সংবাদ শিরোনাম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি কবরস্থানের পাশে ৩৭টি করছ গাছ কাটার অভিযোগ  » «   সিলেটে ইফতার বিতরণ অব্যাহত রেখেছে মহানগর যুবলীগ  » «   ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি সিলেট বিএনপি নেতাদের  » «   তাহিরপুরের পূর্ব শত্রুতার জেরে এক নিরীহ ব্যক্তিকে পিঠিয়ে রক্তাক্ত,থানায় অভিযোগ  » «   প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে চলতি মাসের মধ্যে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোর ধান কাটা শেষ হবে,বিভাগীয় কমিশনার   » «   জগন্নাথপুর বিএনপি পরিবারের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল  » «   মামুনুল হক সাত দিনের রিমান্ডে  » «   ‘চলমান লকডাউনের মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল’  » «   লকডাউন:নগরীতে রিকশা চালকদেরও শাস্তির মুখোমুখি  » «   শ্রীমঙ্গলে তিন গাড়িসহ চোরাই কাঠ জব্দ, কারাগারে তিন পাচারকারি  » «   বিয়ানীবাজারে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৪৯৪  » «   জগন্নাথপুরে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার  » «   জগন্নাথপুরে আরো দুজন করোনা শনাক্ত: মোট আক্রান্ত ২০৩  » «   গরীব দুস্থ ও অসহায়দেরকে নিয়ে মাপসাস’র ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «   শ্রীমঙ্গলের ইফতারী বিক্রীকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৭  » «  

মির্জা কাদের নয়, আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে: এমপি একরামুল

  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার পরিবারের লোক এই পর্যায়ে এসেছে, তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলবো। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’-এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের এমপি মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার রাতে ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন এমপি মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।

ভিডিওটি রাতেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সাংসদ একরামুল করিমের ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে এবং আজ শুক্রবার সকালে জেলা শহরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলে তারা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

লাইভ ভিডিওর বিষয়ে শুক্রবার সকালে সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তো ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বলেছি মির্জা কাদেরের পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী। আর কাদের ভাই হলো বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকার বংশের কাদের মির্জা গত এক মাস ধরে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এর কোনো বিচার হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা কাদেরের চাচা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তাকে কাদের ভাইয়ের বাহিনী গুলি করে মেরেছে। তার বাবা ছিলেন মুসলিম লীগার। মির্জা কাদেরের নানা ছিলেন শান্তি বাহিনীর কমান্ডার। মামা ছিলেন রাজাকার। তাদের পুরো বংশই ছিল রাজাকার। একটা রাজাকার বংশের লোক নিয়মিত ৩০০ সাংসদের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা নেই দলের ভেতর।’

ভিডিওতে ওবায়দুল কাদেরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি আসলে কাদের ভাইকে নিয়ে কিছু বলিনি। গত এক মাস ধরে ধৈর্য ধরেছি। আমি মির্জা কাদেরকে উদ্দেশ করেই কথাগুলো বলেছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে জটিলতা কী? জানতে চাইলে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই কমিটি এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আজ দুপুরে বলেন, ‘১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় ওবায়দুল কাদের মারা গেছেন বলে তারা শুনেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তিনিই প্রথম ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ৩৬ মাস কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমাদের পরিবারে রাজাকার কে? আমার বাবা শিক্ষকতা করতেন। কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। শিক্ষকতা করতে গিয়ে হয়তো কারও সাথে ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে, তিনি কোনো রাজনীতি করেননি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জা কাদেরের চাচা এরফান মিয়া রাজাকার ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার (চাচা) সাথে আমাদের পারিবারিক ঝামেলা ছিল। যুদ্ধের সময় আমার চাচা একদিন আমার ভাইকে মারার জন্যও চেষ্টা করেছে, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে বড় ভাই মুজিব বাহিনীর প্রধান ঘর থেকে বের হয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের পেছনের হিন্দু বাড়ি লুট করবে, তাদের মেরে ফেলবে, শুনে আমার আব্বা তাদের রক্ষা করেছেন। তিনি আমার চাচার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন। তাহলে আমরা কীভাবে রাজাকার পরিবার হলাম।’

আবদুল কাদের মির্জা সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীকে উদ্দেশে করে বলেন, ‘এত বড় ঔদ্ধত্য তার। আমরা জাতির কাছে বিচার চাই। আমি কোনো কথা যদি মিথ্যা বলি, আমার বিচার করুক।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের আগে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা টেন্ডারবাজি, অপরাজনীতি, মাদক, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ এনে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীসহ নিজ দলের একাধিক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতার সমালোচনা করে আলোচনার ঝড় তোলেন।


  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.