সংবাদ শিরোনাম
ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরো এক জনের মৃত্যু ,এ নিয়ে মোট ৩  » «   গোয়াইনঘাটে একই পরিবারের চারজন ও পুলিশ সদস্যসহ আক্রান্ত ১০  » «   সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত ১, আহত ১  » «   ন্যাপ সভাপতিসহ তামাবিল দিয়ে দেশে ফিরলেন আরও ১০ বাংলাদেশি  » «   লোভাছড়ায় পাথর সরবরাহে কোর্টের আদেশ   » «   হাইকোর্ট এর আদেশ মানছেন না তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন:জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন  » «   করোনা:সিলেটে মারা গেলেন আরেক চিকিৎসকের স্ত্রী  » «   মাহমুদুলের সহকারী থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি   » «   তামাবিল স্থলবন্দরে কাষ্টমস এসির সাথে ব্যবসায়ী নেতাদের সভা  » «   জগন্নাথপুরে নতুন করে এক পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন  করোনা আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১৭  » «   চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বন্দরবাজারের এক ব্যবসায়ী  » «   মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৩  » «   শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু  » «   সিলেটে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা : একদিনে আক্রান্ত ৮৬, মৃত্যু ৩  » «   ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু,এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২  » «  

পাল্টে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ: করোনায় ঘরবন্দী মানুষের বাড়িতে থানা পুকুরের মাছ

সিলেটপোস্ট ডেস্ক ::পাথর কোয়ারি বন্ধ হলেই চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। তাই আইন শৃংয়খলার রক্ষায় পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখতে হবে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের চিরচরিত এ দাবি ও কাল্পনিক অজুহাতকে মিথ্যে প্রমান করে দিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সজল কুমার কানু। দীর্ঘ দুই মাস পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকলেও কোথাও কোন চুরি ডাকাতি সংঘটিত হয় নি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার। ডাকাতদের মূলোৎপাটনের পাশপাশি বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ পাথর উত্তোলন। ফলে এক শান্তির নীড়ে বসবাস করছেন কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
দেশের সর্ববৃহৎ পাথধর কোয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা ও আশপাশ এলাকা। ওই এলাকা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনে প্রাণ হারিয়েছে শত শত শ্রমিক। পাথর খেকোদের একটাই দাবি ছিল পাখর উত্তোলন বন্ধ হলে চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। এই অজুহাতে তারা অব্যাহত রাখতো অবৈধ পাথর উত্তোলন। পাশপাশি সমানতালে চলতে রোড ডাকাতি ও চুরি-চামারি। সিলেট কোম্পানীগঞ্জ সড়কের বর্নি এলাকায় ছিল ডাকাতদের নিরাপদ রাজত্ব। ফলে সন্ধ্যা হলেই বন্ধ হয়ে যেতো সিলেট কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল। আজ থেকে ৫ মাস আগে ওসি সজল কুমার কানু কোম্পানীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর ডাকাত দমনে পরিচালনা করতে থাকনে সাড়াশি অভিযান। গ্রেফতার করেন ২৯ জন কুখ্যাত ডাকাত। বাধ্য হয়ে একসাথে থানায় আত্মসমর্থন করে এলাকার ১০ জন ডাকাত। ফলে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক হয়েছে ডাকাতমুক্ত। রাতদিন যানবাহন চলাচলের পাশপাশি চলতে শুরু করেছে বিআরটিসি বাস। গড়ে উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ এক নিরাপদ পর্যটন এলাকা।
ওসি সজল কুমার কানু মনোনিবেশ করেন পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ পাথর উত্তোলনে বন্ধে। অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে গত ৫ মাসে থানায় ২৩ টি মামলা রুজু করে বন্ধ করে দেন ১০টি অবৈধ পাথর কোয়ারি। ফলে গত ২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে অবৈধ পাথর উত্তোলন। বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের প্রাণহানি,চুরি ও ডাকাতি। আর এটা একমাত্র করতে পেরেছেন বাংলাদেশ পুলিশের কৃর্তিমান ওসি সজল কুমার কানু।
একসময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছিল ভারতীয় গরু,মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্টে। সজল কুমান কানু থানায় যোগদানের পর সে পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি তিনি ১০ টি ভারতীয় গরু জব্ধ, নিলা ও আরো কয়েকটি গরু আটকের মাধ্যমে গরু চোলানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ফলে আর চোরাচালানীতে সাহস করে নি গো’ চোরাকারবারীরা।
মাদক চোরাচালানী রোড বলে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে একের পরে এক অভিযান চালাতে থাকেন ওসি সজল কুমার কানু। গত ৫ মাসে তিনি বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার ও ৩৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছেন। মাদকমুক্ত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে। গত কয়েক মাসে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং অস্ত্র মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার করেন। ফলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী থেকে মুক্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ।
ওসি সজল কুমার কানু গরুচোরাচালনী, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানী বন্ধের পাশপাশি কোম্পানীগঞ্জ থানাকে অপরাধ মুক্ত করতে দাগী অপরাধী ও পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করেন । গত কয়েক মাসে তিনি ৩৮৫ টি গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করে অপরাধীদের গ্রেফতার করেন। ফলে মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি অপরাধীরা এবং শান্তিতে বসবাস করেছেন উপজেলাবাসী।
শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, মানবকল্যাণেও তিনি রেখে চলেছেন অপূর্ব দৃষ্টান্ত। চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস রোধ ও লকডাউনে বন্ধী মানুষের সাহায্যে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। মানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে তিনি থানার পুকুরের মাছ ধরে গরীব অসহায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া ৫শ’ পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে তাদেরকে ম্ছা দিয়ে আসেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেন। কোম্পানীগঞ্জে যাতে করোনা ভাইরাসমুক্ত থাকে সেজন্য তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে উপজেলার প্রবেশ মুখে বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে জীবাণুনাশক ঔষধ দিয়ে গাড়ি ধৌতকরণ, গাড়ির যাত্রীদের হ্যান্ড ওয়াশ ও হেক্সাসল দিয়ে হাত জীবাণু মুক্ত করণ ও লেবু মিশ্রিত গরম পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে দেন।
আইন শৃঙ্খলার অভিনব উন্নতি, শান্তি স্থাপন ও মানবকল্যাণে অগ্রণির ভূমিকা পালনসহ জনহিতকর কাজের জন্য তিনি কোম্পানীগঞ্জের আপামর জনসাধারণের কাছে একজন আস্থাভাজন ওসি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। তাই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওসি সজল কুমার কানুকে সিলেট জেলার শ্রেষ্ট ওসি নির্বিাচিত করা হয়েছে।
ওসি সজল কুমার কানু তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানা দায়িত্ব দেওয়ায় উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তি সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন-তিনি কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং জনসাধারণও পুলিশকে যে কোন বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। তিনি বলেন আমার সব ভালো কাজ মূলত থানা এলাকার জনগনের সমর্থন ও সহযোগিতায়ই করা সম্ভব হয়েছে। আশা করি থানার জনসাধারণ আগামী দিনেও তাদের সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখবেন।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.