সংবাদ শিরোনাম
করোনা: বিশ্ব কাঁপানো মার্কিন রণতরী থেকে বাঁচার আকুতি  » «   ভারতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৪০ জন  » «   ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি, অফিস খুলবে ১২ এপ্রিল  » «   করোনা:সিলেটে নতুন করে ৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে  » «   জগন্নাথপুরে করোনা সংক্রামন রোধে পুলিশের বিভিন্ন বাজারে প্রচারণা  » «   ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা করোনা’  » «   যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে রেকর্ড ৮৬৫ জনের মৃত্যু  » «   করোনা: ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ দিতে পারবেনা  » «   শৈশবে দেয়া বিসিজি টিকা বাঁচাবে করোনা থেকে!  » «   দিরাইয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ অজ্ঞাত এক ব্যক্তি উদ্ধার  » «   নগরীর খাসদবীরে মাসুকের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন শুরু  » «   ওসমানীনগরে মানা হচ্ছে না নিরাপদ দূরত্ব: প্রশাসনের নিরব ভূমিকা  » «   করোনা:জগন্নাথপুরে প্রত্যেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ সহকারী পুলিশ সুপারের  » «   জগন্নাথপুরে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সচেতনামূলক প্রচারনা  » «   সিলেটে হাসপাতাল কোয়ারেন্টাইনে কিশোরীর মৃত্যু: গ্রামের বাড়ী জালালপুরে দাফন সম্পন্ন  » «  

করোনা আক্রান্ত ঠেকাতে বন্ধের আহ্বান:সিলেটে তোয়াক্কা না করে চলছে বাণিজ্য মেলা

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে নভেল করোনাভাইরাস। দেশে নতুন করে আরও দুজন করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবধরনের জনসমাগম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। মুজিববর্ষের আয়োজনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জনসমাগমও বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সিলেটে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। যা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সবধরণের জনসমাগমই করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটা মেলার আয়োজক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তরাও জানেন। সরকারের পক্ষ থেকেও মাঠ প্রশাসনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাকেই জনসমাগম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তারপরও কী করে বাণিজ্যমেলা চলছে বুঝতে পারছি না। আশাকরি শীঘ্রই এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত ৭ মার্চ সদর উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত মাসব্যাপী ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মেলার উদ্বোধন করেন। এরপরদিনই (৮ মার্চ) দেশে প্রথম নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। ওইদিন ইতালিফেরত দুই ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করে আইইডিসিআর। একইদিনে জনসমাগম এড়াতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় শনিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে শ্রীচৈতন্যদেবের পৈতৃক বাড়িতে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী বারুণি মেলা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এরআগে তাহিরপুরে হিন্দুধর্মাবলাম্বীদের পূণ্যস্নান ও শাহ আরেফিন (র.) মাজারের ওরস বন্ধ করে দেওয়া হয়। রোববার সিলেটে ভোক্তা অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়। তবে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এমন নানা উদ্যোগ সত্বেও সিলেটে চলছে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা। যেখানে প্রতিদিন শতশত মানুষ জড়ো হচ্ছেন। পুরো নগরীতে মাইকিং করে মেলার প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যার দিকে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় বাণিজ্যমেলার প্রচারণা চালিয়ে মাইকিং করা হচ্ছিলো। তা শুনে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রধান রাশেদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমাদেরকে আরও সতর্ক হতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ সরকার থেকেও দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় দেশের স্বার্থে সিলেটের বাণিজ্যমেলা আপাতত বন্ধ করে দেওয়াই উচিত। তাতে করে সিলেটবাসীর নিরাপত্তা খানিকটা নিশ্চিত করা যাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় শাহী ঈদগাহ মাঠে বণিজ্যমেলায় গিয়ে দেখা যায়, লাইন ধরে দর্শনার্থীরা ঢুকছেন মেলায়। মেলার মাঠে হাজারও মানুষের ভিড়। একেবারে গাদাগাদি অবস্থা। চারদিকে ধুলো উড়ছে। এরমধ্যে মেলা ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। যাদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মেলার জনসমাগমে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এখনও এর জবাব আসেনি।

যদিও এব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমাদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার অফিসে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মিটিংয়ে আছেন বলে জানানো হয়।

করোনা নিয়ে ঝুঁকির সময়ে সিলেটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনের অব্যাহত রাখার সমালোচনা করে সিলেটের নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, সিলেটে বাণিজ্যমেলার লোকসমাগম ও ভিড় জমানোর ক্যাম্পেইন দেখে মনে হয়- সিলেট করোনা মুক্তাঞ্চল। ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে অসংখ্য মানুষের জীবনের ঝুঁকিও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুল গাফ্ফারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা নাদেল ভাইয়ের (আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাণিজ্য মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক) সাথে যোগাযোগ করেন। নাদেল ভাইয়ের সাথে কথা বলতে ভয় পান নাকি?

মেলার আয়োজক সংগঠন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আফজাল রশিদ চৌধুরী বলেন, মেলায় আমরা জনসমাগম সীমিত রাখার চেষ্টা করছি। করোনা সচেতনতায় প্রচারপত্র বিলি করছি। এছাড়া সিলেটে তো এখনও কোনো করোনা রোগী ধরা পড়েনি। তাই আশা করছি এখানে ঝুঁকি কম।

যদিও রোববারই একটি সেমিনারে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মধ্যে সিলেট সবচেয়ে বেশি করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে বিদেশিদের আসা যাওয়া বেশি তাই করোনায় আক্রান্তের দিক দিয়ে সিলেট ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য যারা ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন তাদেরকে জনসমাগমে না এসে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.