সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের নারীসহ ৮জন আহত,থানায় মামলা   » «   ফ্রান্সে মহানবী (সা:) কে অবমাননার প্রতিবাদে তরুণ প্রজন্ম জগন্নাথপুরের মানববন্ধন  » «   জগন্নাথপুরে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায়  » «   টিউবওয়েল বরাদ্দের তালিকায় ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম এলাকায় তোলপাড়  » «   দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় এক কিশোর নিহত  » «   যুবলীগ থেকে বাদ পড়ছেন আগের কমিটির ৭৩ নেতা  » «   শাহপরাণের চক গ্রামে স্ত্রীকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা:স্বামীর যাবজ্জীবন  » «   দোহা বিমানবন্দরের বাথরুমে নবজাতক, অতঃপর…  » «   বিদেশে নাগরিকদের সতর্ক করে বিশেষ বার্তা ফ্রান্সের  » «   মেসির বিপক্ষে আজ খেলতে পারছেন না রোনালদো  » «   আপত্তিকরভাবে নারীদেহ তল্লাশির তদন্ত করবে কাতার, ক্ষমা প্রার্থনা  » «   সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের বাসায় ভাংচুরের  প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন  » «   আবারও বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি  » «   মার্কিন নির্বাচন আর ৫ দিন: সাবধানী বাইডেন, ট্রাম্প মরিয়া  » «   মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নই আমাদের অঙ্গীকার।”  » «  

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ও রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ -৩য় পর্ব

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

মোঃ আব্দুল মালিক::মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বা খাজা সলিমুল্লাহ ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার আহসান মঞ্জিলে নবাব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি চৌরঙ্গী কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সমাধি স্থল ঢাকার বেগম বাজারে। পিতার নাম নবাব খাজা আহসান উল্লাহ, দাদার নাম নবাব খাজা আব্দুল গণি, পুত্রের নাম নবাব খাজা হাবিবুল্লা।

বরিশাল জেলার জামালপুর পরগণার শেখ এনায়েত উল্লাহ মুঘল আমলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কুমারটুলিতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। তাঁর পুত্র মতি উল্লাহ প্রাসাদটি ফরাসি বণিকদের নিকট বিক্রি করে দেন। ফরাসিরা এটিকে ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। ১৮৩০ সালে নবাব খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের নিকট থেকে ক্রয় করে এটিকে আবার প্রাসাদে পরিণত করেন। নবাব আব্দুল গণি নিজ পুত্র আহসান উল্লাহর নামানুসারে এটির নাম ‘আহসান মঞ্জিল’ রাখেন । ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে যাদুঘরে পরিণত করেন।

পারিবারিক প্রথা অনুযায়ি খাজা সলিমুল্লাহ গৃহশিক্ষকের নিকট আরবি, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেটের চাকুরী নেন। কিছুদিনের মধ্যে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে জনহিতকর কাজে মনোনিবেশ করেন।

১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর খাজা সলিমুল্লাহ নবাবীর দায়িত্ব পেয়ে ঢাকার সকল মহল্লায় নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ঢাকার সমাজ জীবনে পঞ্চায়েত প্রথা সুসংগঠিত করতে তিনি যথেষ্ট অবদান রাখেন। তিনি খেলাধুলা, গান-বাজনা, বায়োস্কোপ প্রদর্শনী, নাট্যাভিনয় ইত্যাদির পৃষ্ঠপোষকতা যেমন করেছেন তেমনি ঈদ, ফাতেহা-ই-ইয়াজ-দাহাম ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অবদান রেখেছেন।

গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর ‘স্যার ফিলিপ হার্টগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য’ বইতে নবাব পরিবার সম্পর্কে লিখেছেন, ‘নবাবেরা ছিলেন ধর্মভীরু কিন্তু আধুনিক ও সংস্কার মুক্ত অসাম্প্রদায়িক এবং হিন্দুদের প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন। সেজন্য বড় বড় হিন্দু নেতা ও নগরের গোটা হিন্দু সম্প্রদায় নবাবদের নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলেন।’

বৃটিশ সরকার ১৯০২ সালে তাঁকে ‘সিএসআই’ ১৯০৩ সালে ‘নওয়াব বাহাদুর’ ১৯০৯ সালে ‘কেসিএসআই’ এবং ১৯১১ সালে ‘জিসিএসআই’ উপাধি প্রদান করেন।

১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন ঢাকা সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার নানা সমস্যা তাঁর সামনে তুলে ধরেন ।

১৯০৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে নবাব সলিমুল্লাহ তাঁর ভাষণে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমানরা কতটা পিছিয়ে আছেন তা তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে উপস্থাপন করেন। এই শিক্ষা সম্মেলনে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১৫০০ প্রতিনিধি ও ৫০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সকলের থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভার তিনি বহন করেন। এই সম্মেলন শেষে ৩০ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।

১৯১১ সালের ২৯ আগষ্ট কার্জন হলে পূর্ববঙ্গের ছোটলাট ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে দুটি মানপত্র দিয়ে তিনি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ অন্যান্য দাবী জানান।

১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে ৩১ জানুয়ারি নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র দেন। এই মানপত্রে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সহ অন্যান্য দাবী দাওয়া ছিল।

এইভাবে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ পূর্ববঙ্গ ও আসামের উন্নয়নে রাজনৈতিক, সামাজিক, জনহিতকর অনেক কাজ করেছেন।

নবাব সলিমুল্লাহকে নিয়ে বেশ কিছু জনশ্রুতি আছে, তম্মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬০০ একর ভূমি দান, মুসলিম লীগের স্বপ্নদ্রষ্ঠা, মুসলিম হল, সলিমুল্লাহ এতিমখানা, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রধান। ইতিহাসের স্বার্থে ইতিহাসের আলোকে এগুলো আলোচনা হওয়া দরকার।

প্রথমতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় নবাব পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা খুব ভালো ছিল না। দ্বিতীয়তঃ বাংলা পিড়িয়ার তথ্যমতে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনার আওতায় পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে গঠিত নতুন প্রদেশের প্রশাসনিক কার্যালয়ের জন্য যে ২৪৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেই পরিত্যাক্ত ভূমিতেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। সেই তথ্য ঢাকা কালেক্টরেটে রক্ষিত আছে। তৃতীয়তঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল ১৯১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় আইনসভায় উত্থাপিত হয়। বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ১৯২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা পর্যালোচনার পর বিলটি আইনসভায় পাশ হয় এবং ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্ণর জেনারেলের অনুমোদন লাভ করে। পক্ষান্তরে নবাব সলিমুল্লা মারা যান ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়, কখন, কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তা জানার পূর্বে জমি প্রদান করা কতটুকু যৌক্তিক সে প্রশ্ন থেকে যায়। চতুর্থতঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনে ২৪৩ একর ভূমি প্রদানের কথা উল্লেখ আছে।

১৮৮৮ সালে নবাব আহসান উল্লাহ বর্তমান বঙ্গ ভবন ও দিলকুশা এলাকার বেশ কিছু ভূমি সরকার থেকে লীজ নিয়ে ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার ও গর্ত ভরাট করে ভোগ দখল করতেন। পরবর্তী সময়ে যার একটি অংশ পল্টন ময়দান নামে পরিচিতি পায়। ধারণা করা যায় এরুপ লীজের জমি সাধারণ জনগণ নবাব পরিবারের মনে করতেন।

ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লা লিখিত ‘নওয়াব সলিমুল্লাহ’ গ্রন্থে নবাব পরিবারের দান অনুদানের একটি সংক্ষিপ্ত সার দেয়া আছে। সেখানে এর উল্লেখ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসের মধ্যে বহু ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ছিল। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ছিল ২৫৮.২৮ একর ২০১৭-১৮ সালে ভূমির পরিমাপ দাঁড়ায় ২৭৫.৮৩ একর। সরকার পূর্বাচলে ২য় ক্যাম্পাসের জন্য ৫১.৯৯ একর ভূমি বরাদ্দ দিয়েছেন।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আলমগীর রচিত ‘ইতিহাসের আলোকে আমাদের শিক্ষার ঐতিহ্য ও প্রকৃতি’ গ্রন্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ একর ভূমি সরকার কতর্ৃক বিভিন্ন সময় দখল করে নেয়ার কথা উল্লেখ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া ৫৭ একর ভূমি ফেরত দেওয়ার জন্য সরকারকে পত্র দেন। বিচারপতি ফজলে আকবর কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া ভূমির পরিমান ৬৩ একর বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভূমি ২৭৫.৮৩ একর ও বেহাত হওয়া ভূমি ৫৭ একর মিলে হয় ৩৩২.৮৩ একর। যা ৬০০ একর এর প্রায় অর্ধেক। তাই ৬০০ একরের বিষয়টি গালগল্প ছাড়া আর কিছু নয়।

অনেকে বলে থাকেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা বা স্বপ্নদ্রষ্টা। আসলে কী তাই ? মুহাম্মদ-ইনাম-উল হক রচিত ‘ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা’ বইয়ে আছে- “নবাব ভিকার-উল-মুলক মুসলমানদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রথম প্রস্তাব করেন।” “১৯০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুসলিম নেতৃবৃন্দ সিমলা ডেপুটেশনে যাওয়ার জন্য এবং লর্ড মিন্টোর কাছে পেশকৃত স্মারকলিপি পর্যালোচনার জন্য লক্ষেèাতে মিলিত হলে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব লাভ করে। ঐ সভায় এও সিদ্ধান্ত হয় যে মোহামেডান এডুকেশন কনফারেন্সের পরবর্তী বার্ষিক সভায় একটি সর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করা হবে। ১৯০৬ সালের অক্টোবরে পুনরায় সিমলায় বিষয়টি আলোচিত হয়। ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স শেষে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলীয়র একটি রুপরেখা প্রণয়ন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।” উক্ত শিক্ষা সম্মেলনের পর ৩০ ডিসেম্বর নবাব ভিকার উল-মুলক এর সভাপতিত্বে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এক রাজনৈতিক সভায় মিলিত হন। উক্ত সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর ‘মুসলিম লীগ’ নামে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন আগাখান, সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ হাসান বিলগ্রামী। পরে মুসলিম লীগের পূর্ববঙ্গ ও আসাম, পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক শাখা খোলা হয়। সেসব শাখা কমিটিতে  নবাব সলিমুল্লাহ সভাপতি/সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর থেকে অনুমিত হয় তিনি মুসলিম লীগের স্বপ্নদ্রষ্টা বা শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন না।

পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নবাব স্যার সলিমুল্লার নানা মুখী অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলের নাম পরিবর্তন করে ১৯৩২ সালে রাখা হয় ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’। সলিমুল্লাহ কতর্ৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামিয়া এতিম খানাটি তাঁর মৃত্যুর পর নামকরণ করা হয় ‘সলিমুল্লাহ এতিমখানা’। রবার্ট মিটফোর্ড নামে ঢাকার এক জেলা প্রশাসকের দ্বারা ১৮৫৮ সালে ‘মিটফোর্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠিত হয় কালের পরিক্রমায় ১৮৫৭ সালে স্থাপিত হয় ঢাকা মেডিকেল স্কুল। মিটফোর্ড হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত হয়ে এই মেডিকেল স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের অধ্যয়ন চলমান থাকে। ১৯৬২ সালে স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করা হয়। নাম দেয়া হয় মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ। পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় ‘স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।’ কলেজ ও হাসপাতাল মিলে পূর্ণ নাম হয় ‘স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল।’

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর শুরু ১৮৭৬ সালে সার্ভেস্কুলের মাধ্যমে। সরকার সার্ভে স্কুলকে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে রুপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু অর্থাভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। সে সময় নবাব সলিমুল্লাহর পিতা নবাব আহসান উল্লাহ এগিয়ে  আসেন এবং স্কুলের উন্নয়নে ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা দানের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯০২ সালে যখন ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন নবাব আহসান উল্লাহ জীবিত ছিলেন না। নবাব সলিমুল্লাহ বাবার প্রতিশ্রুত টাকা প্রদান করেন। তখন বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ‘আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল’। ১৯৪৭ সালে এটিকে কলেজে উন্নীত করা হয়। ১৯৬২ সালে কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নাম দেয়া হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়’। স্বাধীনতার পর এর নাম দেয়া হয় ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’।

অনেককে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়- ‘যে সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬০০ একর ভূমি দান করলেন সেই সলিমুল্লার জন্ম-মৃত্যু দিবস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হয় না, পালিত হয় বিরোধীতাকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।’ ভূমির বিষয়টি আগেই আলোচিত হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ বিষয়টি আগামী পর্বে আলোচিত হবে।

নবাব পরিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন ? বাংলাদেশ থেকেই নির্বাসিত বলেই মনে হয়। এর কারণ নবাব পরিবার নিজেই। সিপাহী বিদ্রোহের সময় যখন বৃটিশরা হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী বাঙালি সৈনিককে আহসান মঞ্জিলের পাশে বাহাদুর শাহ পার্কে ফাঁসি দিচ্ছে তখন নবাব সলিমুল্লার পূর্বসূরী নবাব স্যার আব্দুল গণি বৃটিশদেরকে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল করছেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তানের দায়িত্ব পান নবাব সলিমুল্লার উত্তরসূরী খাজা নাজিম উদ্দিন। তিনি দায়িত্ব পেয়ে বাঙালিদের অধিসংবাদিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবজ্ঞা করে পশ্চিম পাকিস্তানীদের স্বার্থ সংরক্ষণে ও এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের দাবী বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুর পক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে সমর্থন করে বাংলার মানুষের বুকে গুলি চালান, শহীদ করেন। তথাপিও পাকিস্তান সরকার আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নাম পরিবর্তন করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খাজা পরিবারের আরেক সন্তান জেনারেল খাজা ওয়াসী উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে পাকিস্তানে ছিলেন। খাজা পরিবারের বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি অনুধাবন করা যাবে।

তথ্যসূত্র- ১। ইতিহাসের আলোকে আমাদের শিক্ষার ঐতিহ্য ও প্রকৃতি-অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আলমগীর।

২। বৃটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা সমস্যা ও প্রসার-মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন।

৩। ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা আন্দোলন-মুহাম্মদ-ইমাম-উল-হক।

৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রন্থিত ইতিহাস-ড. রতন লাল চক্রবর্তী।

৫। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন স্মারক-২০১৯

৬। অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবুর রহমান

৭। পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীর রাজনীতি-বদর উদ্দিন ওমর।

৮। কাছে থেকে দেখা ১৯৭৩-১৯৭৫- মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান।

৯। ড. নূর-ই-ইসলাম সেলু বাসিত, পরিচালক জনসংযোগ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (অব)।

১০। গুগল ও উইকিপিডিয়া।


  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.