সংবাদ শিরোনাম
জগন্নাথপুরে ৫০০ মসজিদে প্রধানমন্ত্রী সহায়তার চেক বিতরণ  » «   সুনামগঞ্জে র‍্যাবের ১৪ সদস্যসহ একদিনে ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত রেকর্ড,এ নিয়ে মোট ২১৩  » «   জগন্নাথপুরে হাওর থেকে এক অঞ্জাতনামা ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ১ ব্যক্তি: মোট ১০, সুস্থ ৬, আইসোলেশনে ৪  » «   দোয়ারাবাজারে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১০  » «   সিলেটে দক্ষিণ সুরমায় দু’দল বাস শ্রমিকের মধ্যে দেড় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ  » «   করোন:এক দিনে ৯৩ জন আক্রান্ত সিলেট বিভাগে:মোট ১০৪০ জন  » «   ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে নিহত ৩৬: এ মামলার প্রধান আসামি রফিকুল গ্রেফতার  » «   সিলেট থেকে বাস চলাচল শুরু  » «   ছাতকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু  » «   সুনামগঞ্জে চেয়ারম্যানের অপসারনের দাবীতে অভিযোগ দায়ের  » «   সুনামগঞ্জে র‍্যাব ক্যাম্পের ১৬ জন সদস্যসহ মোট ২১ জন করোনায় আক্রান্ত  » «   জগন্নাথপুরে মানসিক রোগী দীর্ঘ এক বছর পর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফিরে পেল পরিবার  » «   রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ১৯-২০ বছরের উন্মুক্ত বাজেট পেশ  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরেক জন  » «  

পাথুরে জনপদে কর্মহীন কয়েক হাজার মানুষ জনজীবনে হাহাকার

শাহ আলম, গোয়াইনঘাট::পেশায় পাথর শ্রমিক শ্রী নিরঞ্জন বিশ^াস। বয়স পয়ত্রিশের এই যুবক পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রায় বিশ বছর আগে দূরারোগ্য ব্যাধিতে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আজ অব্দি ধরে রেখেছেন সংসারের হাল। জাফলং কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের কাজ করে বৃদ্ধ নানী, মা, ছোট ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তান মিলে নয় জনের সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। দৈনন্দিন রোজগার ও খানিকটা ধার দেনার মধ্য দিয়ে মোটামুটি ভাবে চলছিল তাদের সংসার।
কিন্তু বছর খানেক সময় ধরে জাফলং পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় তার জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন তার মানবেতর জীবন।
একই পাথর কোয়ারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন জাফলংয়ের শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা সমলা বেগম নামে আরেক নারী শ্রমিক। পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে জাফলং পাথর কোয়ারিতে শ্রমিকের কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়েসহ ৩ জনের সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোয়ারি নির্ভর এই বিধবা নারী শ্রমিকের জীবনে নেমে এসেছে দুঃখের খরগ। এখন অনেকটাই অভাব অনটনের মাঝে খেয়ে না খেয়ে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দিন কাটছে তার।
শুধু নিরঞ্জন বিশ^াস আর সমলা বেগমই নন। বর্তমানে জাফলং পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট কয়েক সহস্রাধিক শ্রমিকের যাপিত জীবনের চাল চিত্র এটি।
জানা যায়, জাফলং পাথর কোয়ারি নিয়ে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৪ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুয়ায়ি পিয়াইন নদী এলাকায় প্রায় ১৫৮.৭০ হেক্টর জায়গা পাথর কোয়ারি বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চাহিদার জোগান দিতে আশির দশক থেকে জাফলংয়ের ডাউকি ও পিয়াইন নদী থেকে পাথর আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে স্থানীয় এলাকার লোকজন। কালের পরিক্রমায় তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খেটে খাওয়া হাজারও শ্রমিক।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের পর থেকে পরিবেশ ধ্বংস করে শুরু হয় যত্রতত্র এলাকা থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন। চলতে থাকে পরিবেশ বিধ্বংসী ধ্বংস যজ্ঞ। পরিবেশ বিনষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় এনে পাথর উত্তোলন বন্ধে সোচ্চার হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে জাফলংয়ের ডাউকি নদীকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) এলাকা ঘোষণার জন্য উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ২০১২ সালে ডাউকি নদীর ১৪.৯৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যার গেজেট প্রকাশ করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ি ইসিএ ঘোষিত এলাকার সীমানা চিহ্নিত করে ওই এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রশাসন।
কিন্তু অদৃশ্য কারণে গেল বছর থেকে ইসিএ এলাকার বাইরে পিয়াইন নদী এলাকার গেজেটভূক্ত কোয়ারি থেকেও পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
যার ফলে এক বছর ধরে পাথুরে জনপদে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। জনজীবনে দেখা দিয়েছে হাহাকার। শুধু পাথর শ্রমিকরাই নন বিপাকে রয়েছেন পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক, ক্রাশার মেশিন মালিক, ট্রাক শ্রমিক ও ক্রাশার মেশিনে কর্মরত শ্রমিকেরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জাফলং পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট কয়েক সহস্রাধিক মানুষের একটাই দাবী। আর তা হলো সরকার কর্তৃক ঘোষিত ইসিএ এলাকার বাইরে গেজেটভূক্ত কোয়ারি এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া।
এ ব্যাপারে জাফলং বল্লাঘাট পাথর উত্তোলণ শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, প্রায় এক বছর ধরে জাফলং পাথর কোয়ারি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিকল্প কোন কর্মসংস্থান না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এই পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক। পরিবার পরিজন নিয়ে এখন সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই পাথর কোয়ারি নির্ভর কয়েক সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে অন্তত কোয়ারির নামে গেজেটভূক্ত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমোদন দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান তিনি।
জাফলং বল্লাঘাট পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই জাফলং পাথর কোয়ারির ওপর নির্ভরশীল। এই কোয়ারি বন্ধ হওয়ার কারণে বেকার হয়ে পড়েছে কয়েক সহস্রাধিক মানুষ। ফলে পুরো উপজেলা জুড়েই দেখা দিয়েছে হাহাকার। শ্রমিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিপাকে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় এসব ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কাজেই মানবিক দিক বিবেচনা করে জাফলংয়ের ইসিএ এলাকার বাইরে কোয়ারির গেজেটভূক্ত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতির জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

পোস্ট/এস এ/জি ঘ

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.