সংবাদ শিরোনাম
ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি, অফিস খুলবে ১২ এপ্রিল  » «   করোনা:সিলেটে নতুন করে ৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে  » «   জগন্নাথপুরে করোনা সংক্রামন রোধে পুলিশের বিভিন্ন বাজারে প্রচারণা  » «   ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা করোনা’  » «   যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ৮৬৫ জনের মৃত্যু  » «   করোনা: ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ দিতে পারবেনা  » «   শৈশবে দেয়া বিসিজি টিকা বাঁচাবে করোনা থেকে!  » «   দিরাইয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ অজ্ঞাত এক ব্যক্তি উদ্ধার  » «   নগরীর খাসদবীরে মাসুকের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন শুরু  » «   ওসমানীনগরে মানা হচ্ছে না নিরাপদ দূরত্ব: প্রশাসনের নিরব ভূমিকা  » «   করোনা:জগন্নাথপুরে প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ সহকারী পুলিশ সুপারের  » «   জগন্নাথপুরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচারনা  » «   সিলেটে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে কিশোরীর মৃত্যু: গ্রামের বাড়ী জালালপুরে দাফন সম্পন্ন  » «   করোনা: সিলেটে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে এক কিশোরীর মৃত্যু  » «   সিলেটে আরো ৩ জনের করোনা ‘নেগেটিভ’  » «  

চীনে করোনাভাইরাস নিয়ে যত গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::তখনও করোনাভাইরাসের নামও শোনেনি বহিবির্শ্ব। কিন্তু ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াং এই ভয়াবহ ভাইরাসের বিপদ  সম্পর্কে সহকর্মীদের সতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন। আর সেজন্য ‘গুজব’ ছড়ানোর দায়ে তাকে প্রশাসনিক সাজা দেয় চীন সরকার। ওয়েনলিয়াং সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। তার এই মৃত্যুতে ‘গুজব’ শব্দটির মর্মার্থই যেন পাল্টে গেছে। গুজব এখন শোনা কথা নয়। অনেকের কাছে, সরকার যাকে গুজব বলে দাবি করে, তা হলো অস্বস্তিকর সত্য, যা কর্তৃপক্ষ গোপন করতে চায়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উদ্ধৃতি ভাইরাল হয়েছে: ‘গুজব হলো বহুদূর আগামীর ভবিষ্যদ্বাণী।’ চীনে অনেকের মাঝেই করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের কঠোর সেন্সরশিপ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অস্বস্তিকর সত্যকে সরকার গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।

কেউ সত্য বললে তাকে শাস্তি পেতে হচ্ছে।

মানুষের ক্ষোভ হচ্ছে যে, যদি সরকার সতর্কবাণীকে এভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা না করতো, তাহলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই বহু মানুষ সতর্ক হতে পারতো। কিন্তু তথ্যের প্রবাহকে বাধা দেওয়ার ফলে আরেক সমস্যাও এখন হয়েছে। সেটি হলো, কর্তৃপক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে শূন্যের কোঠায়। ফলে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস নিয়ে যখন সত্যিকার অর্থেই গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করলেও কেউ আর বিশ্বাস করছে না।
জানুয়ারিতে যখন করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরাট হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হলো, তখনই ছড়িয়ে পড়লো এক ষড়যন্ত্র তত্ব। এই তত্ব বলছে যে, করোনাভাইরাস কোনো প্রাকৃতিক ভাইরাস নয়, বরং পরীক্ষাগারে মানবসৃষ্ট ভাইরাস। চীন তো বটেই, পশ্চিমা দুনিয়ায়ও এই তথ্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই ভাইরাস সৃষ্টি হয়েছে বাঁদুর থেকে। আর সেখান থেকেই আরেক মধ্যবর্তী প্রাণির মাধ্যমে মানুষের শরীরে পৌঁছেছে। ঠিক যেমনটা সাবেক সার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণাও ঠেকাতে পারছে না গুজবের কারখানাকে। এই ভিত্তিহীন অভিযোগের বিপরীতে সরকার বারবার তথ্য প্রদান করলেও কেউ কান দিচ্ছে না।
ভাইরাস যখন আরও ছড়িয়ে পড়লো, আরও মানুষ যখন মারা যেতে লাগলো, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পরিধিও বাড়লো। অনেকে বলতে লাগলেন, চীনের উহান শহরে, যেখানে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সেখানে রয়েছে এক ভাইরাস ল্যাব। উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি নামে ওই পরীক্ষাগার হলো চীনের রাষ্ট্র-চালিত বিজ্ঞান একাডেমির প্রতিষ্ঠান। এটি চীনের একমাত্র ল্যাব যেখানে রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বায়োকনটেইনমেন্ট। এখানেই করোনাভাইরাসের মতো সহজে সংক্রমণে সক্ষম প্যাথোজেন্স নিয়ে গবেষণা করা হয়।
বিভিন্ন গুজবের সারমর্ম হচ্ছে, নোভেল করোনাভাইরাস হয়তো কোনোভাবে এই ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে। একটি তত্ব বলছে, কোনো এক গবেষক ল্যাবের ভেতর এক বাঁদুড় নিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। ওই বাদুড় তাকে কামড় দিলেই তিনি ভাইরাসে সংক্রমিত হন। আরেকটি তত্ব বলছে, এই ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষার্থী ছিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী বা প্যাশেন্ট জিরো। আরও ভয়াবহ এক তত্ব বলছে, এই ল্যাব মূলত চীনা সামরিক বাহিনীর জন্য জৈব অস্ত্র তৈরিতে কাজ করছিল। ভুলবশত এই ভাইরাসটি বের হয়ে যায় ল্যাব থেকে। এই তৃতীয় তত্ব চীনের বাইরের দেশগুলোতেও জনপ্রিয় হয়েছে।

উপরের কোনো তত্বের নেপথ্যেই কোনো প্রমাণ নেই। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এই তত্ত্ব সৃষ্টি। এই গুজব এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই ল্যাবে বাদুড় সংক্রান্ত ভাইরাস পরীক্ষায় নিয়োজিত এক শীর্ষ বিজ্ঞানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, তিনি নিজের জীবনের নিশ্চয়তা দিয়ে বলছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে ল্যাবের কোনো সম্পর্ক নেই। দুই সপ্তাহ পর খোদ ইন্সটিটিউট থেকেই বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু সন্দেহ এখনও দূর হয়নি। চার দিন পর ল্যাব কর্তৃপক্ষ বিস্তৃত এক বিবৃতি দেয়। সেখানে সব ধরণের গুজব বা অভিযোগ তালিকাভুক্ত করে, প্রত্যেকটির বিস্তারিত জবাব দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বজুড়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও এই গুজবের নিন্দা জানিয়েছেন। ২৭ জন প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী বিশ্ববিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যান্সেটে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কঠোরভাষায় এই ষড়যন্ত্র তত্বের প্রতিবাদ জানাচ্ছি যেখানে বলা হচ্ছে
করোনাভাইরাস প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট নয়।’ ভাইরাসের জিনগত গঠন নিয়ে হওয়া গবেষণার বরাতে তারা বলছেন, বৈজ্ঞানিক ফলাফলে ব্যপকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে করোনাভাইরাসের সৃষ্টি মূলত বণ্যপ্রাণী থেকে, যেমনটা এ জাতীয় অন্যান্য ভাইরাসও সৃষ্টি হয়েছে। ষড়যন্ত্র তত্ব শুধু ভয়, গুজব, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যার দরুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের বৈশ্বিক লড়াই বিপন্ন হয়।
(সিএনএন)

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.