সংবাদ শিরোনাম
দোয়ারাবাজারে কেন্দ্র ফি’র নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়  » «   তাহিরপুরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে প্রধান শিক্ষকের টালবাহানা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে প্রতারণা, প্রতারককে জরিমানা  » «   মৌলভীবাজারের জুড়িতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ দুইজন গ্রেফতার  » «   দোয়ারাবাজারে বিদেশী মদের চালানসহ মাদক কারবারি আটক  » «   সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১৫টি স্পটে চলছে সহশ্রাধিক অবৈধ ক্রাশার মেশিনের তান্ডব  » «   সুনামগঞ্জে পিতা ও কন্যার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার  » «   নবীগঞ্জে যুদ্বাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া আমাদের মধ্যে আর নেই! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাপন  » «   জুড়ীতে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ১  » «   ছাতকে আবুল হোসেনকে পরিকল্পিত হত্যা নাকি অন্য কারণ?প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত   » «   তাহিরপুরে রাতের আঁধারে কৃষকের জমির ধান কেটে নিল প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনী   » «   ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ আহত ৭, আশংখাজনক ভাবে ৫জনকে সিলেট প্রেরন  » «  

জুনে ঢাকা আসতে চান মোদী

Modiসিলেটপোস্ট রিপোর্ট : আগামী জুনে ঢাকা সফরে আসতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ জন্য দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। মোদীর ঢাকা সফরকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ভারতের মন্ত্রিসভায় আসামকে রেখেই স্থল সীমান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় গত সোমবার তড়িঘড়ি করে ভেটিং ছাড়াই উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি পড়ে গেছে অনিশ্চয়তায়। যদিও অভিন্ন তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপাক্ষিক বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যো-পাধ্যায়ের বিরোধিতায় ঝুলে যাওয়া চুক্তিটি মোদীর সফরে সই হওয়ার আশা করেছিল ঢাকা।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত বছরের মে মাসে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের নানা উদ্যোগ নিয়েছেন মোদী। তারই অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলো সফর শুরু করেন তিনি। ঢাকা সফরে আসতেও মোদী খুব আগ্রহী। কিন্তু নানা জটিলতায় দেশটির সংসদে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলটি পাস হতে দেরি হচ্ছে। তাই মোদীর সফরও পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ মোদী খালি হাতে ঢাকা সফরে আসতে চান না। তাই এবার তাড়াহুড়ো করেই বিলটি পাস করার কাজ চলছে।

আগামী ৮ মে লোকসভার চলতি অধিবেশন শেষে চীন, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন মোদী। এরপর জুন মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি ঢাকা সফরে আসতে চান। সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি দু’দিনের ঢাকা সফরে আসবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে দু’দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে এই সফরে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় ঢাকা ঘোষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের সফরেও। তবে তখনকার ঢাকা ঘোষণার অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন অনেকটা পিছিয়ে আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নরেন্দ্র মোদীর সফর উপলক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। মোদীর সফর নিয়ে এখন দিন তারিখ চূড়ান্ত না হলেও জুনের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে কাজ চলছে। তারই অংশ হিসেবে ‘কোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিটি মোদীর সফরের সময় সই হবে। ভারতের সংসদে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হলেই সফরসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

স্থল সীমান্ত চুক্তি : মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে ভারতের মন্ত্রিসভায় স্থল সীমান্ত বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতের সংবিধানের ১১৯তম সংশোধনীর এই বিলটি আজ দেশটির রাজ্যসভায় পাস করার জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাসের জন্য বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। আসাম বিজেপির বিরোধিতার কারণে আসামকে বাদ দিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল পাসের পরিকল্পনা করলেও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের চাপে গত সোমবার রাতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বিলটি অপরিবর্তিতভাবে পাস করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ২০১৩ সালে বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করে। তাতে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের সম্মতি ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে আসাম বিধানসভার নির্বাচন। রাজ্য বিজেপি সেই নির্বাচনে জিততে সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করে। আসাম বিজেপির দাবি ছিল, এই চুক্তির ফলে আসাম ২৬৮ দশমিক ৪ একর জমি হারাবে। কংগ্রেস বলছে, বিলটি যেমন রয়েছে তেমনভাবেই তা পাস করাতে হবে। আসামের সিপিএম দলীয় মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ গত রোববার মোদীকে লেখা চিঠিতে বলেন, ভাগাভাগিতে আসাম ৪৪৫ দশমিক ৬ একর জমি বেশি পাবে। বিজেপি ২৬৮ দশমিক ৪ একর জমি হারানোর যে দাবি তুলেছে তা অসত্য।

এ নিয়ে গত সোমবার রাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর বাসভবনে এক বৈঠকে আসামকে রেখেই প্রস্তাবটি পাসের জন্য তোলার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও আসাম বিজেপির সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব নামে পরিচিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরে এসে প্রটোকলে সই করেন। এর আওতায় বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় এবং ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার অমীমাংসিত সীমানা চিহ্নিত হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ চুক্তিটি অনুসমর্থন দিলেও ভারত নানা কারণে ৪২ বছর ধরে সমস্যাটি ঝুলিয়ে রেখেছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তখনকার ক্ষমতাসীন কংগ্রেস বিলটি পাসের চেষ্টা চালায়, কিন্তু ব্যর্থ হয়। গত বছরের মে মাসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকে আপত্তি করে এলেও ক্ষমতাসীন দলের নানা চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন তিনি।

অনিশ্চয়তায় তিস্তা চুক্তি : ২০১১ সালে মনমোহন সিং ঢাকা সফরের সময়ই তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মমতার বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি সই হয়নি। এরপর থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার তিস্তা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরে এসে মমতা চুক্তির বিষয়ে তার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। সেই আশ্বাসে মোদীর সফরে চুক্তিটির আশা করেছিল ঢাকা। কারণ শুষ্ক মৌসুমে (ডিসেম্বর-মার্চ) তিস্তা নদীতে পানির প্রাপ্যতা একেবারেই কম, যা দিয়ে নদী বাঁচানোই কঠিন। সেচ কাজে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। চুক্তিটি অনিশ্চয়তায় পড়ে যাওয়ায় হতাশ ঢাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.