সংবাদ শিরোনাম
করোনা: বিশ্ব কাঁপানো মার্কিন রণতরী থেকে বাঁচার আকুতি  » «   ভারতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৪০ জন  » «   ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি, অফিস খুলবে ১২ এপ্রিল  » «   করোনা:সিলেটে নতুন করে ৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে  » «   জগন্নাথপুরে করোনা সংক্রামন রোধে পুলিশের বিভিন্ন বাজারে প্রচারণা  » «   ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা করোনা’  » «   যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ৮৬৫ জনের মৃত্যু  » «   করোনা: ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ দিতে পারবেনা  » «   শৈশবে দেয়া বিসিজি টিকা বাঁচাবে করোনা থেকে!  » «   দিরাইয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ অজ্ঞাত এক ব্যক্তি উদ্ধার  » «   নগরীর খাসদবীরে মাসুকের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন শুরু  » «   ওসমানীনগরে মানা হচ্ছে না নিরাপদ দূরত্ব: প্রশাসনের নিরব ভূমিকা  » «   করোনা:জগন্নাথপুরে প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ সহকারী পুলিশ সুপারের  » «   জগন্নাথপুরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচারনা  » «   সিলেটে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে কিশোরীর মৃত্যু: গ্রামের বাড়ী জালালপুরে দাফন সম্পন্ন  » «  

সিলেটসহ সারাদেশে রোজার আগেই চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::রোজা শুরু হতে এখনও দেড় মাসের বেশি বাকি, অথচ ৫০ টাকা কেজির চিনি এখনই ক্রেতাদের ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তাই বাধ্য হয়ে এই দরে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে ক্রেতারা বলছেন, রমজান আসার অনেক আগেই বাজারে তার আঁচ পড়তে শুরু করেছে। গতবারের মতো এবারও রোজার আগেই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যও বলছে, গত এক বছরে চিনির দাম বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। টিসিবির হিসাবে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৫০ টাকা। টিসিবির তথ্য মতে, গত এক মাসে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত সপ্তাহেও পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। রিফাইনারি ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন্দর বাজার,কালিঘাট,আম্বরখানা ঘুরে দেখাযায়, ‘গত রোজার আগে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। এখন সেই একই চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

চিনির মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কাজীটুলার সুলতান বলেন, ‘রোজায় চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যের দাম পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হচ্ছে। গত বছরও এমনটিই করা হয়েছে।’ বাজারের সিন্ডিকেট এই ধরনের অপকর্ম করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রজমান মাস এলেই ব্যবসায়ীরা কোনও একটি বা দুটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য টার্গেট করে দামে কারসাজি করেন। এ প্রসঙ্গে ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের সভাপতি বলেন, ‘গত বছরও রোজার আগেই প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রত্যেক রমজানেই সিন্ডিকেট করে কোনও না কোনও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তাদের যেহেতু শাস্তি হয় না, তাই কৌশল বদলে তারা এই ধরনের অপকর্ম করতেই থাকে। তারা সব সময় ওত পেতে থাকে, সুযোগ পেলেই বাজার অস্থির করে তোলে। আগামী রমজানকে কেন্দ্র করে তারা আবারও ভোক্তাদেরকে জিম্মি করতে শুরু করেছে।’

যদিও চিনি ব্যবসায়ীরা সরকারকে জানিয়েছেন বিপুল চিনি মজুত রয়েছে এবং দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু বাজারের চিত্র বলছে, টানা গত দুই মাস ধরে চিনির দাম বাড়ছে। দুই মাসের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, চিনির গুদামজাত পরিস্থিতি ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে তদারকি না করলে রিফাইনারি ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট তৈরি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংকট সৃষ্টি এবং অনৈতিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করবেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলগেট থেকে চিনির দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় পাইকারিতেও দাম বেড়েছে। আর পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরাতে দাম বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বলছে, আসন্ন রমজানে চিনির চাহিদা তিন লাখ টন। গেল জানুয়ারি পর্যন্ত বেসরকারি রিফাইনারিগুলো ১০ লাখ ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করেছে। ফলে রমজানে চিনিসংকট হওয়ার কথা নয়।

আবার ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, সব মিলিয়ে দেশে চিনির উৎপাদন প্রায় ৩১ লাখ টন। বিপরীতে বাংলাদেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা সাড়ে ১৭ লাখ টন। অর্থাৎ উৎপাদনক্ষমতার ৬০ শতাংশ ব্যবহার করলেই চিনির চাহিদা পূরণ সম্ভব।

তথ্য বলছে, দেশে চাহিদার অর্ধেকের বেশি চিনি সরবরাহ করা হয়  অবস্থিত সিটি কোম্পানির তীর সুগার মিল এবং সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ সুগার মিল, ইগলু চিনিসহ ছোট-বড় কয়েকটি সুগার মিল থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিনি সরবরাহ করে তীর ও ফ্রেশ।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এপ্রিলের ২৩ তারিখের দিক থেকে রোজা শুরু হতে পারে।

এদিকে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্থির হতে না পারে সেজন্য কৌশল নির্ধারণ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য বাজার মনিটরিংসহ চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদমর্যদার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পূর্বগঠিত বাজার মনিটরিং কমিটিগুলোকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা যারা বদলি হয়ে গেছেন তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মনিটরিং কমিটিগুলোয় অন্তর্ভুক্ত করতে অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছেও কর্মকর্তাদের নামের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিলেটের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং রসুনের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গতকাল রবিবার সিলেটের বিভিন্ন বাজারসহ  ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা কেজি। আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২১০ টাকা কেজি।  তবে দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজারে লাউ, করলা, টমেটো, শসা, শিম, শালগম, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি, শসার দাম কমে ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা। ফুলকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ এবং শালগম বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। মুলার দাম কমে ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ৪০-৫০ টাকা কেজি

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.