সংবাদ শিরোনাম
হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারে তৃণমূল যুবদলকে শক্তিশালী করতে হবে: শহীদ উল্লাহ  » «   আল্লামা শফির মৃত্যুতে সিলেটে তাৎক্ষণিক শোকসভা:হাটহাজারীতে তাণ্ডবের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি  » «   সমকাল সুহৃদ সমাবেশ শিশু-কিশোর ভাচুর্য়াল  কুইজ প্রতিযোগিতার পঞ্চম বিজয়ী তিথি  » «   জগন্নাথপুরে ইয়াবাসহ মাদকসেবী আটক  » «   হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই  » «   ৪ অক্টোবর থেকে ফের চালু হচ্ছে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট  » «   ৪ লাখ ভারতীয় রুপিসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আটক  » «   ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী  » «   সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী শ্রমিকদের বন্দিদশা, নির্মমতা  » «   জগন্নাথপুরে আরো ২জন করোনা আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১৬৩  » «   জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:জরিমানা আদায়  » «   সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় গুমাই নদী থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  » «   প্রেমিকের টানে ভারতীয় তরুণী সুনামগঞ্জে:তারপর..   » «   রশীদ পরিবারের পক্ষে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী প্রদান  » «   সাংবাদিক ওলিউর রহমানের মাতার মৃত্যুতে সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক  » «  

প্রকাশিত সংবাদে ডা.শাহ আলমের ভিন্নমত

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী ডা. এ এইচ এম শাহ আলম (সাগর)। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক (রেজি নং এ-৫২৫২০)। সিলেট নগরীর মধুশহীদ এলাকায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচতলায় ৫/৬ বছর ধরে আমি চেম্বার করি। করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে আমি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে একদিনের জন্যও চেম্বার বন্ধ রাখিনি। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মানসে চিকিৎসা পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করি। পেশার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা প্রতারণা করিনি কোনোদিনই। আমি দীর্ঘদিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিভাগে অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলাম।

কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে আমাকে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে কয়েকদিন কারাভোগ করতে হয়েছে। ওই কুচক্রীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় আমাকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে, আমি না কী করোনার ভূয়া সনদ বিক্রি করে থাকি? করোনার ক্রান্তিলগ্নে যেখানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চেম্বার নিয়মিত করেছি, পিসিআর ল্যাব ছাড়া করোনা পরীক্ষা ছাড়াই সনদ প্রদানের মতো জঘন্য কাজ করা তো দূরে থাক, স্বপ্নেও তা ভাবি নি। করোনা পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত ল্যাব ছাড়া বিকল্প কিছু নেই এদেশে। যারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পর সনদ প্রদান করে থাকে। সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া এ কাজ অন্য কারো দ্বারা সম্ভব নয়। অথচ কুচক্রী মহল দুজন রোগীকে আমার দেওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেটকে করোনার সার্টিফিকেট আখ্যায়িত করে আমার পেশাগত সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। তাদের অপপ্রচারের কারণে আমি সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুল তথ্যে আমাকে করোনা ভূয়া সনদ প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। একজন রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করা দেশের চিকিৎসাপেশায় অবৈধ কোনো কাজ নয়। কারো চাকুরী কিংবা বিদেশগমনকালে হরহামেশা ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন চিকিৎসকরা। শারীরিক পরীক্ষা নীরিক্ষা ও উপসর্গ বিশ্লেষণে রোগীদের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা থাকে, এ সকল ফিটনেস সার্টিফিকেটে। যে দুটি সার্টিফিকেট নিয়ে অপপ্রচার করা হয় তা হলো প্রবাসী কামাল আহমেদ এবং তার স্ত্রী আফিয়া খাতুনের ফিটনেস সার্টিফিকেট। তাদের দেওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেটে কোথাও করোনা পজিটিভ কিংবা করোনা নেগেটিভ উল্লেখ করিনি আমি। তাদের দেওয়া সনদে শারীরিক পর্যবেক্ষণে করোনার উপসর্গ নেই উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই বিষয়টিকে কুচক্রী মহল করোনার সনদ বলে অপপ্রচারে নেমে পড়ে। তারা এ সনদকে করোনার ভুয়া নেগেটিভ সনদ আখ্যায়িক করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে। তারা গণমাধ্যমে ভুল তথ্য সরবরাহ করে প্রকৃত সত্য আড়াল করার অপচেষ্টা করেছে।

আমি দীর্ঘদিন ধরে সুনাম ও সততার সাথে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি সাধারণ মানুষকে। অসহায় দরিদ্র রোগীদের অনেক সময় বিনা ফিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকি। নিজের সাধ্য অনুযায়ী, তাদের ঔষধপত্রও সরবরাহ করি। করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছি। আমৃত্যু সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করে যেতে চাই।

কুচক্রী মহলের অপপ্রচারের কারণে আমাকে কয়েকদিন কারাভোগও করতে হয়েছে। আমার করোনা পজিটিভ ধরা পড়লে আমি আর চেম্বার করিনি। অথচ অপপ্রচারকারীরা করোনা পজিটিভ নিয়ে চেম্বার করেছি, এমন তথ্যও উপস্থাপন করেছে। ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে আদায় করার কল্পকাহিনীও গণমাধ্যমের সরবরাহ করেছে কুচক্রীরা।

মানুষ হিসেবে ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে কেউই নয়, দেশে উপসর্গবিহীন রোগীর করোনা পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি ফিটনেস সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা আমার অজান্তে ভুল হয়ে গেছে, যা আমি বুঝার সাথে সাথেই স্বীকার করেছি। এছাড়া করোনা সনদ প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া। আমাকে নিয়ে এ ধরণের মিথ্যাচারের কারণে আজ আমি সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। আমি এ ধরণের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণমাধ্যমে প্রকৃত সত্য উঠে আসুক এমন প্রত্যাশা সকলের।

শুভেচ্ছান্তে

ডা. এ এইচ এম শাহ আলম (সাগর)

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.