সংবাদ শিরোনাম
টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত রিকশাচালকের মেয়ে পান্নার  » «   বাবরি মসজিদের উপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা!  » «   কবর থেকে বেরিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে কন্যাশিশু!  » «   মদিনাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫  » «   প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের বিষয়ে নির্দেশনা দিবেন রবিবার  » «   কুবির বঙ্গবন্ধু হল থেকে গাঁজা সেবনকালে ছাত্রলীগের ২ নেতাসহ আটক ৩  » «   বিশ্ব এ্যানেসথেশিয়া ও মেরুদণ্ড দিবস পালন  » «   রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আওয়ামীলীগ মাঠ থেকে পালিয়ে যাবার দল নয় : মোহাম্মদ নাসিম  » «   নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে গাড়ী ভর্তি ভারতীয় সুপারীসহ আটক ১  » «   লন্ডনে সাংবাদিক শফিকুলকে ফার্মল্যান্ড ফুড এন্ড এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের সংবর্ধনা  » «   দক্ষিণ সুরমা থেকে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক  » «   নগরীর ঘাসিটুলা সবুজ সেনা থেকে ৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার  » «   মোগলাবাজারে বৈদ্যুতিক পোল চুরিকালে সাত জন আটক  » «   পপি আত্মহত্যা: প্ররোচরনা আইনে মামলায় দুলাভাই গ্রেপ্তার  » «  

বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই বাংলা পড়তে পারে না!

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::প্রতিবছর বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হলেও শতকরা ৬৫ জন শিক্ষার্থীই ঠিকঠাক বাংলা পড়তে পারে না। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি জরিপে উদ্বেগজনক এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে পারেনা। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা তার চাইতেও বেশি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অন্তঃসারশূন্য পাঠের কথা স্বীকার করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ‘নতুন বসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এর শিক্ষিকা আকলিমা সুলতানা বলেন, ‘কিছু বাচ্চা অক্ষরই চেনে না।’ সরকারি নিয়মানুসারে শিশুদের বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শিশুটির ওই শ্রেণিতে পড়ার দক্ষতা নেই।

আকলিমা বলেন, ‘আমরা হয়তো বয়স দেখে একটা বাচ্চাকে ক্লাস থ্রি-তে ভর্তি করলাম, কিন্তু পরে দেখা যায় যে তারা বাংলা, ইংরেজি রিডিং পড়তে পারেনা। কিছু বাচ্চা অক্ষরই চেনেনা। এজন্য আমরাও তাদের পড়াতে পারিনা, কিছু বোঝোতে পারিনা। এটা তো আমাদের জন্যও দুর্ভোগ।’

শ্রেণিকক্ষ গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের একেকটা ক্লাসে ৫০-৬০ জন ছাত্রছাত্রী। এতো শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে বোঝানো সম্ভব না। একটি শিশুর বাসাতেও কিছু প্র্যাকটিস করতে হয়, পড়তে হয়, হোমওয়ার্ক করতে হয়। সেই সাপোর্টটা তারা পরিবারগুলোতে পায়না। কারণ অনেক বাচ্চার বাবা-মা পড়াশোনা জানেন না।’

আরও পড়ুন: ২৫ বছর পর ‘শিকলমুক্ত’ সেই রতন মিয়া

এছাড়া ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার এশিয়ায় মধ্যে সবচেয়ে কম। শিক্ষার্থীদের অনুপাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষকের অভাব। আবার যে কজন আছেন তারাও তাদের পুরো সময় পাঠদানে দিতে পারেন না।

আকলিমা সুলতানারও সর্বশেষ প্রশিক্ষণ হয়েছিল ২০১৪ সালে। সেটাও প্রশ্নপত্র নিয়ে। ২০১৪ সালের পর এ সময়ের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক তার আর কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। সব মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শেখ ইকরামুল কবির।

ইকরামুল কবিরের ভাষ্যমতে, সরকারের এমন কোনো কাজ নাই, যেমন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোটগ্রহণ এমনকি গ্রামের পাকা পায়খানা বানানোর কাজটাও প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা করেন। উপরন্তু এই সব কাজ হয় স্কুল খোলা থাকার সময়। ফলে শিক্ষকদের যত ঘণ্টা পাঠদান করানোর কথা, ততক্ষণ তারা পাঠদান করাতে পারছেনা।

শিক্ষকদের অল্প বেতন, সেই সঙ্গে মর্যাদাও কম হওয়ায় এই পেশার প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের অনাগ্রহ তৈরি হওয়াকেও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।বিবিসি

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.