সংবাদ শিরোনাম
দোয়ারাবাজারে কেন্দ্র ফি’র নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়  » «   তাহিরপুরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে প্রধান শিক্ষকের টালবাহানা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে প্রতারণা, প্রতারককে জরিমানা  » «   মৌলভীবাজারের জুড়িতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ দুইজন গ্রেফতার  » «   দোয়ারাবাজারে বিদেশী মদের চালানসহ মাদক কারবারি আটক  » «   সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১৫টি স্পটে চলছে সহশ্রাধিক অবৈধ ক্রাশার মেশিনের তান্ডব  » «   সুনামগঞ্জে পিতা ও কন্যার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «   সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার  » «   নবীগঞ্জে যুদ্বাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া আমাদের মধ্যে আর নেই! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাপন  » «   জুড়ীতে ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ আটক ১  » «   ছাতকে আবুল হোসেনকে পরিকল্পিত হত্যা নাকি অন্য কারণ?প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা   » «   দোয়ারাবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরখাস্ত   » «   তাহিরপুরে রাতের আঁধারে কৃষকের জমির ধান কেটে নিল প্রতিপক্ষের লাঠিয়াল বাহিনী   » «   ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ আহত ৭, আশংখাজনক ভাবে ৫জনকে সিলেট প্রেরন  » «  

পরীক্ষায় ৮৪, জীবনে ১০০ পেল শালিনী

11সিলেটপোস্ট  রিপোর্ট :  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা ফার্স্ট বা সেকেন্ড হয়েছে, তাদের থেকে হয়ত বেশ কিছুটা দূরেই আছে ৮৪ শতাংশ নম্বর পাওয়া শালিনী ৷‌ কিন্তু জীবনের লড়াইয়ে একেবারে প্রথমের সারিতে রয়েছে সে, পাঁচ বাড়িতে বাসন মেজে, ঘর মুছেও পরীক্ষায় এত ভাল ফল করে৷‌ নিজের হাতখরচের জন্যে নয়, বাড়তি উপার্জনে সংসারে একটু সাশ্রয় হবে বলেই শালিনী লোকের বাড়ি কাজ করে৷‌ ওর বয়সি বাকি মেয়েরা যখন হয়ত ফাস্ট ফুড আর ফেসবুক নিয়ে মেতে থাকে, শালিনী তখন বাসন মাজে, ঘর ঝাঁড়পোঁছ করে, দরজার সামনে রঙীন আলপনা দেয়৷‌ বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় শালিনী৷‌ ওদের বংশের প্রথম ইঞ্জিনিয়ার৷‌শালিনীদের নিজেদের বাড়ি নেই৷‌ ওর মামা্লমাইমার ছোট ভাড়াবাড়ি ভাগাভাগি করে থাকে দুটো পরিবার৷‌ ওর বাবা আরমুগম দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বহু বছর ঘরবন্দি, কিছু করতে পারেন না৷‌ ভাই সূর্যর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে, এখন ভর্তি আছে হাসপাতালে৷‌ সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম লোক শালিনীর মা, যিনি শুধু নামে নন, কাজেও বিজয়া৷‌ হাসপাতালে অায়ার কাজ করেন আর তার ফাঁক ফোকরে লোকের বাড়ি বাড়ি ঠিকে কাজ৷‌ হাড়ভাঙা খাটুনির মধ্যেও মেয়েকে স্বপ্ন দেখাতে ভোলেননি৷‌নিজে ক্লাস ফাইভের পর আর পড়তে পারেননি, আরমুগমের তো অক্ষর পরিচয়ই নেই, কিন্তু মেয়েকে সবসময় পড়তে উৎসাহ জ৩গিয়েছেন৷‌প্রথমে স্হানীয় এক তামিল মিডিয়াম স্কুল , সেখানে ভাল রেজাল্ট করার পর একটু ভাল একটা কন্নড় মিডিয়াম আর তার পরে আরও ভাল এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল৷‌ ‘কাজের মেয়ে’ শালিনী তাই ইংরেজিতে কখন কাজ করত, কখনই বা পড়ত শালিনী? খুব শত্ত ছিল সময় বের করে নেওয়াটা৷‌ তাই ওর দিন শু হতো রোজ ভোর সাড়ে চারটেয়৷‌ প্রথমে এক বাড়ির দরজায় আলপনা দেওয়া৷‌ সেটা ঘণ্টাখানেকের কাজ৷‌ তার পর অারেক বাড়ি ঝাড়পোঁছের কাজ, আরও দুঘণ্টা৷‌ সেখান থেকে তিন নম্বর বাড়িতে কাপড় কাচা, বাসন মাজা৷‌ সকাল নটা নাগাদ বাড়ি ফিরে জলখাবার খেয়ে পড়তে বসা৷‌ বিকেলে আবার দু’বাড়ি কাজ, কাপড় কাচা, বাসন মাজার৷‌ সন্ধে গড়িয়ে বাড়ি ফিরে বেশি রাত পর্যন্ত পড়াশোনা৷‌দিনরাতগুলো খুব লম্বা আর ক্লান্তিকর ছিল শালিনীর জন্যে, তবু ও হাল ছাড়েনি৷‌ ভাগ্যিস!

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.