সংবাদ শিরোনাম
বড়লেখায় মুজিব হত্যা: জড়িত একজনের স্বীকারোক্তি  » «   ৫ ডিসেম্বর এক দিনেই হবে সিলেট জেলা ও মহানগর আ. লীগের সম্মেলন  » «   মৌলভীবাজারে তরুণী অপহরণের ঘটনায় মামলা:গ্রেপ্তার ২  » «   গোয়াইনঘাটে শ্বাসরোধ করে এক বৃদ্ধাকে হত্যা-মূল হোতা আটক  » «   ১শ’ টাকার জন্য খুন:নগরীর কাস্টঘর এলাকা থেকে গ্রেফতার ১  » «   টুকের বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই-কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি  » «   অবৈধ ভাবে বিভিন্ন প্রকার আমদানী পর এবার জৈন্তাপুরে ভারতীয় পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক উল্টে আহত ২  » «   সিলেটে চোরাই পথে আসা সাড়ে ৯ লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হবে ৪৫ টাকায় কেজি  » «   আমিরাতের শ্রমবাজার আবারও চালু হতে যাচ্ছে  » «   দেড়শ বছরেও হয়নি চা শ্রমিকের মজুরি ১৫০ টাকা  » «   জৈন্তাপুরে ১৮টি ভারতীয় গরু আটক  » «   হবিগঞ্জে দাম বেশি রাখায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে জরিমানা  » «   হবিগঞ্জে এক বছরে প্রাথমিকে পরীক্ষার্থী কমেছে  » «   সিলেটে ৪ দিনে কর আদায় ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা  » «   মর্গ থেকে ভেসে আসে হাতুড়ি পেটানোর শব্দ  » «  

সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব, একতা, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, ঐক্যের প্রতীক

এম,এ,রউফ::২০১৫ সালে স্বল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব। সেই অনলাইন প্রেস ক্লাব এখন হয়ে উঠেছে মহীরুহ। এটি এখন কেবল অনলাইন সাংবাদিক বৃন্দের ঠিকানাই নয়, বরং একতা, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, ঐক্যের প্রতীক, সংস্কৃতি, আলোচনা, শিক্ষা, প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন-সবই এই বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়ে আসবে। সিলেটবিভাগের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সিলেটবিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবে আপনাকে স্বাগতম ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সিলেটবিভাগে প্রথম আত্মপ্রকাশ করলো “
সিলেটবিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব”। ২০১৫ ইং
তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সিলেটবিভাগে সৃষ্টি হলো একটি নতুন অধ্যায়।
সিলেটবিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব ”গঠন করে সিলেটবিভাগে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।
টাটকা জিনিসের স্বাদ আর চাহিদাই আলাদা। কদরও বেশি। টাটকা বা তাজা খবরের চাহিদা ও কদর তাই বেশি, পেলেই পাঠক লুফে নেন। সাংবাদিকতায় এখন প্রকৌশল বা তথ্যপ্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। আধুনিক এই যুগে পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটনা ঘটুক না কেন, তা মুহূর্তের মধ্যে আমাদের নাগালে চলে আসছে। সেই খবর তখনই পাঠকের জন্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অনলাইন পত্রিকা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে অনলাইন সাংবাদিকতা।
অনলাইন সাংবাদিকতা, যাকে আমরা ডিজিটাল সাংবাদিকতাও বলি সেটি আসলে কী?
অনলাইন সাংবাদিকতা হচ্ছে, হালের সাংবাদিকতার একটি ধরন যার বিষয়বস্তু কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট বিতর্ক আছে। খবর বা ফিচার যখন পাঠ্য বিষয়, অডিও, ভিডিও ও ইন্টারঅ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে আমরা অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি। অন্যভাবে বলতে গেলে, অনলাইন পত্রিকা হলো একটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ যা এককভাবে শুধু অনলাইনে প্রকাশিত অথবা কোনো মুদ্রিত সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ হিসেবেও প্রকাশিত হতে পারে।
ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা না থাকায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এ মাধ্যমের পাঠক ছিল হাতে গোনা। এরপর মানুষের হাতের নাগালে সহজে ইন্টারনেট চলে আসে। বাড়তে থাকে অনলাইন পত্রিকার পাঠক। দেশে বর্তমানে কয়েক ধরনের নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন পত্রিকা রয়েছে : ১. ডেইলি ইভেন্ট নিউজ পোর্টাল ২. বিশেষ সংবাদভিত্তিক নিউজ পোর্টাল ৩. বিশেষায়িত নিউজ পোর্টাল ৪. মিশ্র নিউজ পোর্টাল।
অনলাইন সাংবাদিকতা আসলে পাঠককে সময়ের সঙ্গে চলতে সাহায্য করে। যে কোনো সময়ে যে কোনো খবর অনলাইন পত্রিকা সবার আগে প্রকাশ করতে পারে। সে কারণে অনলাইন সাংবাদিকতা হচ্ছে সবচেয়ে আধুনিক। এই সাংবাদিকতা চতুর্মাত্রিক। অনলাইন পত্রিকায় সাধারণত চারটি মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। লেখা, ছবি, অডিও এবং ভিডিও। অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এই সুযোগ নেই বললেই চলে।
সংবাদপত্রকে অনেকে বলেন তাড়াতাড়ির সাহিত্য। অনলাইন সাংবাদিকতাকে সেক্ষেত্রে বলতে হবে অতি তাড়াতাড়ির সাহিত্য। কারণ এখানে প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি সেকেন্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন সাংবাদিকতায় সময় যেহেতু মূল বিবেচ্য বিষয়, সেকারণে অনলাইন সাংবাদিকদের চাপের মধ্যেই কাজ করতে হয়। যেকোন সংবাদ দ্রুততার সঙ্গে পাঠাতে হয়। পাশাপাশি অনলাইন পত্রিকার সুবিধা অনেক। ছাপা খরচ নেই। পত্রিকা বিলি করা বা পৌঁছে দেয়ার ঝক্কি নেই। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে খবরটি অনায়াসে পাঠককে জানিয়ে দেয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় কোন নিউজটি কতজন দেখেছে। সহজেই জানা যায়, কোন স্থান থেকে, কোন দেশ থেকে কত পাঠক সেই মুহূর্তে ওই অনলাইনটি দেখছে। কোন খবর পাঠক বেশি দেখছে বা পড়ছে  সেটাও সহজে জানতে পারে অনলাইন পত্রিকা। ফলে চাহিদা অনুযায়ী খবর দেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অনলাইন পত্রিকায় পাঠক সংবাদের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। পাঠক ইচ্ছা করলে ওই সংবাদসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে পারেন, ছবি, ভিডিও, অডিও শেয়ার করতে পারেন। এছাড়া অনলাইন পত্রিকায় খবরের যে কোনো ভুলভ্রান্তি সহজেই শুধরানো বা সংশোধনের সুযোগ থাকে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা টেলিভিশনে একটি সংবাদ একবার প্রচার হয়ে গেলে তা দ্বিতীয়বার দেখতে পরবর্তী সংবাদ সম্প্রচারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আর কাগজের পত্রিকা প্রকাশ হয় ২৪ ঘণ্টা পরপর। অনলাইন পত্রিকা চলমান ঘটনার সংবাদ প্রকাশের একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। এতে আর্কাইভ থাকে, যে কোনো পাঠক ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় তার পছন্দের সংবাদটি পড়তে পারেন। প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করতে পারেন, খবরের লিংক অন্যকে পাঠাতে পারেন ইচ্ছে মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন অনেক ক্ষেত্রে খবরের উৎস হিসেবে কাজ করছে। সেখানে এখন অনেকেই নিউজ শেয়ার করছেন। শিরোনাম পছন্দ হলে অনেকেই লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ে নিচ্ছেন। এছাড়া যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে, মোবাইল ফোনেই অনলাইন পত্রিকা পড়তে পারছেন পাঠক। যে কারণে প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে এখন অনলাইন মিডিয়ার প্রতি পাঠক ঝুঁকছেন।
বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে অনলাইন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে যথেষ্ট সর্তক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম আর বিকল্প গণমাধ্যমের ফারাক অনেক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা তেমন একটা থাকে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না। সেক্ষেত্রে ওই তথ্যকে সংবাদ নয়, বড় জোর সংবাদসূত্র বলা যেতে পারে। অনলাইন এখন গণমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশে অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিককে এই নীতিমালা মেনে চলতে হবে। সচেতন হতে হবে তার দায়িত্ববোধ সম্পর্কে। সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও মাথায় রাখতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। একটি অনলাইন পত্রিকার চালকের আসনে যারা থাকবেন, তাদের আসলে সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। পাঠকের চাহিদার কথা বুঝতে হবে, প্রযুক্তি বুঝতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা তাদের খবরের মানুষ হতে হবে।
আর তাতেই সাংবাদিকতার মঙ্গল, সমাজের মঙ্গল। দেশ, জাতি সবার মঙ্গল।
অনলাইন সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য-
১. তাৎক্ষণিকতা:যে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই রেডিও টিভির মতো এতে প্রকাশ করা যায়। আবার মেইলে খবরের আপডেট পাঠানোরও সুবিধা আছে। গুগল ফিডবার্নারসহ বিভিন্নভাবে এটা করা সম্ভব। আজ সকালে ঘটে যাওয়া খবরটি কাগজের পত্রিকার পাঠকেরা পাবেন পরদিন সকালে। আর অনলাইনের পাঠকেরা ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা পাবেন।
• ২. স্থায়িত্ব:অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। প্রকাশিত রিপোর্টগুলো আর্কাইভ করে রাখার ব্যবস্থা থাকায় তা যে কোনো সময় দেখা যায়। অন্য যে কোনো মিডিয়ার (প্রিন্ট, রেডিও ও টিভি) চেয়ে এটা খুঁজে বের করা অনেক সহজ।
• ৩. উপভোগ্য:অনলাইন সংবাদপত্রে লেখার পাশাপাশি গ্রাফিক্স, অডিও, গান, ভিডিও ফুটেজ ও অ্যানিমেশন সংযুক্ত করা সম্ভব। ফলে এটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
• ৪. ইন্টার-অ্যাকটিভ (interactive)অনলাইন সাংবাদিকতা একটি ইন্টার-অ্যাকটিভ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পাঠকের মতামত জানা ও পাঠককে নিজের মতামত দ্বারা প্রভাবিত করার সুযোগ বিদ্যমান। এখানে একটি লেখার সঙ্গে একই বিষয়ের অন্যান্য লিংক প্রদান করা যায়। ফলে পাঠক খুব সহজেই একই বিষয়ে অন্যান্য লেখা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। তাছাড়া এতে লেখার সূত্র উল্লেখ করা যায় বিধায় পাঠক রিপোর্টের বা লেখার বস্তনিষ্ঠতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
• ৫. পূর্ণাঙ্গ, সমৃদ্ধ ও সর্বশেষ সংবাদ পরিবেশনাঅনলাইন সংবাদপত্রে জায়গার কোনো সমস্যা নেই। কিংবা রেডিও টিভির মতো সময়েরও সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে একজন অনলাইন সাংবাদিক তার স্টোরিকে বিভিন্ন তথ্যে সমৃদ্ধ করে প্রকাশ করতে পারেন। আবার প্রিন্ট মিডিয়ায় একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে তা আর সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনলাইনে এ ধরনের সমস্যা নেই। এ জগতের সাংবাদিকরা ঘটনা ঘটার সঙ্গেই তা আপডেট করে দিতে পারেন।
• অনলাইনে অপেক্ষাকৃত কম জনবল দিয়ে, কম টাকা বিনিয়োগ করে একটি ভালো গণমাধ্যম করা যায়। কারণ এখানে ছাপাসংক্রান্ত জটিলতা ও ব্যয় নেই। একশ কোটি টাকার নিচে যেখানে মোটামুটিমানের সংবাদপত্র প্রকাশের চিন্তা করা যায় না সেখানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে ভালোমানের অনলাইন পত্রিকা করা যায়।
• অনলাইন সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা হলো কে কার আগে সংবাদ পরিবেশ করতে পারে। কার চেয়ে কত আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারে। যারা সবার আগে সব খবর দিতে পারে তাদের সাইটেই ভিজিটর বেশি হয়। পাঠক ধরে রাখার জন্য অনলাইনে অনেক কৌশল করতে হয়। তবে তাৎক্ষণিকতার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি। অনলাইন সংবাদপত্র একবার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে সহজে তা ফেরাতে পারে না।
লেখক,সাংবাদিক,জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন।সিনিয়র সহ-সভাপতি সিলেটসিটি প্রেসক্লাব
সহ-সভাপতি সিলেটবিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাব

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.