সংবাদ শিরোনাম
রায়নগরে যুবক খুন:আটক ১  » «   ৩২ মাস পর জেগে উঠলেন ফুটবলার নূরী  » «   ছেলের কাছে হেরে গেলেন মাশরাফী  » «   দেশে করোনায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি  » «   হোম কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে কাটছে খালেদা জিয়ার সময়  » «   করোনা কেড়ে নিলো আরেক বাংলাদেশির প্রাণ  » «   সতর্কতামূলক নিশ্চিতে প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সিলেটে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীর ১৫টি দল  » «   জৈন্তাপুরে ইউপি সদস্য সহ ৬ জন আটক  » «   করোনা: বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়ালো  » «   ইতালিতে একদিনে রেকর্ড ৯৬৯ জনের মৃত্যু  » «   স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৭৬৯ জনের মৃত্যু  » «   জগন্নাথপুরে করোনা সংক্রামন রোধে থানা পুলিশের টহল জোরদার  » «   জগন্নাথপুরে করোনা ভাইরাস আতংকে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত  » «   ভাটিবাংলা এলপিএস ফাউন্ডেশন  কর্তৃক  শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে সাবান ও মাস্ক বিতরণ   » «   গোলাপগঞ্জে কোদাল ও দা দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করলো নিজ ছেলে  » «  

গিয়েছিলাম মক্কা-মদিনা

দিপু সিদ্দিকী::মক্কা থেকে ফিরে মক্কা। প্রতিটি মুসলমানের আরাধ্য স্থান। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মভূমি ও বায়তুল্লাহ তথা কাবা শরিফ তাওয়াফের স্বপ্ন দেখেন ধর্মভীরুরা। শান্তির স্থান, সাম্যের স্থান হিসেবে এ পবিত্র ভূমি পরিচিত। প্রতিটি প্রাণে এখানে ধ্বনিত হয় লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। আল্লাহর ঘর বলে পরিচিত কালো গিলাফে সোনালী হরফে লেখা চারকোনা আকারের এ ঘরকে ঘিরে প্রতিনিয়ত চলে তাওয়াফ। শুধু নামাজের সময় তাওয়াফ বন্ধ থাকে।
তাওয়াফের অনুভূতি অসাধারণ। যিনি তাওয়াফ করেন তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না এটা কেমন অনুভূতি। হাজার হাজার মানুষের হাজার রকমের অনুভূতি। এটা লিখে বুঝানোর ভাষা কিংবা শব্দ বিন্যাস আজো খুঁজে পান নি লেখক গবেষকরা।
পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আল আমিন যতো ধরনের মানুষ সৃষ্টি করেছেন তার এক মহাসম্মিলন হচ্ছে কাবা চত্বর। সাদা, কালো, লম্বা, খাটো, সুস্থ, অসুস্থ, শিশু-কিশোর, ধনী-দরিদ্র এক কাতারে সাত চক্কর দিয়ে তাওয়াফ শেষ করছেন বায়তুল্লাহর৷
তাওয়াফকালীন হাজারো ব্যক্তিগত অনুভূতির একটা হচ্ছে-আল্লাহর সৃষ্টি অপরূপ, তিনি হও বললেই হয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানে মাঝরাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে নামি। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছুটে যাই পবিত্র ভূমি মক্কায়। বায়তুল্লাহ থেকে ৪ মিনিটের হাটা দুরত্বে হোটেলে ব্যাগ গুছিয়ে আল্লাহপাকের হুকুমে কাবা দর্শন, তাওয়াফ, সাফা মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে সাঈ শেষে মাথা মুন্ডন করে ওমরাহ শেষ করি। সে এক বেহেশতি অনুভূতি। লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব।
পবিত্র নগরী মক্কার পথ চলতে দেখা যায় নানা দেশের, নানা ভাষার মানুষ। এদের অধিকাংশই নিজের দেশের ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় অজ্ঞ। কিন্তু তাতে কী? সম্বোধন সালামে আর ইশারায় চলে ভাবের আদান প্রদান। কিছু ইংরেজি, কিছু বাংলা, আরবী, উর্দু, হিন্দি, মালয় মিলিয়ে একে অন্যের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করছেন। ফুটপাত কিংবা মার্কেটে কেনাকাটাও সারছেন।
অপর দিকে তাওয়াফকালে সকলেই নিজেদের জানা দোয়ার পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষায় দোয়া করতে থাকেন মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে। চক্করের সময় দেখা যায় ডানে বামে অসংখ্য নারী পুরুষ নিজে থেকে দোয়া দুরুদ পড়ছেন। কখনো কালো মানুষ, কখনো সাদা মানুষ কিংবা ধূসর মানুষের দল জোরে জোরে দোয়া করছেন। আবার দেখা যায় তাওয়াফকারীদের ক্ষুধা নিবারণে কোনো হাজী কাবা কমপ্লেক্সে খেজুরসহ অন্য খাবার তুলে দিচ্ছেন। অনেকে আবার বরকতময় আবে জমজমের পানিও তাওয়াফকারীদের জন্য নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। এ যেনো এক মহাসাম্যের মিলনস্থল। মহান রাব্বুল আল আমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে, তার ক্ষমা পেতে তাওয়াফকালে হাজীরা কান্না করতেও দেখা যায়। একটু ডানে বামে তাকালে সাড়ে তিন হাত স্ট্রাকচারে কত মোহনীয়তায় মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি তা বুঝা যায়। কারণ আল্লাহর সৃষ্টি অপরূপ।
মাসজিদুল হারাম তো ইবাদতের নাম্বার ওয়ান জায়গা। এছাড়া পবিত্র মক্কায় মাসজিদুল হারামের কাছে জমজম টাওয়ারের (ঘড়ি ওয়ালা বিল্ডিং) পেছনের এলাকা মিসফালা নামে পরিচিত । এখানে রয়েছে কবুতর মাঠ। ছোট্ট মাঠের মতো খোলা জায়গায় দিনের বেলা প্রায় সব সময় অসংখ্য কবুতর থাকে। এসব কবুতর দ্রুতগতি সম্পন্ন। অনেকটা সিলেটের হজরত শাহজালাল(র.) মাজারের জালালী কবুতরের মতো। তবে মক্কার কবুতরগুলো জালালী কবুতরের চেয়ে আকারে একটু ছোট। কাবায় আসা-যাওয়া করা হাজিরা এ কবুতরগুলোর জন্য গম বা খাবার কিনে ছিটিয়ে দেন। শিশু হাজীরা মেতে ওঠে কবুতরের সাথে খেলায়। মিসফালায় রয়েছে ইবরাহিম খলিল রোড, দাখালা, মুন্সিয়াবাজার, কেদুয়া, আল হিজরা রোড, হারাতুর রুশদসড়ক। মিসফালায় রয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য ক্লিনিক, যেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন যে কেউ।
ইসলামের বহু সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মহানবী (সা.)-এর অনেক অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে মক্কা ঘিরে। রয়েছে নানা ইতিহাস। মক্কার পরতে পরতে ইসলামের সূচনালগ্নে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর দিনলিপি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। রয়েছে কুরায়েশ বংশধরদের আভিজাত্য, আবুজাহেলের অত্যাচারের করুণ চিত্র। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আসমানি কিতাব কোরআন শরিফের প্রথম আয়াত এ শহরের জাবালে নূর পাহাড়ে নাজিল হয়েছিল। জাবালে নূরের অর্থ আলোর পাহাড়। ওহি নাজিল হওয়ার আগে মহানবী (সা.) জাবালে নূর পাহাড়ে ধ্যানে বসতেন। মহানবী (সা.) ইসলাম প্রচারে বাধাগ্রস্ত হয়ে এই মক্কা থেকেই ৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরত করে মদিনা গিয়েছিলেন। বায়তুল আল-হারাম মসজিদ এই মক্কাতেই। প্রায় দশ লাখ নামাজি একত্রে জমাতে নামাজ আদায় করতে পারেন। আল-হারাম মসজিদের ৮১টি দরজা রয়েছে, যা সব সময় প্রার্থনাকারীদের জন্য খোলা থাকে। এর রয়েছে সুউচ্চ নয়টি দৃষ্টিনন্দন মিনার।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.