সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত ১, আহত ১  » «   ন্যাপ সভাপতিসহ তামাবিল দিয়ে দেশে ফিরলেন আরও ১০ বাংলাদেশি  » «   লোভাছড়ায় পাথর সরবরাহে কোর্টের আদেশ   » «   হাইকোর্ট এর আদেশ মানছেন না তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন:জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন  » «   করোনা:সিলেটে মারা গেলেন আরেক চিকিৎসকের স্ত্রী  » «   মাহমুদুলের সহকারী থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি   » «   তামাবিল স্থলবন্দরে কাষ্টমস এসির সাথে ব্যবসায়ী নেতাদের সভা  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে এক পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন  করোনা আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১৭  » «   চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বন্দরবাজারের এক ব্যবসায়ী  » «   মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৩  » «   শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু  » «   সিলেটে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা : একদিনে আক্রান্ত ৮৬, মৃত্যু ৩  » «   ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু,এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২  » «   বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ মোশনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ  » «   গোয়াইনঘাটে এক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ৯  » «  

পিয়াজের কেজি ১২০

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে পিয়াজের দাম আরো বেড়েছে। পাইকারি বাজারে পিয়াজের কেজি এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আর খুচরা বাজারে পিয়াজের দাম উঠেছে ১২০ টাকায়। আমদানি ও সরবরাহ কমায় আবারো পিয়াজের দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। গতকাল কাওরান বাজার ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়ছে বিভিন্ন রকমের শীতের সবজির। দিন যত যাচ্ছে নতুন নতুন শাকসবজিতে ভরপুর হয়ে উঠছে বাজার। পাশাপাশি পণ্যের সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি পিয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।

কাওরান বাজারের পাইকারি বাজারেই দেশি পিয়াজের কেজি ১১০ টাকার ওপরে। আবার একেক আড়তে একেক রকম দাম লক্ষ্য করা গেছে। কোনো কোনো আড়তে ১১৫ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। বাজারটিতে গত সপ্তাহে যে আমদানি করা পিয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল তা সপ্তাহের ব্যবধানে এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে মিসরের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা দরে। মিয়ানমার থেকে আসা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়। আর দেশি পিয়াজ এর থেকে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে রাজধানীর অন্যান্য বাজারগুলোতে পিয়াজ বড় সাইজগুলো ১১৫ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য প্রায় সব দোকানেই ভিন্ন ভিন্ন দামে পিয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোলায়মান জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পিয়াজ দেখা গেলেও গত সপ্তাহের থেকে পিয়াজের সরবরাহ কমেছে। আমরা দেশি পিয়াজ ১০০ টাকার উপরে বিক্রি করছি। পিয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

আরেক পাইকারি বিক্রেতা আমীর আলী বলেন, পিয়াজের দাম আবার বেড়েছে। আর কমবে বলে মনে হচ্ছে না। বাজারে নতুন পিয়াজ উঠতেও অন্তত দুই মাস বাকি আছে। তখন হয়তো পিয়াজের দাম কমবে।
আরেক বিক্রেতা নাসির বলেন, মিসরের পিয়াজ এখন ৯৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাস খানেক আগে যখন আমদানির সুযোগ দেয়া হয় তখন এই পিয়াজের দাম ছিল কেজিতে ৬০ টাকা।

কাওরান বাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয়ের মালিক হাবিবুর রহমান মোস্তফা বলেন, বাজারে পিয়াজের দাম খুব বেশি ওঠা-নামা করছে। মোকামগুলোতে দাম বেড়েই চলছে। বেশি দামে কিনে আনায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগের চেয়ে এখন পিয়াজের বিক্রিও কম। দাম বাড়তি থাকায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান আশফাক নামের আরেক বিক্রেতা।

বাজারে ভারতীয় নতুন পিয়াজ আসা শুরু করেছে জানিয়ে আরেক পাইকারি বিক্রেতা কাদের মিয়া বলেন, শ্যামবাজারে নতুন পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জেনেছি। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো বাজারে দেশি পিয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন পিয়াজের দাম কমে যাবে।

কাওরান বাজারে পিয়াজ কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা রহিম বলেন, দাম বাড়ায় আগের চেয়ে এখন পিয়াজ কম কিনি। তারপরও তো আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। বাজার খরচ সামাল দিতে গিয়ে এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে, মহাখালীর বউবাজারে দেশি পিয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভারতীয় পিয়াজের কেজি ১১০ টাকা। এই বাজারের পিয়াজের বিক্রেতা আমিন বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে পিয়াজের দাম আরো ১০ টাকা বেড়েছে। নতুন পিয়াজ না উঠলে বাজারে হয়তো আর দাম কমবে না। মগবাজার মধুবাগ বাজারেও একই দামে পিয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা দাম কমে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগে এসব বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর শিম বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা-ধুন্দুল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা (প্রকারভেদে) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস বাঁধা কপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারে আসা ক্রেতা জুয়েল রানা বলেন, গত সপ্তাহের থেকে প্রায সব সবজিতে দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের থেকে পটলের দাম কমেছে ১০ টাকা, সিমের দাম কমেছে ২০ টাকা আর বেগুনের দাম কমেছে ১০ টাকা। তবে সরবরাহ অনুযায়ী দাম আরো কিছুটা কমা উচিত।

এদিকে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া কাঁচামরিচ এ সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচামরিচ। বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। বৃষ্টি না থামলে দাম আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের ২৫০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-২০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দামে ২৫০ গ্রামে বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৭০০ টাকা, মাগুর ১৮০-২০০ টাকা, সুরমা ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ টাকা, রুই ২৩০-৩০০ টাকা, কাতলা ২৫০-৩০০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৮০০ টাকা, ছোট ইলিশ ৬৫০-৮০০ টাকা, বড় ইলিশ ১২০০-১৫০০ টাকা এবং প্রতি কেজি রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৬০০-১২০০ টাকায়।

আর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা, কক মুরগি ২৪০-২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। এদিকে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.