সংবাদ শিরোনাম
মধু ও কালোজিরায় করোনা থেকে যেভাবে সুস্থ হলাম: গভর্নর  » «   বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা নিয়ে যা বললেন শাইখ সুদাইস  » «   জাফলংয়ে সাড়ে ৮শ’ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ  » «   জাফলংয়ে অসহায় মানুষের পাশে ট্যুরিস্ট পুলিশ  » «   নিউইয়র্কে করোনায় বাংলাদেশ সোসাইটির নেতার মৃত্যু  » «   করোনা: আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ও মৃত্যু ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে  » «   শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এক নারীর মৃত্যু  » «   করোনা ভাইরাস : ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পাইলট এখন ডেলিভারি ভ্যানের চালক  » «   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইসিইউতে  » «   করোনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স আজ  » «   এবার করোনায় আক্রান্ত বাঘ  » «   যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘন্টায় আরও ১২০০ জনের মৃত্যু  » «   ছোট অপরাধীদের মুক্তি দিতে চায় সরকার  » «   সিলেটে করোনা আক্রান্ত ডাক্তারের অবস্হা উন্নতির দিকে  » «   নাজির বাজারে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু  » «  

চারপাশে এমন সব নষ্টের হাতছানি!!! আজ এই মেয়েটি…কাল কি তবে আমার মেয়ে?

সাদিয়া নাসরিন, ফেসবুক থেকে:: কয়েকদিন ধরে ট্রমাটাইজড হয়ে আছি। অনেকটা নিজের ছায়া দেখলেও চমকে ওঠার মতো। এমনিতে আমি খুব একটা জাজমেন্টাল মানুষ না। ভালো মন্দ এসব শব্দকে ভেঙে চুরে র্যাশনাল করার সক্ষমতা আমার আছে। তবুও কিছু বিষয় চোরকাঁটার মতো বিধতে থাকে। পুরোটা মুক্ত হওয়া যায়না।

একটা মেয়ে, আমার মারসাদের চেয়ে বড় জোর ছয় কি সাত বছর বড়!! কতো রাত, কতো দিন কন্যাস্নেহেই বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছি একসাথে….দেখেছি, জেনেছি মেয়েটি হাইপার সেক্সুয়ালিটি ডিজঅর্ডারে ভুগে কীসব ভয়ঙ্কর কান্ড করে ফেলছে একের পর এক !!!

অনলাইনের পরিচয়ে একটি ছেলের কাছে নিজের হাফ ন্যুড ভালগার ছবি পাঠিয়ে দিয়ে এবং যথারীতি সেই ছেলেটি ব্ল্যাকমেইল করতে থাকলে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওযার জন্য আরেকজন ছেলের কাছে সাহায্য নিতে গিয়ে তার কাছে নিজের ভালনারেবিলিটি জমা রাখছে!!!

তবুও শিক্ষা শেষ হয়না তার। একুশ/বাইশ বছরের একটি মেয়ে, ডেটিং এপ নামিয়ে ছেলে খুঁজে এবং সেই এপ থেকে পরিচয় হওয়া একটি ছেলেকে ক’মাসের মাথায় খালি বাসায় নিয়ে এসে কাপল নাইট করে আবার নিজেই সেই রাতের ‘মেকআউট’ এর বর্ণনা দেয়…আমি লজ্জায় না তার দিকে তাকাতে পারি, না নিজের দিকে, না আমার মেয়েটার দিকে।

হাইপার সেক্সুয়ালিটি ডিজঅর্ডার তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, আমার অর্ধেক বয়সের মেয়েটি আমার পাশে শুয়েই হাসতে হাসতে তার নিজের বাবা মায়ের যৌনজীবনের বর্ণনা দেয়, বাবা মায়ের সেক্স লাইফ নিয়ে ট্রোল করে। আমার খুব মন খারাপ হয়, প্রচন্ড রাগ হয়। আমি বুঝতে পারিনা কাকে দোষ দেবো। মেয়েটির বাবা মাকে ? যারা সদ্য তরুণ একটি মেয়ের কানে নিজেদের রাত্রিযাপনের শব্দ পৌঁছে দেন তাদের? নাকি মেয়েটিকে, যে নাকি আর না পারতে কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমায় ? বছরের পর বছর বাবা মায়ের পর্ণ শুনে কানে হেডফোন লাগাতে বাধ্য হওয়া একটি মেয়ে হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে ভুগলে আমি কাকে দোষ দেবো?

আমি জানিনা। আমার পুরোনো সংস্কারের হিসাব নিকাশ উলোট পালট হয়ে যায়। বাংলাদেশের একটি মফস্বল শহরের স্বাভাবিক প্র্যাকটিসিং মুসলিম পরিবারে বড় হওয়া মেয়েটিকে যখন দেখি সারাটাক্ষণ ‘মেকআউট’, ‘এ্যানাল’ ‘ওরাল’ এসব নিয়ে আলাপে মেতে থাকতে, তখন আমার নার্ভাস ব্রেকডাউনের মতো হয়। আমি তলিয়ে যাই। আমার অজান্তেই ভালোবাসা আর স্নেহের বুক চিরে ঘৃণার বীজ জমতে থাকে।

আমি তবুও প্রাণপনে ঘৃণা সরিয়ে ভালোবাসা জাগাতে চাই…জড়িয়ে ধরতে চাই…কথা বলতে চাই। আমি পারিনা…আমি সত্যিই পারিনা। আমার বিবমিষা হয়। কারণ এরা আমার ভাষা বোঝেনা, আমি এদের ভাষা বুঝিনা। চব্বিশঘন্টা খিস্তি করা, সিগারেটের পর সিগারেট খাওয়া, সারাক্ষণ সেক্স চ্যাট করতে থাকা, ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলতে থাকা এই মেয়েটিকে দেখে আমার মনে হয় ‘আমি চিনিনা….আমি ইহাদিগকে চিনিনা’। এরা বই পড়েনা, এরা নাটক দেখেনা…এরা শুধু শরীর বোঝে!!!

আমি বুঝতে পারছিনা সমস্যা আসলে কোথায়? আমার সংস্কারের? আমার অনুদারতার? আমাদের সামগ্রিক প্যারেন্টিং এর? গাইডেন্স এর ? বন্ধুসঙ্গের ? নাকি সমাজের? নাকি আমিই মিসফিট ? আউটডেটেড ? জাজমেন্টাল? না হলে মানুষের মননের এইসব ঊণতা দেখলে, এইসব নষ্ট হয়ে যাওয়া দেখলে আমার কেনো এমন কষ্ট হয়? কেনো এমন নোংরা লাগে চারপাশ ?

গলদটা আসলে কোন জায়গায় ? কোথাও কি বড় কোন গোলমাল হয়ে গেছে সিস্টেমের ? আমি সত্যিই বিষয়টা বুঝতে চাই। দুজন টিন এজ বাচ্চার মা হিসেবেই বুঝতে চাই। আমাকে কেউ সাহায্য করবেন প্লিজ?

এই যে এতো উদারতার কথা আমি বলি, একজন প্র্যাকটিসিং ফেমিনিস্ট হিসেবে যে স্বাধীনতার কথা আমি বলি, যে স্বাধীনতা আমরা পরিবারে চর্চা করি, তার সবটুকু নিশ্চিত করেও কি আমি আমার মেয়েকে বা ছেলেকে ঠিক এই জায়গায় ভাবতে পারবো? আপনারা কেউ কি নিজের মেয়েটিকে এই জায়গায় ভাবতে পারছেন?

আমি কোনদিন আমার মেয়ের ফোনে হাত দিইনা। কিন্তু তাকে জানানো হয়েছে কতটুকু তার স্বাধীনতা আর কতটুকু পেরুলে তা স্বেচ্ছাচারিতা হবে। শ্যুড অর শ্যুডন’ট বুঝতে পারার মতো লিগ্যাসিটুকু দেয়ার চেষ্টা করে যাই আমার যতটুকু জ্ঞানে কুলায়। তবে কি সেও তার এই স্বাধীনতার মিসইউজ করবে ? তবে কি আমার বাচ্চাটাও নিজের ব্যক্তিত্বকে এমন শরীরি আর সস্তা করে ফেলবে?

এই দেশে তো প্যারেন্টিং নিয়ে কোন কাজ হয়না। এখানে আমরা সবাই আনস্কিলড প্যারেন্টিং করি। সন্তান জন্ম দিয়ে আর প্যাম্পারিং করেই আমরা খুব বাবা মা হয়ে যাই। আর আমাদের প্যারেন্টিং এর ফাঁক ফোকর দিয়ে আমাদের হাত গলে আমাদের বাচ্চারা চলে যায় নষ্টের বীজ বেচা কাবুলিওয়ালার হাতে।

গত বছর চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ফেইসবুকের পরিচয়ে বন্ধুর সাথে ডেট করতে গিয়ে রেইপড হয়ে মরে ভেসে থাকা বাচ্চা মেয়েটির কথা আমার মনে পড়ে। আমি ভাবতে পারিনা। আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। চারপাশে এমন সব নষ্টের হাতছানি!!! আজ এই মেয়েটি…কাল কি তবে আমার মেয়ে? পরশু আপনার মেয়ে?

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.