সংবাদ শিরোনাম
হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারে তৃণমূল যুবদলকে শক্তিশালী করতে হবে: শহীদ উল্লাহ  » «   আল্লামা শফির মৃত্যুতে সিলেটে তাৎক্ষণিক শোকসভা:হাটহাজারীতে তাণ্ডবের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি  » «   সমকাল সুহৃদ সমাবেশ শিশু-কিশোর ভাচুর্য়াল  কুইজ প্রতিযোগিতার পঞ্চম বিজয়ী তিথি  » «   জগন্নাথপুরে ইয়াবাসহ মাদকসেবী আটক  » «   হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী আর নেই  » «   ৪ অক্টোবর থেকে ফের চালু হচ্ছে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট  » «   ৪ লাখ ভারতীয় রুপিসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আটক  » «   ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী  » «   সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী শ্রমিকদের বন্দিদশা, নির্মমতা  » «   জগন্নাথপুরে আরো ২জন করোনা আক্রান্ত: মোট আক্রান্ত ১৬৩  » «   জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:জরিমানা আদায়  » «   সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় গুমাই নদী থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার  » «   প্রেমিকের টানে ভারতীয় তরুণী সুনামগঞ্জে:তারপর..   » «   রশীদ পরিবারের পক্ষে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী প্রদান  » «   সাংবাদিক ওলিউর রহমানের মাতার মৃত্যুতে সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক  » «  

সিলেটে করোনা নিয়ে নতুন শঙ্কা

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::করোনা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা বাড়ছে সিলেটে। ঈদ বাজারে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। অনেক ঢাকঢোল পিটালেও পশুর হাটে দূরত্ব মানার বালাই ছিল না। বরং মানুষের ভিড়ের কারণে অনেক ক্রেতাই বাজারের ভেতরে না ঢুকে রাস্তা থেকেই কোরবানির পশু ক্রয় করেছেন। রমজানের ঈদে সিলেটের মানুষ ঈদ মার্কেটিং করতে পারেনি। এবার ঈদুল আজহাতে নতুন পোশাক নিতে অনেক ভিড় ছিল ক্রেতাদের। ফলে ঈদের এই অবাধ কেনাকাটা নিয়ে ইতিমধ্যে শঙ্কা বেড়েছে সিলেটে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে ঈদে করোনার আরেক দফা কমিউনিটির ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে।

ফলে অস্বাভাবিক হারেও বেড়ে যেতে পারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো সিলেটে এখন করোনা চিকিৎসার পরিধি বেড়েছে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কোভিড চিকিৎসার নির্ধারিত হাসপাতাল। এই হাসপাতালেও আগের চেয়ে আরো বেশি চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডকে করোনার জন্য বরাদ্দ রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। সিলেটের খাদিমপাড়ায় ৩১ শয্যা ও দক্ষিণ সুরমায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি হাসপাতালে সরকারিভাবে করোনা চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে। বেসরকারিভাবে সিলেটের নর্থইস্ট ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই চিকিৎসা সেবা শুরু করা হয়েছে। এখন আর করোনা রোগী কিংবা করোনা সন্দেহ রোগী হাসপাতালের দরোজা থেকে ফিরে যান না। চিকিৎসার পরিধি বাড়ার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে- অস্বস্তি অন্য জায়গায়। করোনার চিকিৎসার পরিধি বাড়লেও সংক্রমণের হার কমছে না। ঈদ পরবর্তী তিন দিনেও সংক্রমণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও এ নিয়ে চিন্তিত। রোববার রাতেও সিলেটে নতুন করে ৭৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তদের মধ্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদও রয়েছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সিলেট জেলার ৪৩ জন, হবিগঞ্জের ৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ১৮ জন রয়েছেন। এদিকে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ২১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। নতুন আক্রান্ত সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য বিভাগের সোমবারের তথ্য মতে- সিলেট বিভাগের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চার মাসে বেড়েছে এই রোগীর সংখ্যা। সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৫১ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ১ হাজার ৫১২ জন, হবিগঞ্জে ১ হাজার ১৮৫ জন ও মৌলভীবাজারের ৯৯১ জন রয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪৮ জন। মারা যাওয়াদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১০ জন, সুনামগঞ্জে ১৫ জন, হবিগঞ্জে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ১৩ জন রয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে ৩ হাজার ৫২২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১ হাজার ৯০ জন, সুনামগঞ্জের ১ হাজার ১৪২ জন, হবিগঞ্জের ৭১৯ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ৫৭১ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৭ জনকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়। করোনা আক্রান্ত ১৭২ জন রোগী বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ৭৬ জন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬ জন, হবিগঞ্জের হাসপাতালে ৪৪ জন ও মৌলভীবাজারে ২৬ জন। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গতকালও ভর্তি ছিলেন ৬৭ জন রোগী। ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা কমলেও আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা কমেনি বলে জানিয়েছেন এ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. চয়ন রায়। তিনি জানিয়েছেন- আইসিইউতে ১৪ জন রোগী রয়েছে। এদের অনেকেরই অবস্থা গুরুতর। শামসুদ্দিনের আইসিইউ সব সময় রোগী ভর্তি থাকে বলে জানান তিনি। তবে বেশি সংখ্যক রোগী শামসুদ্দিনের আইসিইউ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে- করোনার চার মাসে অনেককেই হারিয়েছে সিলেটবাসী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করেই চিরতরে চলে গেলেন সিলেটের মানুষের প্রিয়জন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপি নেতা এমএ হককেও সিলেটের মানুষ হারিয়েছেন। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডা. মঈন উদ্দিন, ডা, গোপাল শঙ্কর দেসহ অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এ কারণে শোকে কাতর সিলেটে। করোনায় এসব মৃত্যু নাড়া দিয়েছে সিলেটবাসী। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- ঈদের আগে সিলেটের করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছিল। আগের মতো মৃত্যুর সংখ্যা না বাড়লেও সংক্রমের হার কমছে না, বরং সেটি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এটি একটি উদ্বেগের বিষয়। তবে মানুষ না জাগলে করোনা দূর হবে না। মানুষকেই সবার আগে সতর্ক হতে হবে। মানুষ সতর্ক হলেই করোনার সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঈদের পর মানুষের মধ্যে বেড়ানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে মানুষ ছুটে যাচ্ছে। ঘুরে বেড়ানোর কারণেই অনেকেই সংক্রমিত হতে পারেন। সুতরাং করোনা রয়েছে এবং সেটি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে- সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই জীবন চালাতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.