সংবাদ শিরোনাম
বড়লেখায় মুজিব হত্যা: জড়িত একজনের স্বীকারোক্তি  » «   ৫ ডিসেম্বর এক দিনেই হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আ. লীগের সম্মেলন  » «   মৌলভীবাজারে তরুণী অপহরণের ঘটনায় মামলা:গ্রেপ্তার ২  » «   গোয়াইনঘাটে শ্বাসরোধ করে এক বৃদ্ধাকে হত্যা-মূল হোতা আটক  » «   ১শ’ টাকার জন্য খুন:নগরীর কাস্টঘর এলাকা থেকে গ্রেফতার ১  » «   টুকের বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই-কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি  » «   অবৈধ ভাবে বিভিন্ন প্রকার আমদানী পর এবার জৈন্তাপুরে ভারতীয় পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক উল্টে আহত ২  » «   সিলেটে চোরাই পথে আসা সাড়ে ৯ লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হবে ৪৫ টাকায় কেজি  » «   আমিরাতের শ্রমবাজার আবারও চালু হতে যাচ্ছে  » «   দেড়শ বছরেও হয়নি চা শ্রমিকের মজুরি ১৫০ টাকা  » «   জৈন্তাপুরে ১৮টি ভারতীয় গরু আটক  » «   হবিগঞ্জে দাম বেশি রাখায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে জরিমানা  » «   হবিগঞ্জে এক বছরে প্রাথমিকে পরীক্ষার্থী কমেছে  » «   সিলেটে ৪ দিনে কর আদায় ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা  » «   মর্গ থেকে ভেসে আসে হাতুড়ি পেটানোর শব্দ  » «  

অহঙ্কারী শব্দপ্রেমিক কবি

মাশুক চৌধুরী::কবিরাই প্রকৃত শব্দশিকারি। কবির কাব্যেই শব্দ পায় নতুন অর্থ- নতুন ব্যঞ্জনা। যদিও খেলতে খেলতেই কবি তাঁর কাক্সিক্ষত শব্দকে বন্দী করতে সক্ষম হন। খেলা হলেও সে খেলা বড় কষ্ট ও শ্রমসাধ্য খেলা, আর দীর্ঘস্থায়ী তো বটেই। কখনও কখনও সে খেলা খেলতে খেলতে জীবনও কেটে যায়। এর পরও সবাই শব্দের মহিমাকে উপলব্ধি করতে পারেন না। তবে কেউ কেউ পারেন; কবি জীবনানন্দ দাশ শব্দ নিয়ে কঠিন খেলায় পারা না পারার উপলব্ধিজাত অভিজ্ঞতা থেকেই হয়ত বলেছেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ এমন উপলব্ধি যে কবির কবিতায় বিধৃত হয়েছে, তাঁর কাব্যগ্রন্থের নাম অহঙ্কার, তোমার শব্দ ছাড়া অন্য কিছু হলে কি অর্থবহ হতো! কবির ‘শব্দ শব্দ খেলা’ কবিতায় শব্দকে নিজের করে কাছে টেনে নিতে না পারার যে বেদনাবোধ বিধৃত হয়েছে, তাতে অক্ষমতার করুণ কাতর আর্তি উচ্চারিত হয়নি, বরং উচ্চারিত হয়েছে কবির সাধনাবোধ অর্থাৎ সচেতনতা। কবিতায় শব্দকে বন্দী করা যে শুধু খেলা নয়Ñ সাধনাও, এ সত্য কথাটিই আলোচ্য কবিতাটির মূল উপলব্ধি।

এ কাব্যসত্যটি যে কবির কাব্যোপলব্ধিতে ধরা পড়েছে তিনি বিমল গুহ। এ কবির প্রথম কবিতা গ্রন্থের নাম আঁকা হয়েছে, অহঙ্কার, তোমার শব্দ চিত্রে। কিন্তু এই ‘তোমার’ কে? কবিতা, না কোনো রক্ত-মাংসের নায়িকা? কাব্যগ্রন্থের কবিতা থেকে যে উত্তর আসে তাতে মনে হয় উভয়ই। তাঁর এই গ্রন্থের একমাত্র কাব্য নায়িকার নাম ‘তুমি’। এই তুমি কখনও কবিতা, কখনও রক্ত-মাংসের নারী, কখনও-বা স্বদেশের মুখ। এই সব নায়িকা কবির কাব্যে যে তুমিতে এসে সংহতি পেয়েছে সে নাম কবিতা। শব্দই কবির কাছে অনুভূত হয়েছে অহঙ্কারের মতো। এদিক থেকেও গ্রন্থের নামকরণের অন্য একটি অর্থ আবিষ্কার করা যায়। কবি যখন বলেনÑ

‘আগুন আকাশকে ছুঁতে পারে না

বিশ্বাস আকাশকে ছোঁয়

বাতাস পাহাড়কে নাড়াতে পারে না

প্রেম পাহাড়কে নাড়ায়।’

তখন আর কবির প্রেমে বিশ্বাস এবং বিশ্বাসের দৃঢ়তা সম্পর্কে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করার যুক্তি থাকে না। বরং কাব্যগ্রন্থের ‘আলোকবর্তিকা’ শীর্ষক প্রথম কবিতায় উচ্চারিত উদ্ধৃত এই চারটি পঙ্ক্তিকে কবির সমগ্র কাব্যের রহস্য উন্মোচনের মূল চাবি হিসেবে গণ্য করা যায়। কবির কাছে বিশ্বাস আর প্রেম অসম্ভবকে সম্ভব করার হাতিয়ার বলেই কবি আকাশ ছুঁতে পারেন, পারেন পাহাড়কে নাড়াতে।

শব্দসচেতন এ কবি কিন্তু ছন্দসচেতনও। ‘ইচ্ছে আমার’ কবিতাটির ছন্দের দোলা সহজেই পাঠক-মনকে আন্দোলিত করেÑ

‘ইচ্ছে আমার মেঘের ছোটাছুটি

উতরালি দিগন্তে যাক উড়ে

ইচ্ছে আমার মোহন বাঁশিটিকে

বাজাই বসে মগ্ন চতুর্দিকে

নগ্ন আকাশ জুড়ে।’

‘খসড়া’ আর একটি নিটোল প্রেমের কবিতা। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো স্বচ্ছন্দ এ কবিতায় কবি নিত্য ফুল ফোটে এমন এক নায়িকার দুয়ারে ভোমরাগুলো কীভাবে বুকের কাছে ওড়ে, তার বর্ণনা দিয়েছেন। হৃদয় ছেঁড়া এ বর্ণনায় বিবৃত হয়েছে মহৎ কবিতার লক্ষণ।

‘চব্বিশের কোঠায় এসে’ কবিতাটি সম্পূর্ণ আত্মজৈবনিক। নিজের জীবনের চব্বিশ বছরের উদ্দামতা আর দ্বিধা-দ্বন্দ্বের স্বগত ভাষণে ধরা পড়েছে চিরন্তন সত্যÑঅধিকাংশ মানুষের চব্বিশ বছরের অনুভব। চব্বিশ বছরে পা দিয়েই চমকে ওঠা এবং চব্বিশ বছরের দৃষ্টিতে সবকিছু ভাল লাগা এবং চব্বিশের কোঠায় এসে অন্তর্দ্বন্দ্বে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু কবির অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ অভিজ্ঞতা অধিকাংশ যুবকেরই। ফলে আত্মকথনমূলক এ কবিতায় ধরা পড়েছে মানুষের চিরন্তন যৌবন-ধর্মের অনুভব।

‘স্বদেশী প্রেম, ৭৫’ একটি ভিন্ন স্বাদের কবিতা। এখানে সমকালের ক্ষুধা ধরা পড়েছে সার্থক চিত্রকল্পে।

‘ক্ষুধার ছায়া গোল বেঁধেছে

চোখের কোণে মলিন পুকুর

রাধা এখন একা-একাই

কুঞ্জবনে ক্লান্ত দুপুর।’

প্রেমের প্রতীক রাধাকৃষ্ণের ইমেজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে কবি ক্ষুধার নির্মমতা প্রকাশ করেছেন এ কবিতায়। পেটের পীড়নে যখন কৃষ্ণের শরীর কাঁপছে তখন তার মোহনবাঁশিটি কে বাজাবে! আর রাধাও এখন একা-একাই কুঞ্জবনে, কেননা তারও চোখের কোণে এখন ক্ষুধার ছায়া। তাই প্রেমরাগিণী বন্ধ, মোহন বাঁশি আর বাজে না এবং এই পরিবেশে তা সাজেও না।

কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ অহঙ্কার, তোমার শব্দ-এর সব কবিতা বিস্তারিত মন্তব্য এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দাবি করে, অধিকাংশ কবিতাই আলোচিত হওয়ার মতো। কবি তাঁর প্রথম গ্রন্থেই শব্দ ও ছন্দ-সচেতনতা এবং উপমা প্রতীক ও চিত্রকল্প ব্যবহারে যতটুকু কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তাতে কবির সম্ভাবনাময়ী দিকটি শুরুতেই উজ্জ্বল হয়ে ধরা পড়েছে পাঠকের চোখে। গ্রন্থের কবিতাগুলোতে বিষয়বৈচিত্র্য ও কবির অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতা বিধৃত হয়েছে।

২.

বিমল গুহর প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালের ডিসেম্বরে। এখন ২০০২। ২০ বছরে আগে প্রকাশের মাস চারেকের মধ্যেই বইটি সম্পর্কে একটি পরিচিতমূলক রচনা লেখার সুযোগ পেয়েছিলাম।

এরপর বিমল গুহর অনেকগুলো কবিতার বই বেরিয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০০১-এ প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচিত কবিতা। নির্বাচিত কবিতা নতুন বই হলেও নতুন কবিতার বই নয়। পূর্বে প্রকাশিত বইগুলো থেকে নির্বাচিত কবিতার সঙ্কলন মাত্র।

নির্বাচিত কবিতা পড়তে পড়তে মনে প্রশ্ন জাগে কী পেলাম কবির সৃষ্টির মধ্যে? সেই যে প্রথম বইয়ের কবির মধ্যে লক্ষ্য করেছিলাম শব্দসাধনা, শব্দের জন্য আকুতি, শব্দ নিয়ে কষ্টের খেলা, শব্দচর্চা, শব্দকে কবিতার অসংলগ্ন করার প্রয়াসÑ এই প্রবণতা কি বর্জিত হয়েছে? না, প্রথম থেকে এইনির্বাচিত কবিতা পর্যন্ত বিমল গুহর মধ্যে শব্দচেতনা সমান পরিমাণ ক্রিয়াশীল। কবির প্রথম কবিতার বইয়ের নামই অহঙ্কার, তোমার শব্দ। সে বইয়ে একটি কবিতার নাম ‘শব্দ শব্দ খেলা’। তিনি লিখেছেনÑ

‘শব্দ বড়ো প্রতিশব্দময়

ধরতে গেলে ধরা দেয় শব্দের জারজ

মুখে চুনকালি মেখে কোনদিন সঙ সেজে থাকে

লুকোচুরি খেলার নিয়মে খোলা দরজা পেলে

ঘরে ঢুকে পড়ে

প্রান্ত থেকে প্রান্তে ছুটে যায়।

এ বড়ো বিষম খেলা

খেলতে খেলতে বছর বছর কেটে যায়।’

কেউ কেউ পায় বলেই কবির কাছে শব্দগুচ্ছ চিত্রিত হয় ‘মাছের পোনার মতো’ চিত্রকল্পে, কবির তুমি ‘শব্দের বন্ধন থেকে ঝেড়ে মুছে সবটুকু গ্লানি’ সোচ্চার হয়ে ওঠে, একদিন ‘ম্লান শব্দ বাক্যের বন্ধনে এসে উচ্চারিত হয় ভালবাসা, কবি নিজের কাছেই প্রশ্ন করেন ‘কার প্রতীক্ষায় আছো, ‘হে আমার দুুঃখী শব্দাবলী? কার প্রতীক্ষায় কাটে বেলা? কার প্রতীক্ষায় দুঃখী শব্দাবলী ঘুমহীন থাকে?’

শব্দ নিয়ে এই সব প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয়েও কবি জানেন তাঁর অস্তিত্বে প্রচলিত শব্দ নয়, অহর্নিশ বেজে ওঠে সমুদ্রের গর্জন।

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ সাঁকো পার হলে খোলাপথÑ এ কবি কবিতার শব্দকে রক্তবিন্দুর উপমায় উপস্থাপন করেছেন। একটি শব্দ শুধু কবিতায় বলেছেন :

‘ভীষণ আকাল চারদিকে

কবিতার শব্দ যেন রক্ত বিন্দু হয়ে

মিছিলের পুরোভাগে হাঁটে,

লেভেল-ক্রসিং জুড়ে শুয়ে থাকে

বাক্যবন্ধ শেষ উচ্চারণ।’

‘একটি শব্দ উচ্চারণের মতো একটু সময়’ কবিতায় কবি স্পষ্ট করেই বলেছেন : কিছু থাকে না। মেঘ, বৃষ্টি প্রজাপতি, চাঁদ, আকাশের তারাÑ কিছুই স্থির থাকে না। নিয়ত বদলে যায় নিজের স্বরূপ। শব্দ কীভাবে বয়ঃপ্রাপ্ত হয় সে কথা উচ্চারিত হয়েছে ‘শব্দ’ কবিতায়Ñ

‘মূলত শব্দই মূর্ত শক্তিমান ধ্বনি

উচ্চারিত হতে হতে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়।’

তৃতীয় গ্রন্থ স্বপ্নে জ্বলে শর্তহীন ভোর-এ কবি বুঝতে পারেন মধ্য বয়সে শব্দ কীভাবে তাড়া করে তার অনুভবকে। কবি কবিতায় :

‘উচ্ছৃঙ্খল কিছু শব্দ মধ্যম বয়সে তাড়া দেয়

তরুণ কবিকে রাতদিন’

সমালোচকের প্রতি কবিতায় কবি শব্দের শরীরকে রক্তাক্ত হতে দেখেন। ভালবাসার কবিতা গ্রন্থে কবির তুমিকে লক্ষ্য করা যায় একটি শব্দের কাছে নতজানু হওয়ার ভঙ্গিতে। ‘অন্যরকম’ কবিতায় কয়েকটি শব্দের ভুল অনুকরণ উপভোগ প্রত্যাশী কবি বলছেন : ‘বড় বেশি লাজুক সুগন্ধিযুক্ত শব্দগুলো/ তোমার কুমারী-ঠোঁট ছেড়ে কিছুতেই বেরিয়ে আসতো না/তুমি কি ওদের তাড়াতে পেরেছো?/প্রিয় মিস্ট্রেস,।’

নষ্ট মানুষ ও অন্যান্য কবিতা গ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘নির্মাণ’। পুরোটাই কবির শব্দের পর শব্দ সাজানোর বিবৃতি। তারপর ‘কোলাহলের মাত্রা’ কবিতায় আছে কেমন করে ‘উঠে আসে বর্ণময় শব্দের চাতুর্থ’ সে কথার কাব্যিক বর্ণনা। ‘স্পর্শকাতর শব্দ’ কবিতায় আছে ‘মূর্খ’ ও ‘বাচাল’ শব্দ দুটো কেমন করে ‘মাথার ভিতর প্রায়শই টোকা মেরে দেয় ফুটো সেই উপলব্ধির কথা।’ ‘তুমুল শব্দের মাঝে’ কবিতায় ‘শব্দ মানে প্রেমে পড়া যুবকের আর্ত উচ্চারণ’ এমন সত্য উচ্চারিত হলেও ‘উপাখ্যান’ কবিতায় কবি সর্বত্রই ভাঙ্গনের শব্দ শুনতে’ পান।

কবির শেষ গ্রন্থের নামও রাখা হয়েছে ‘শব্দ সংযুক্ত করেÑ প্রতিবাদী শব্দের মিছিল। এক কবির ওপর হামলার প্রতিবাদে কবি দেখতে পানÑ দীর্ঘ রাজপথ জুড়ে প্রতিবাদী শব্দের মিছিলÑ হাঁটে অন্তহীন।

বিমল গুহ যে সময়ের কবি, সে সময়টা শুধু শব্দ নিয়ে খেলার সময় ছিল না। মানুষের সংগ্রাম, যুদ্ধ, রাজনীতি, প্রেম, স্বদেশ ইত্যাদ নিয়ে কবির শব্দচর্চা এ জন্যই খুব একটা কম নয়। কবির কবিতাগুলোতে সেই সব আবেগ উচ্ছ্বাস বার বার উঠে এসেছে। আমরা এই রচনাটিতে শুধু কবির ‘শব্দ ভাবনা’ নিয়ে সীমাবদ্ধ থেকেছি বলেই অন্য বিষয়গুলোতে সচেতনভাবে নীরব থেকেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে ‘শব্দ’ শব্দটি নিয়ে কবি যে এতগুলো কবিতা লিখেছেন তা বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো একটা বৈশিষ্ট্য।

নির্বাচিত কবিতার ভূমিকায় কবি জানিয়েছেন, ‘কেনো কবিতা লিখতে হলোÑ জানি না’। এই সরল স্বীকারোক্তির মধ্যে কী সত্যি আছে, আমরাও তা জানি না। তবে কবির কবিতার মধ্যে যে ‘শব্দ ভাবনা’ প্রবলভাবে বিধৃত হয়েছে, আমরা নিশ্চিতভাবেই সে সত্যটি আবিষ্কার করতে পেরেছি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.