সংবাদ শিরোনাম
কানাডায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বড়লেখার মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু  » «   করোনা: ইতালির চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে বাংলাদেশে-বিশেষজ্ঞরা  » «   পাল্টে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ: করোনায় ঘরবন্দী মানুষের বাড়িতে থানা পুকুরের মাছ  » «   নিরাপদে সবাইকে ঘরে ফিরিয়ে নিজে অসুস্থ  » «   জগন্নাথপুরে লন্ডনের প্রলোভনে বিয়ে, আন্ত:জেলা প্রতারক চক্রের ৩ নারী আশারকান্দি থেকে গ্রেফতার  » «   ওসমানীনগরে চেয়ারম্যান লটইয়ের বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে: মামালা  » «   সিলেটে এই প্রথম করোনা ভাইরাস পজিটিভ রোগী সনাক্ত:বাসা লকডাউন  » «   নগরীর কাজী ইলিয়াস গলিতে প্রবাসী স্বামীকে ভিডিওকলে রেখেই লুবনার আত্মহত্যা  » «   নগরীর বিভিন্ন স্থানে টহল সেনাবাহিনীর:সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে কেউ নেই  » «   পবিত্র শবে বরাতে নিজ বাড়িতে নামাজ দোয়া ও ইবাদত করার অনুরোধ  » «   জগন্নাথপুরে সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ত্রান বিতরণ  » «   জগন্নাথপুরে সরকারী চাল বিক্রির অভিযোগে এক ডিলার গ্রেফতার  » «   ওসমানীনগরে হিন্দুদের ত্রাণ দিতে বিএনপি নেতার বাধা! ভিডিও ভাইরাল  » «   করোনা:সিলেটে নতুন কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে নেই! পিসিআর চালু সোমবার  » «   করোনা মোকাবিলায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক  » «  

ভবিষ্যতে যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানোর নিয়ত নাই’

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথা ভেঙে দৌলতদিয়ার একজন যৌনকর্মীর জানাজা পড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না। হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানোর পর তিনি স্থানীয়ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

যৌনকর্মীদের জানাজা বা দাফনের ব্যাপারে কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ আছে কি না, তেমন কিছু উল্লেখ করছেন না মোস্তফা, কিন্তু তিনি বলছেন তিনি এই জানাজা পড়াতে রাজি ছিলেন না, স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের অনুরোধে তিনি পড়িয়েছিলেন। তিনি বলছেন, এইখানে তো সমালোচনা হচ্ছে। গ্রামের লোক, দোকানদার সবাই আমার সমালোচনা করছে। এতোদিন জানাজা হয় নাই, আমি কেন হঠাৎ করে জানাজা পড়াইলাম? ভবিষ্যতে যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানোর নিয়ত নাই। বিভিন্ন আলেমের সঙ্গেও কথা বলছি। তারাও নিষেধ করছেন। পল্লীর লোকেরা অন্য কাউকে দিয়ে জানাজা, দাফন করাইতে পারে। কিন্তু আমাকে পাবে না।

তিনি জানাচ্ছেন, আগে গ্রামবাসী নিয়ম করে দিয়েছিলো কোনো যৌনকর্মী বাইরে বের হলে খালি পায়ে বের হবে। তবে এখন অবশ্য সে নিয়ম আর নেই। রানু বেগম যে মানবিক মর্যাদার সঙ্কটের কথা বলছেন, এই পল্লীর সকলকেই সেই সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয় কোনো না কোনোভাবে। ফলে এই পেশার সঙ্গে জড়িতরা সবসময়ই চেষ্টা করেন নিজেদের বাইরের জগত থেকে আড়াল করে রাখতে।

এমনকি বাইরের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও নিজেদের প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন রাখতে হয়। যেমন মাত্র ছয় মাস আগেই অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বৃষ্টি আক্তার (ছদ্মনাম)। তিনি জানান, চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিজে থেকেই পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ঠিকানা দিছি দৌলতদিয়া। কিন্তু আমাদের পল্লীর ঠিকানা হইলো পূর্বপাড়া। আমার নামও দিছি অন্য। আসল পরিচয় যদি দেই আমি তাহলে তারা তো জানবে আমি কে। আমাকে তখন খারাপ জানবে। আর খারাপ জানলে তো খারাপভাবেই দেখবে।

দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা শুরু থেকেই ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলেও তেমন কোনো নাগরিক সুবিধা নেই তাদের। বয়স হয়ে গেলে নিদারুণ সমস্যায় পড়েন অনেকেই। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে মৃত্যুর পরো ধর্মীয়ভাবে দাফন-কাফনের অধিকার না পাওয়ার হতাশা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ করে এসেছেন তারা। তবে বছরের পর বছর না হলেও হামিদা বেগমের জানাজা ও দাফন ধর্মীয় রীতি মেনে সম্পন্ন হলে, যৌনকর্মীদের মধ্যে তো বটেই আলোড়ন তুলেছে এর বাইরেও।

বাংলাদেশে যৌনপেশাকে সামাজিকভাবে খারাপ চোখে দেখা হলেও হামিদা বেগমের ছেলে জানান, তারা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে আটকে থাকতে চাননি। তিনি বলেন, আমার মা যেখানেই থাকুক, যে কাজই করুক, তার একটা পরিচয় আছে যে সে মানুষ। আমরাও মানুষ, আমরাও মুসলমান। আমরা চাইছিলাম মৃত্যুর সময়টাতে যেনো মানুষ হিসেবে সম্মান পাই। সেই জন্যেই আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করছিলাম।

এটা নিয়ে যৌনকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে বাইরে এর সমালোচনাও হচ্ছে প্রচুর। যদিও এর কোনো যৌক্তিকতা খুজে পান না যৌনকর্মীদের একজন নেত্রী। তিনি বলেন, এদেশের সমাজ পাপের বোঝা শুধু যৌনকর্মীদের ওপরই চাপাতে চায়। পাপতো এখানকার মেয়েরা একলা করতেছে না। তারা করতেছে পেটের দায়ে, ক্ষিদার চাহিদা মেটানোর জন্য। আর আপনি আসতেছেন আপনার মনোরঞ্জন করার জন্যে। তাহলে পাপটা কার হইতেছে? তিনি বলেন, এইখানে যৌনপল্লীতে ধর্মের বিধান ভাইঙ্গা আসে কারা? আপনারা। তাইলে আপনাদের যদি সমাজে মাটি হয়, তাইলে আমাদের হবে না কেন?

দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা আশাবাদি যে, হামিদা বেগমের জানাজার পর সেটা হয়তো যৌনকর্মীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে কাজে দেবে। কিন্তু বাস্তবে পল্লীর বাইরে খোঁজ নিতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এর উল্টো মনোভাবই দেখা গেলো। যৌনপল্লীর পাশেই দৌলতদিয়া রেল স্টেশন। সেখানেই স্টেশন মসজিদের কাছে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। এর মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামে একজন জানালেন, যৌনকর্মীর পেশাটাই যেখানে ধর্ম সমর্থন করে না সেখানে সারাজীবন সেই পেশায় থেকে শেষ সময়ে ধর্মের দরকার কী? তিনি বলছেন, ওখানে তো অন্য মানুষজন থাকে। ওটা তো আলাদা জায়গা। পতিতালয়। সেইখানে ধর্মীয়ভাবে জানাজা হয় কিভাবে?

মনির হোসেন নামে আরেকজন বেশ ক্ষিপ্ত। তার ক্ষোভ ইমাম সাহেব কেন জানাজা পড়ালেন সেটা নিয়ে। তিনি বলছেন, হুজুর তো আগে আমাদের সমাজ থেকেই মত গঠন করবে। জানাজায় নেয়া যাবে কি-না, সেইটা তো গ্রামের লোক বসে পদ্ধতি ঠিক করবে। তারপরে সে আমাদের মর্জি নিয়ে সেখানে যাবে। তাকে তো ইমামের দায়িত্বে রাখছি আমরা। সে একা একাই কেন গেলো?

এবার বোঝা গেল ইমাম গোলাম মোস্তফা কোন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো যৌনকর্মীর জানাজা না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.