সংবাদ শিরোনাম
করোনা: বিশ্ব কাঁপানো মার্কিন রণতরী থেকে বাঁচার আকুতি  » «   ভারতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৪০ জন  » «   ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি, অফিস খুলবে ১২ এপ্রিল  » «   করোনা:সিলেটে নতুন করে ৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে  » «   জগন্নাথপুরে করোনা সংক্রামন রোধে পুলিশের বিভিন্ন বাজারে প্রচারণা  » «   ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা করোনা’  » «   যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ৮৬৫ জনের মৃত্যু  » «   করোনা: ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ দিতে পারবেনা  » «   শৈশবে দেয়া বিসিজি টিকা বাঁচাবে করোনা থেকে!  » «   দিরাইয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ অজ্ঞাত এক ব্যক্তি উদ্ধার  » «   নগরীর খাসদবীরে মাসুকের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন শুরু  » «   ওসমানীনগরে মানা হচ্ছে না নিরাপদ দূরত্ব: প্রশাসনের নিরব ভূমিকা  » «   করোনা:জগন্নাথপুরে প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ সহকারী পুলিশ সুপারের  » «   জগন্নাথপুরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচারনা  » «   সিলেটে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে কিশোরীর মৃত্যু: গ্রামের বাড়ী জালালপুরে দাফন সম্পন্ন  » «  

স্কুলে বিজ্ঞান-মানবিকের বিভাজন না থাকাই ভালো : প্রধানমন্ত্রী

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণি থেকেই বিষয় ভিত্তিক বিভাজন (বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য) তুলে দেয়ার বিষয়ে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যোগ্যতা প্রকাশে এসএসসি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী একই বিষয় নিতে পারবে।

বুধবার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭২ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিষয়ভিত্তিক বিভাজনের কোনো দরকার নেই। কারণ প্রত্যেকে এসএসসি পর্যন্ত সব বিষয় অধ্যয়ন করতে পারে। এসএসসির পরে বিভাজন করা ভাল, কমপক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে এই বিষয়ভিত্তিক বিভাজন নেই। পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান এ পদ্ধতি চালু করেছিলেন। ‘আমি মনে করি, এটা এখন না থাকাই ভালো।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব বিষয় এখন বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত এবং বিজ্ঞানের পরিধির বাইরে কিছুই নেই।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তি নির্ভর শিল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আরো সমৃদ্ধ হবে।

‘আমাদের জনসংখ্যার প্রয়োজন হবে। আমরা যদি আমাদের জনগণকে যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে পারি তবে আমাদের জন্য মোটেই কোনো সমস্যা হবে না, বরং আমরা অন্যান্য দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারি। আমরা সেভাবে কাজ করতে চাই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার বহুমুখীকরণের উপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটা বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ সুগম করবে এবং একই সাথে দেশকে অগ্রসর করবে।

‘শিক্ষার বিকাশের জন্য এবং একটি শিক্ষিত জাতি হওয়ার জন্য, যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করবো।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফিশারিজ টেকনোলজি’র শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শারমিন সুলতানা অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যানগণ, বর্তমান এবং সাবেক ইউজিসি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য এবং শিক্ষবিদগণ, পিএমও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা আমরা বলছি। এখানেও আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সেভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠছে এবং সেটা আরো বিকশিত হলে সেখানে আমাদের জনশক্তি লাগবেই।

আমাদের জনসংখ্যাকে আমরা যদি কারিগরি, বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে সেইভাবে দক্ষ করে যদি গড়তে পারি তাহলে আমাদের কোন সমস্যাতো কোনদিন হবেই না বরং আমরা অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারবো, বলেন তিনি।

তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সেলক্ষ্যে একটি সমন্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা কাউকেই অবহেলা করতে চাইনা। যে কারণে, আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে অনার্স কোর্স চালু এবং প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের কওমি মাদ্রাসাকেও আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়েছি। কারণ, তাঁদেরকেও আমরা সমন্বিত শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। একই ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী ইউজিসিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর ও নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.