সংবাদ শিরোনাম
ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির সুযোগে হাইকোর্টের রুল  » «   মাধ্যমিকে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল  » «   একজন মানুষ তাঁর কর্মের মাধ্যমে সবার কাছে প্রিয় বা অপ্রিয় হন: চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহমদ  » «   পদত্যাগ করলেন মুরাদ হাসান  » «   সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর অভিযোগ:‘অন্যায়ভাবে আমাদের বাসাবাড়ি ভেঙে দিয়েছেন মেয়র আরিফ’  » «   সুনামগঞ্জের সদরগড়ে দুইপক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে এক সালিশকে পিঠিয়ে হত্যা  » «   জৈন্তাপুরে সিজদারত অবস্থায় এক ইমামের মৃত্যু  » «   সিলেটে আসছে শীত বদলে যাচ্ছে তাপমাত্রা-কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়  » «   কুলাউড়ায় নবনির্বাচিত হাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ইন্ধনে সীমানা প্রাচীর ভাংচুর  » «   সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের বাঁধা  » «   ইংল্যান্ডে প্রতি ৬০ জনে একজন কোভিড আক্রান্ত  » «   ছাতকের তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৯ জনকে কারাদন্ড  » «   দোয়ারাবাজারে কাজ করতে দেরি হওয়ায় দোকান ভাঙচুর, মারধর   » «   সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে  » «   কানাইঘাটের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে শোকের ছায়া-নারী বাবুর্চি সহ দু-জনের লাশ উদ্ধার  » «  

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জোড়াখুনের বিচার ও কৃষকদের ফসল রক্ষার দাবি

সিলেটপোস্ট ডেস্ক::বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওরে কৃষক ছরকুম আলী দয়াল ও স্কুলছাত্র সুমেলের খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, হাওরের লিজ বাতিল; দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।
বুধবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ‘চাউলধনী হাওর রক্ষা ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন’ সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম।
এসময় বিশ্বনাথ থানার সাবেক ওসি শামীম মূসা, এসআই ফজলু, সমবায় কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী তালুকদার ও মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ভূইয়াকেও আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের দাবি জানানো হয়।
হাওরের আশেপাশের ৩০/৩৫টি গ্রামের কৃষকদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দশঘর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে অবৈধ সমিতি ৬ বছরের জন্য হাওরের ১৭৮.৯৮ একর সরকারি জমি লিজ নেয়। কৃষ্ণা রানী ও সফিকুল ইসলামের যোগসাজশে অযোগ্য স্বত্ত্বেও তারা লিজ পায়। হাওরে প্রায় ৮/১০ হাজার একর জমি রয়েছে। হাওর লিজ নিয়ে সমিতি সাবলিজ প্রদান করে ইসলামপুর গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী অমৎস্যজীবি সাইফুল ও তার সহযোগীদের। যা ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইনে বেআইনী। সাইফুল সহযোগীদের নিয়ে গত ১০ বছর ধরে কৃষকের জমি দখল করে পানি সেচ বা শুকিয়ে মাছ ধরে এবং একমাত্র ফসল ইরি-বোরোর বীজ বপন ও চারা রোপনে বাধা সৃষ্টি করে। যার কারণে শত কোটি টাকার ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি চৈতননগর গ্রামের কৃষক ছরকুম আলী দয়াল নিজের কৃষি জমিতে কাজ করতে গেলে সাইফুল ও তার লোকজন মিলে দয়ালকে হত্যা করে অপরাধীরা নিরাপদে পালিয়ে গেছে। ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় ৩০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা (০৩(০২)২১) দায়ের করা হয়। থানায় মামলা করতে গিয়ে দয়ালের ভাতিজা আহমদ আলীকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জনতার চাপে ৫দিন পর মামলা নেওয়া হয়। ওসি শামীম মূসা ও তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই ফজলু অপরাধীদের নানাভাবে সহযোগীতা করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত না করে মাত্র ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পরে বাদির নারাজি আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এটি পুনঃতদন্ত করছে।
আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাইফুল ও দলবল মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে বরাদ্দের ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে নির্ধারিত স্থানে মাটি না কেটে চৈতননগরের নজির উদ্দিনের নিজস্ব জমি ও বাড়িতে জোরপূর্বক মাটি কাটতে যায়। মুরব্বিদের নিয়ে নজির বিষয়টি জানতে চাইলে সাইফুল ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুঁড়ে। এতে নজিরের ভাতিজা স্কুলছাত্র সুমেল আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। নজির উদ্দিন, সুমেলের পিতা মানিক মিয়াসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন সেদিন। সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজ্জিল বাদি সাইফুলকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা (০৪(০৫)২১) দায়ের করেন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সুমেল হত্যার পর সাইফুলকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সহযোগীতা করা হয়েছে। আলামতও নষ্ট করা হয়েছে। এসব ঘটনা এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তবুও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ সাইফুলের দুটি পাসপোর্ট জব্দ করে; সেগুলো ছাড়িয়ে নিতেও সাইফুল বিভিন্নমাধ্যমে ও সরাসরি থানার ফটকে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আসামিরা ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে গেলে সাইফুল ও তার সহযোগী নজরুল, সদরুল, সিরাজ, আছরিককে ২৮ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন। বাকি ১৫ জন আসামিকে ৬ সপ্তাহের জামিন দেন। এরপর থেকেই সাইফুল ও তার লোকজন মামলা তুলে নিতে দুই মামলার বাদিদের হুমকি দিচ্ছে। যার কারণে দুটি জিডিও করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে হাওরের জমির সাথে কৃষকদের জমির সীমানা নির্ধারণের দীর্ঘ দাবির পর হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে সীমানা নির্ধারনের নির্দেশ প্রদান করেছে উচ্চ আদালত। সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়। মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম ভূইয়া সরেজমিনে তদন্তে না গিয়েই অজ্ঞাত কারণে কৃষকদের বিরুদ্ধে রির্পোট দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, নজির উদ্দিন, আহমদ আলী, মো. মানিক মিয়া, শাহাব উদ্দিন, মো. শামসুদ্দিন, মাওলানা ছমিরউদ্দিন, মো. ইব্রাহিম প্রমুখ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.