত্রকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা  » «   আদালতে ফয়সালা করেই ছাত্রদলের কাউন্সিল : দুদু  » «   জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ধরে রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর  » «   স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন  » «  

সিলেটে ডিবি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ১০ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা মো: মুহিব্বুল হক গত ২৩ জুলাই সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত রমজানের আগে ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর প্রায় ৩ দিন ওই স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন সিলেট জেলা ডিবি পুলিশে কর্মরত এসআই শহিদুল ইসলাম।

স্কুল ছাত্রী কানাইঘাট উপজেলার বড় চতুল ইউনিয়নের পর্বতপুর গ্রামের মো: মুহিব্বুল হকের মেয়ে (১৮)। স্থানীয় দুর্গাপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজের চলতি সনের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনা জানাজানি হলে ওই ছাত্রী তার পড়ালেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এ ঘটনাটি ঘটে প্রায় ৩ মাস আগে। এতদিন বিষয়টি গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। আনুমানিক ৫ মাস আগে পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম কানাইঘাটের এক ঘটকের মাধ্যমে তার জন্য বিয়ের পাত্রী খোঁজার প্রস্তাব দেন।

ঘটক সরল মনে পর্বতপুর গ্রামের কৃষক মুহিব্বুল হকের বাড়ী গিয়ে স্কুল পড়ুয়া মেয়ের জন্য শহিদুল হকের বিয়ের প্রস্তাব দেন। বাড়ীতে ঘটক জয়নাল উপস্থিত হয়ে তখন পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল হকের মোবাইল ফোন নম্বরে মুহিব্বুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।

এর ১০/১২ দিন পর শহিদুল ইসলাম মুহিব্বুল হকের বাড়ীতে অতিথি হয়ে সেখানে গিয়ে এক রাত যাপন করেন। শহিদুল ইসলাম সেদিন তিনি ওই ছাত্রীকে কন্যা হিসাবে দেখাদেখি করে ১৫শত টাকা সালামি দেন। তখন থেকেই উভয়ের মোবাইল ফোনে ইমুর মাধ্যমে কথাবার্তা আদান-প্রদান হতো।
এতে শহিদুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মুহিব্বুল হকের কাছ থেকে বিয়ের জন্য ১৫ হাজার টাকা আগাম ক্রোকারিজ সামগ্রী গ্রহণ করে নেন।

পরে শহিদুলের দাওয়াতে মুহিব্বুল হক তার ছোট দুই ছেলে ও কানাইঘাটের পুলিশের সোর্স বলে পরিচিত আমীনকে সঙ্গে নিয়ে শহিদুলের গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের ধনপুরে যান। সেখানে মুহিব্বুল হক শহিদুলের পিতামাতার সঙ্গে দেখা করেন। তার পিতামাতা পরবর্তীতে কানাইঘাটে কনের বাড়ী গিয়ে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পাদনের কথা ছিল। তবে তারা আসেননি।

এর ফাঁক দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল গত রমজানের আগে মোবাইল ফোন দিয়ে সিলেট থেকে ওই ছাত্রীর মা রেহানা বেগমকে বলেন, ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট আসতে হবে। কথামতো রেহানা বেগম তার ছোট দুই ছেলেসহ কনেকে সাথে নিয়ে সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকায় শহিদুল ইসলামের ভাড়াটে বাসায় যান। সেখানে তারা দু’রাত যাপন করেন।

ওই বাসায় দু’দিন রাত যাপন অবস্থায় রেহানা বেগম ও তার দুই ছেলেকে শহিদুল ইসলামের দুই বেড রুমের এক রুমের বিছানায় তাদের ঘুমাতে দেন। আর ওই স্কুল ছাত্রীকে শহিদুলের বেড রুমে নিয়ে রাত যাপন করেন। এসময় স্কুল ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শহিদুল তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর তিনি তাকে গর্ভরোধক ট্যাবলেট খাওয়ান। এরপর গত ঈদুল ফিতরের পর আরো একদিন তাদের মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে মিরাবাজারে অবস্থিত শহিদুলের ভাড়াটে বাসায় এক রাত যাপনকালে একই জাগায় তাকে আবার ধর্ষণ করেন। স্কুল ছাত্রী ঘটনাটি দীর্ঘদিন মনের মধ্যে চাপ দিয়ে রেখে সহ্য করতে না পেরে নিজ বাড়ীতে তিন বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

ওই স্কুল ছাত্রী শহিদুল ইসলাম নিশ্চয়ই বিয়ে করবে বলে বুক ভরা আশা দিয়ে ছিল। এক পর্যায়ে পাশের বাড়ীর মুন্নি নামক এক সুন্দরী মেয়ে দেখতে পেয়ে তাকে পছন্দ করে ফেলেন শহিদুল ইসলাম। এতে কনে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কনের অভিভাবক শহিদুলকে চাপ দিতে থাকেন কবে বিয়ে করে তুলে নেবেন তাদের মেয়েকে। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে চলে যায়।

শহিদুল সুন্দরী মুন্নির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। কনের পক্ষ শহিদুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শহিদুল জানায় তাকে বিয়ে করলে মুন্নি কষ্ট পাবে।
আর মুন্নিকে বিয়ে করলে স্কুল ছাত্রী কষ্ট পাবে। সেই জন্য তিনি কাউকে বিয়ে করতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে তার স্কুল শিক্ষার্থীরাও জেনে ফেলে। শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন শহিদুলের সঙ্গে স্কুল ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। স্কুল ছাত্রী গর্ভবতী বলেও কিছু শিক্ষার্থীর মুখে শোনা যায়।

শহিদুলকে বলাবলি বিষয়টি জানালে তিনি কনের অভিভাবককে বলেন, তার কিছুই করার নেই। অসহায় হয়ে মুহিব্বুল হক তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সর্বনাশের দরুণ ন্যায় বিচারের আশায় সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবর গত ২৩ জুলাই বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে টাঙ্গাইলের ধনপুর গ্রামের শমসের উদ্দিনের ছেলে ও সিলেট জেলা ডিবি পুলিশে কর্মরত শহিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ নম্বর মিস ৮৫৫৭ আইসিভি।

বুধবার সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানতে চাইলে বলেন, মেয়ের অভিভাবক কিছুদিন আগে ওই অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে । এছাড়া হেনার অভিভাবক কিছুদিন আগে জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর শহিদুলের সর্বনাশ হয়েছে বলে তাদেরকে ফোন দেন এবং সেই অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক পক্ষকে মানসিক চাপ দেন বলে জানা গেছে।

এরই প্রেক্ষিতে হেনার অভিভাবক পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার এ প্রতিবেদক স্কুল ছাত্রীর অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বরে কথা বলতে চাইলে একাধিকবার কল দিলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.