সংবাদ শিরোনাম
বিচারবহির্ভূত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে’  » «   সুনামগঞ্জে ৪৫জন পেল প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান  » «   জগন্নাথপুরে স্বাস্থ্যকর্মী সহ আরও দুইজন করোনায় আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১১৬  » «   সুনামগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার  » «   কুলাউড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা  » «   জেলে ফুরফুরে মেজাজে ওসি প্রদীপ!  » «   দোয়ারায় ত্রান নিতে এসে চেয়ারম্যানের হাতে মার খেলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা  » «   জগন্নাথপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬  » «   ছাতকের জাহিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির কমিটি নিয়ে দু-পক্ষের সংঘর্ষ:আহত ১০  » «   জাফলংয়ে নিখোঁজের দুইদিন পর পর্যটকের লাশ উদ্ধার  » «   শিক্ষক মহাজোটের সভায় প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব  » «   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে টিনের চালে ঢিল মারা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত  » «   গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি: ওসি প্রদীপ কোথায়?  » «   জগন্নাথপুরে চিকিৎসক সহ আরও ২জন করোনায় আক্রান্ত:মোট আক্রান্ত ১১৪  » «   জগন্নাথপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংর্ঘষের এলাকা থেকে বন্দুক সহ গ্রেফতার-১  » «  

জগন্নাথপুরে বন্যায় ভেসে গেছে মৎস্য খামারীর স্বপ্ন

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপর্যুপরি তিন দফা বন্যায় মৎস্য খামারীদের স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। ভাড়া করা অন্যের জমিতে অধিক লাভের আশায় মৎস্য খামার করে এখন তারা দিশেহারা। জমিনের ভাড়ার টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন নিয়েও চাষিরা পড়েছেন বেকায়দায়।

জানা যায়, মাছ চাষ করে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখেন উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্বপুর গ্রামের হাজী এখলাছুর রহমান আখলই একই গ্রামের জফর আলী, বাবুল মিয়া, আওয়াল মিয়া, মুবাশি^ আলী, বাগময়না গ্রামের মো. আলমঙ্গীর, সহ আরো অনেকেই মৎস্য খামার করেন। মৎস্য খামারীরা এপ্রিল মাসে পুকুর দিঘীতে মাছ চাষের উপযোগি করে রুই, কাতলা সহ বিভিন্ন ধরণের মাছের পোনা চাষ শুরু করেন। এতে পোনা ক্রয় সহ প্রায় লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে খামারের মাছের যাবতীয় পরিচর্যা ঠিক মত চলে আসছিল। এতে প্রতিটি মাছ দ্রুত বেড়ে বলিষ্ট হয়ে দেহের গঠন দেখে চাষিরা ছিলেন আনন্দে। প্রতিটি মাছ ৪০টাকায় বিক্রি হওয়া সম্ভব ছিল। সময় মতো পুকুর দিঘী থেকে মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভের মুখ দেখবেন এমন প্রত্যাশায় শ্রমিক নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে আসছিলেন মৎস্য খামারীরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। জুনের শেষের দিকে টানা ভারি বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং পুকুরের চারপাশে জাল ফেলে মাছ রক্ষা করা হয়। আকস্মিক বন্যার পানি কমতে না কমতেই দুসপ্তাহের ব্যবধানে অতিবৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে প্লাাবিত হয়ে যায় উপজেলার বিস্তীর্ন এলাকা। সে সাথে শেষ রক্ষা হয়নি খামারীর। পানির সাথে ভেসে যায় খামারের মাছ। সেই সাথে ভেসে যায় অধিক লাভের স্বপ্ন। ওই বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করলে উপর্যুপরিভাবে আবারও তৃতীয় দফা বন্যায় উপজেলা বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য খামারীদের স্বপ্ন ভেসে যায় পানিতে। 

ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ খামারী হাজী এখলাছুর রহমান আখলই একই গ্রামের জফর আলী বলেন, বন্যায় তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। লাভের স্থলে মুলধন হারিয়ে তারা এখন সর্বশান্ত। পর পর তিন দফা বন্যায় তাদের দুজনের ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেক দুই ক্ষতিগ্রস্থ খামারী বাগময়না গ্রামের আলমঙ্গীর বলেন, বড় আশা করে কয়েক লাখ লাখ টাকার পোনা মাছ ছেড়েছিলেন। দফায় দফায় বন্যায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পূরন হওয়ার নয়।

ব্যাপারে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬০জন মাছ চাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষতি প্রায় কোটির মত মৎস্য অধিদপ্তর বিষয়ে আন্তরিক। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের আর্থিক সহযোগিতা বা ক্ষতিপূরণ বাবদ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার একটা আশ^াস পেয়েছি। আশা করি অচিরে এটা আমরা পাব। সহায়তা পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের মধ্যে এটা বিতরণ করতে পারবো।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.