সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুরে বিদুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু  » «   প্রথমে ভুয়া সেনাবাহিনীর লোক পরিচয়ে জেল:এবার ইনাতগঞ্জে সিআইডি পরিচয়ে আটক  » «   গোলাপগঞ্জে ঘরের মধ্যে একটি বিষধর সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু  » «   সৎ ও সুন্দর ভাবে ব্যবসা করলে জীবনে প্রতিষ্ঠাপাওয়া সম্ভব-মেয়র আরিফ   » «   জঙ্গিদের টার্গেট ছিল হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার  » «   সিলেটে জঙ্গিদের ট্রেনিং সেন্টার সহ দুটি বাসায় অভিযান, বোমা তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার  » «   নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে ৪ অপহরণ ও চাঁদাবাজকারী আটক  » «   সুনামগঞ্জের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা একটা দৃষ্টি আছে -পানি মন্ত্রনালয়ের সচিব   » «   জগন্নাথপুরে পুলিশ সদস্য সহ আরোও তিনজন করোনায় আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১১৯  » «   জগন্নাথপুরে দুর্ধর্ষ চুরি নগদ ৬লক্ষ টাকা সহ ৪ভরি সোনা নিয়ে গেছে চোরেরা  » «   জগন্নাথপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাপড়ের দোকানে ঢুকে পড়ল ট্রলি  » «   গোলাপগঞ্জে গাঁজাসহ এক তরুণীকে আটক  » «   নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিন আজ শেষ দিন:আগামী কাল থেকে বন্ধ  » «   এক অপরাধীর পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে কারাগারে আরেক আসামী  » «   জগন্নাথপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেফতার-৬  » «  

এবারের সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটিতে আসতে পারে নতুন মুখ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::সিলেট জেলা বিএনপি’র আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে চান না সিনিয়র নেতারা। যারা এত দিন দলের দুর্দিনে হাল ধরেছিলেন তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সরে গেছেন। এ কারণে এবারের আহ্বায়ক কমিটিতে আসতে পারে নতুন মুখ। এ নিয়ে সিলেট বিএনপিতে জল্পনার অন্ত নেই। বর্তমান দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন- খুব শিগগিরই গঠন করা হবে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। ভেঙ্গে দেয়া হবে বর্তমান কমিটি। এখন পর্যন্ত আহ্বায়কের নাম চূড়ান্ত না হলেও নতুন আহ্বায়কের তালিকায় নাম রয়েছে জেলার সহ-সভাপতি বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী ও জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি আশিক উদ্দিন চৌধুরী। এই তিনজনের মধ্যে যেকোনো একজন হতে পারেন আহ্বায়ক।

তবে- সিলেট বিএনপির অধিকাংশ নেতা অধিকতর যোগ্যদের পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪

তালিকায় এই তিন জনের মধ্যে কাউকে রাখছেন না। এদের চেয়ে সিনিয়র
নেতাদের মধ্যে কাউকে আহ্বায়ক করতে এরই মধ্যে তারা দলীয় ফোরামে আলোচনা শুরু করেছেন। সিলেটে বিএনপির দুর্দিন দেখা গেলেই নিরপেক্ষ স্বজ্জন নেতাদের কাঁধে তুলে দেয়া হয় দলের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব। সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম খন্দকার আব্দুল মালিকের জমানার পর থেকে বিএনপিতে এই রীতি চলে আসছে। সাইফুর রহমানের জমানায়ও একই অবস্থা ছিল। এ কারণে গত দেড় যুগ ধরে সিলেট বিএনপির ক্রান্তিলগ্নে ঘুরেফিরে দলের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন প্রবীণ নেতা এমএ হক নয়তো এডভোকেট নুরুল হক। এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীও
। এবার সিলেট বিএনপির নেতারা চাইছিলেন, প্রবীণদের মধ্য থেকে কাউকে আহ্বায়ক করতে। কারণ- ইতিমধ্যে সিলেট জেলা বিএনপির ১০ জন নেতা ঢাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সিলেট বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার নির্দেশের প্রেক্ষিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়। এজন্য সিলেট জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বায়কের তালিকায় প্রথম পছন্দে ছিলেন প্রবীণ নেতা এমএ হক। কিন্তু এমএ হক রাজি হননি। পরে তারা সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু এবার নুরুল হকও আহ্বায়ক হতে রাজি হননি। গতবার তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। বয়সের ভারে এই দুই নেতা কাবু হলেও এখনো তারা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। তারা দু’জন রাজি না হওয়ায় নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে আলোচনা করা হয়। কিন্তু অসুস্থ থাকায় ইলিয়াস পত্নী এ দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাবেক এমপি আবুল কাহির চৌধুরীকে প্রস্তাব দিলেও অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে তিনিও ফিরিয়ে দেন। ফলে, সিনিয়র এবং যোগ্যদের মধ্যে এবার আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করতে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে বিব্রত হন দলের নেতারা। বিএনপির চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা এম হক জানিয়েছেন- ‘অনেক দিন তো দায়িত্ব নিলাম। এখন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে। এ কারণে আমি দায়িত্ব নিই নি।’ তিনি বলেন- ‘নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে ব্যাকআপ হিসেবে পেছন থেকে তিনি কাজ করবেন। যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন করা হবে।’ এদিকে- প্রায় দেড় মাস আগে সিলেট বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এখন আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কথা বলা হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও। এই তালিকায় কামরুল হুদা জায়গীরদার, আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী ও আশিক উদ্দিন চৌধুরীর নাম শীর্ষে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া- বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের রাখা হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটিতে। এর মধ্যে বর্তমান কমিটির পছন্দের তালিকায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার। কিন্তু তাকে নিয়েও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অপর আরো একটি অংশ চাইছে আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীকে। কেউ কেউ চাচ্ছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কানাইঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরীকে। এই তিন জনকেই নিয়ে সিলেটে আলোচনা হচ্ছে বেশি। কিন্তু দলের বেশিরভাগ নেতা চান আরো অভিজ্ঞ ও যোগ্য আহ্বায়ক। অতীতে যাদের দলের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি ক্লিন ইমেজ রয়েছে তাদের যেন মূল্যায়ণ করা হয়। কারণ- নতুন আহ্বায়ক ও তার কমিটির ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে আন্দোলনে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন- ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেই তালিকায়ও অনেক জুনিয়র ও উপজেলা পর্যায়ের নেতার নাম রাখা হয়েছে। ফলে জুনিয়র নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে চেইন অব কমান্ড না-ও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত হওয়া নেতারা নীরব হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.