সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা  » «   সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাঁচায় মাদক কারবারি গ্রেপ্তার  » «   জগন্নাথপুরের পাটলী সাতহাল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিনের ইন্তেকাল  » «   বিয়ানীবাজারের জিরো পয়েন্টের চরিয়ার রাস্তায় গাছ ফেলে দুধর্ষ ডাকাতি  » «   চীনে দাড়ি, বোরকা জন্য মুসলিমদের বন্দি  » «   আয়রন ম্যানের মতো আকাশে উড়ে গেলেন ভিন্স রেফেট  » «   উনিশের যুবারাই রাঙালো প্রস্তুতি ম্যাচ  » «   জগন্নাথপুরে টমটমের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু  » «   তাপস পালের মৃত্যুতে শোকস্তদ্ধ টলিউড  » «   অভিনেতা তাপস পাল মারা গেছেন  » «   করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাকর্মীদের সংখ্যা নিয়েও মিথ্যা বলছে চীন?  » «   চীনে পানি সমস্যায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা!  » «   পাকিস্তানে বিষাক্ত গ্যাস লিক, নিহত ৮  » «   প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৭ হাজার ১৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়  » «   বিএনপি-জামায়াতের ঘাড়ে সওয়ার ড. কামালরা জনবিচ্ছিন্ন  » «  

প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে ॥ অতঃপর স্বামীর পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানী

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::অভিনব কৌশলে এক তরুণকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছে সুবর্ণা নাহার সাথী নামে এক সুন্দরী নারী। এ নারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবার জন্য বিচারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী তরুণের মা সহ পরিবারের লোকজন।

জানা গেছে, যশোর জেলাধীন কোতায়ালি থানার চুড়ামনকাঠি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের সুন্দরী কন্যা সুর্বণা নাহার সাথী অভিনব প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে গত ২৫ আগস্ট ২০১৮ইং বিয়ে করে মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম সানি নামে এক তরুণকে। সানি নরসিংদী সদর উপজেলা মাধবদী থানাধীন নওপাড়া গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। তরুণী ঢাকার বসুন্ধরা এফব্লকের ১৪ নম্বর রোডের ৬৪ নং হাউজে এক ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে।

সানির মা সেলিনা হক জানান, ছেলে প্রেম করে বিয়ে করেছে, তার বাবা মেনে নিয়েই বাড়িতে জায়গা দিয়েছিল। কিন্তু সাথী যে বিয়ের নামে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় তা আগে জানা ছিল না। এ মেয়ে নাকি ঢাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সাথে জড়িতও রয়েছে। সানিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে সে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। সাথী মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে তার ছেলেকে।

তিনি আরো জানান, সাথীর সাজানো মামলার জালে বন্দি তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রমাণ করতে না পাড়ায় আদালত সানি ও তাদের পরিবারকে একটি মামলায় জামিনে মুক্তি দিয়েছে। তার পরও সে মাধবদীতে এসে সানির সাথে ঘর-সংসার করার কৌশল অবলম্বন করে তাদের বাড়িতে আসে।

এ খবর জানাজানি হলে এলাকার উৎসুক জনতা তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষনিক জানানো হয়। পরে সাথীর বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু সে তা না করে উল্টো আরেকটি নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণ মামলা সাজিয়ে তার চাকরিজীবী বড় ছেলেসহ মোট চারজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করে। মামলার ভয়ে তার ছেলেরা এখন বাড়ি ছাড়া রয়েছেন। প্রতারণাকারী এ নারী নিঃস্ব করে দিচ্ছে তাদের সংসার। যে কোন সময় তাদের বড় ধরনের বিপদে ফেলে দিবে বলেও তিনি জানান। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত করে এর বিচারের দাবি জানান।

বসুন্ধরা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনশ’ ফিট এলাকায় সাথীর বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সাথে সংঘ রয়েছে, সে বাইকার গ্রুপের সদস্য। সানী মোটরসাইকেলে চড়ে তাদের ব্যবসায়ী কাজে ওই এলাকা দিয়ে রাজধানীতে যেত। প্রায় বছর খানিক আগে একটি দোকানে পরিচয় ও ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হলে তার পাতানো জালে ফেঁসে যায় সানি।

আরো জানা যায়, সানির সাথে বিয়ে হয়েছে তার কাবিননামায় সাথী নিজেকে কুমারী দাবি করলেও সম্প্রতি রাজধানীতে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলস্ ম্যানাজার মহিবুল ইসলাম শাওন নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ে করেন সুর্বণা নাহার সাথী। বিয়ের পর মোহাম্মদপুরে বসবাস করার কয়েক মাস পর বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার এক প্রতিবেদনে চলে আসে এই সুন্দরী নারীর আসল কাহিনী”।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর থেকে এসএসসি পাস করে চাকরি খোঁজার জন্য ঢাকায় আসেন সুর্বণা নাহার সাথী পরে তার সাথে একটি শপিং মলে পরিচয় হয় শাওনের। তার মোবাইল নম্বরে কয়েক দিন কথা বলার পর হঠাৎ ১০ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেন দু’জনে। কিন্তু ভুক্তভোগী শাওন ওই প্রতিবেদনে বলেন, এ নারী তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন, তার কথা ও কাজের সাথে কোন মিল নেই। সাথী তার চক্রের মাধ্যমে কাবিনের টাকা দাবি করেন। তার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।”

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সাথীর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া ছিল উচ্চ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও মডেলের কাজে জড়িত সে। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতাদের সাথে ছবিও দেওয়া ছিল তার প্রোফাইলে। কিন্তু সবই প্রতারণা করার কৌশল।

এ বিষয় সাথীর সাথে কথা হলে সে জানান, সানীর বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা আদালত দেখবে। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান সাথী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, সানীর পরিবার সাথীর বিষয়টি গত ১৬ ডিসেস্বর আমাকে অবগত করলে স্থানীয়দের নিয়ে বসা হয়, তাতে সাথীর বাবা-মাকে এনে এর মিমাংশা করার জন্য বলা হয় সাথীকে। তার দুই দিন পর জানতে পারি ওই মেয়ে নাকি সানিসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষন মামলা করেছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান জানান, সুর্বণা নাহার সাথী নিজেই বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে সানীর পরিবারের বিরুদ্ধে। একটিতে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে ও অপরটিতে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে তার স্বামী সানি ও ভাসুরসহ চার জন জোরপূর্বক তাঁকে গণধর্ষণ করে। মামলাটি থানায় তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এলাকাবাসীরা বলছে, মামলায় গণধর্ষনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে তাঁর বড় ভাই ধর্ষন করতে পারে, এটাকি বিশ্বাসযোগ্য? পুলিশ তদন্ত করে মামলা নিলে হয়তো সানী ও তাঁর পরিবারের লোকজন হয়রানীর শিকার হতো না। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.