সংবাদ শিরোনাম
টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত রিকশাচালকের মেয়ে পান্নার  » «   বাবরি মসজিদের উপর রাম মন্দির নির্মাণের ঘোষণা!  » «   কবর থেকে বেরিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে কন্যাশিশু!  » «   মদিনাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫  » «   প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের বিষয়ে নির্দেশনা দিবেন রবিবার  » «   কুবির বঙ্গবন্ধু হল থেকে গাঁজা সেবনকালে ছাত্রলীগের ২ নেতাসহ আটক ৩  » «   বিশ্ব এ্যানেসথেশিয়া ও মেরুদণ্ড দিবস পালন  » «   রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   আওয়ামীলীগ মাঠ থেকে পালিয়ে যাবার দল নয় : মোহাম্মদ নাসিম  » «   নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে গাড়ী ভর্তি ভারতীয় সুপারীসহ আটক ১  » «   লন্ডনে সাংবাদিক শফিকুলকে ফার্মল্যান্ড ফুড এন্ড এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের সংবর্ধনা  » «   দক্ষিণ সুরমা থেকে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক  » «   নগরীর ঘাসিটুলা সবুজ সেনা থেকে ৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার  » «   মোগলাবাজারে বৈদ্যুতিক পোল চুরিকালে সাত জন আটক  » «   পপি আত্মহত্যা: প্ররোচরনা আইনে মামলায় দুলাভাই গ্রেপ্তার  » «  

অফিস সফরে যৌনক্রিয়ায় কর্মীর মৃত্যুর দায় কোম্পানির

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::ফ্রান্সে এক কর্মী অফিসের কাজে সফরে গিয়ে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হন। এরপর হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। দেশটির এক আদালত বলছে, এই মৃত্যু চাকরি-সংক্রান্ত ঘটনা। এর দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে তার প্রতিষ্ঠানকে। এমন এক অদ্ভুত ঘটনার কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
খবরে বলা হয়, আদালতের নথিতে ওই কর্মীর নাম বলা হয়েছে জ্যাভিয়ের। তিনি একটি রেল প্রকৌশল কোম্পানিতে কাজ করতেন। ২০০৩ সালে লোইরেত নামে একটি স্থানে সিকিউরিটি টেকনিশিয়ান হিসেবে তাকে পাঠানো হয়। একদিন কাজ শেষে তিনি রাতে একজন মহিলার সঙ্গে যৌনক্রিয়ায় মিলিত হন। এরপর নিজ হোটেলে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ডাক্তারি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই রাতের ঘটনার সঙ্গে তার হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে।
স্বাস্থ্য বীমা কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্যাভিয়েরের মৃত্যুর সঙ্গে তার চাকরি বা কাজের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, তারা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি, তাদের কর্মী চাকরি সংক্রান্ত সফরে গেলেও, তিনি কাজ ফেলে একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত হন। ফলে এই ঘটনা কোম্পানির দায়িত্বের সীমারেখার মধ্যে পড়ে না।
বিষয়টি উচ্চ আদালতে গেলে প্যারিসের আপিল আদালত বীমা তহবিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। মে মাসে এই রায় দেয়া হলেও, সম্প্রতি এই রায়ের বিস্তারিত লিঙ্কডইনে প্রকাশ করেন শ্রমিক সংক্রান্ত বিবাদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সারাহ বুলেট। এরপরই এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয় বিশ্বজুড়ে।
কোনো সফরে যদি কোনো কর্মীর দুর্ঘটনা ঘটে, আর তা যদি ওই কর্মীর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রাসঙ্গিক না-ও হয়, তারপরও তা অন্যান্য অনেক দেশের মতো ফ্রান্সের আইনে আমলে নেওয়া হয়।
প্যারিসের আদালত বলেছে, নিত্যদিনের কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা এ ধরণের সফরের পুরোটা সময়ই এই আইনবলে সুরক্ষিত থাকেন। তবে তারা যদি চাকরি সংক্রান্ত কাজ বাদ দিয়ে অন্য কিছু করেন, তাহলে তা আমলে নেয়া হবে না।
সুতরাং, বীমা তহবিল ও জ্যাভিয়েরের কোম্পানির মধ্যে মূল মতপার্থক্য ছিল, জ্যাভিয়েরের ওই রাতের যৌনমিলন কি সাধারণ কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে, নাকি ‘চাকরি সংক্রান্ত কাজে’র বাইরের কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। বীমা কর্তৃপক্ষের যুক্তি, যৌনমিলন একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ‘গোসল করা কিংবা খাবার খাওয়া’র মতোই দৈনন্দিন ও স্বাভাবিক বিষয়। সুতরাং, এটি অবশ্যই ‘চাকরি-সংক্রান্ত সুরক্ষা’র আওতায় পড়বে।
অপরদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এমন কোনো সময়সূচি হাজির করতে পারেনি যে, ওই কর্মী যখন যৌনমিলনে লিপ্ত হয়, তখন তার কাজ করার কথা ছিল। ফলে আদালত বীমা কর্তৃপক্ষের যুক্তি মেনে নেয়।
আইনজীবী সারা বালুট লিখেছেন, ‘এ ধরণের রায়ের কোনো নজির নেই।’ তার মতে, আরও উচ্চতর আদালতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে যা পেশাসংক্রান্ত কর্মকান্ডের বাইরে, সুতরাং, এই আইন প্রশ্নবিদ্ধ।’
প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান জাইড-এর আইনজীবী অরেলিন বুল্যাঙ্গার অবশ্য মনে করেন, এই রায় তাকে খুব একটা বিস্মিত করেনি। তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বিস্ময়কর মামলা রয়েছে। যেমন, গাড়ি চালানোর সময় এক কর্মীকে ভীমরুল কামড় দিয়েছে। একেও চাকরি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, যদি কোনো কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কর্মক্ষেত্রে অথবা কাজের সময়, তাহলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ করতে হবে যে, এর সঙ্গে কাজের কোনো যোগসূত্র নেই। কিন্তু তখন এমনটা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়।
কোনো দুর্ঘটনাকে যখন ‘চাকরি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে আদালতে যায় নানা কারণে। একটি কারণ হলো, প্রত্যেকটি চাকরি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই কোম্পানির সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়াতে হয়, যা অনেকসময় বেশ বড় অংকের হয়ে থাকে।
ফরাসি জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা তহবিলের নিয়মানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাহলে তার সঙ্গী ওই কর্মীর বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পেনশন পাবেন। পাশাপাশি, বীমা কোম্পানি ওই ব্যক্তির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আংশিক খরচ বহন করেন। আর ওই ব্যক্তির সঙ্গী এককালীন প্রায় ৩৮০০ ডলার পান।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.