সংবাদ শিরোনাম
মাস খানেক পরই বিদ্যুৎ ঘাটতিসহ সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে-পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নান  » «   ওসমানীনগরে পরিমাপে পেট্রোল কম দেয়ায় সুপ্রীম ও আবীর ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা  » «   জগন্নাথপুরে এক কৃষক হত্যা মামলায় ১ জনের আমৃত্যু ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড  » «   সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ  » «   জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্বান্ত-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল  » «   দেশের সংকট নিরসনের জন্য আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই :খন্দকার মুক্তাদির  » «   চুনারুঘাটে ছেলের হাতে মা খুন,ছেলে আটক  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মালামালসহ আটক ২   » «   ওসমানীনগর থানার ওসি অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ-মোকাব্বির খান এমপি  » «   ভোলায় পুলিশী ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ঘুষ ছাড়া সহজে কারো পাসপোর্ট হয়না: ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি  » «   সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা  » «   জামালগঞ্জে জামায়াতের আমীর দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র জিহাদি বইসহ ২জন আটক-মামলা  » «   সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু  » «  

অসহায় সিলেটের সহস্রাধিক মৎস্যজীবী

4সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :একটি মধ্যস্বত্ত¡ভোগী চক্র ‘স্ট্রে অর্ডার’ নির্বাহী বিভাগ থেকে আদায় করে জলমহালের রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করছে। একই সাথে এই মধ্যস্বত্ত¡ভোগীরা গরীব কার্ডধারী মৎস্যজীবীদের জলমহাল থেকে মাছ আহরণে বাধা দেয়ার কারণে মৎস্যজীবীরা আজ অসহায়। জানা গেছে, সিলেটের সুরমা নদীর চারটি , চেঙ্গেরখাল নদী, কাটারমার খাল-সাদীপুর নদী এ সাতটি জলমহালে গরীব সহস্রাধিক মৎস্যজীবী মাছ আহরণ করেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে একটি মধ্যস্বত্ত¡ভোগী চক্রের খপ্পরে পড়ে ওই মৎস্যজীবীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এমনকি তারা আর কখনো ওই জলমহালগুলোতে মাছ আহরণ করতে পারবেন কি না তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেটের সহস্রাধিক মৎস্যজীবীর প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছেন নবীন মৎস্য ও কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মানিক লাল ধর এবং সিলেট জেলার স্থানীয় এজেন্ট মো. নুরুল ইমলাম। তারা একটি মহলকে ম্যানেজ করে জলমহালগুলো পরোক্ষভাবে দখল করে রেখেছেন। এতে কার্ডধারী গরীব মৎস্যজীবীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। শুধু গরিব মৎস্যজীবীরা অসহায় নয়, মানিক লাল ধরের কারণে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সং¤িøষ্টরা জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের হতে ২০০৯ সালে জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমাল প্রণীত হয়। এর ২৯ নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক উন্মুক্ত জলমহালগুলো টোকেন খাজনায় তীরবর্তী প্রকৃত মৎস্যজীবীদেরকে মাছ ধরার অধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০১১ সালে জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি সিলেট জেলা শাখা ভূমি মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি আবেদন করা হলে ওই মন্ত্রনালয় সিলেট জেলা প্রশাসককে এর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ২০১২ সালের ২১ অক্টোবরে একটি সভায় উন্মুক্ত জলমহালগুলো টোকেন খাজনায় ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রনয়ণ করেন এবং কিছু জলমহালে প্রার্থী মৎস্যজীবীদেরকে টোকেন খাজনায় লাইন্সেসও দেয়া হয়। তখন থেকেই নবীন মৎস্য ও কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মানিক লাল ধর সিলেট বিভাগে মোট ২৭টি উন্মুক্ত জলমহাল তার আওতায় নেয়ার পায়তারা শুরু করেন। এমনকি বিভাগীয় কমিশনার সিলেট আদালতে একটি মামলা (মামলা নং ক-১৮/২০১৪) দায়ের করে স্থগিত আদেশ হাছিল করেন। যা পরবর্তীতে শুনানিঅন্তে খারিজ হয়। কিন্তু সেই মানিক লাল ধর আরো কৌশলী হয়ে উঠেন। তিনি পরবর্তীতে ভূমি আপিল বোর্ডে আপিল (৫-১২৯/২০১৪(জঃম) আপিল সিলেট) করে স্থগিত আদেশ হাছিল করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি শুনানিতে অংশ না নেয়ায় চলতি বছরের ১২ মে তার আপিল বাতিল করে দেন। আপিল বাতিল হওয়ায় দীর্ঘ পাচঁ মাসেও স্থানীয় প্রশাসন ত্বড়িৎ ব্যবস্থা না নেয়ায় ফের ভূমি আপিল বোর্ডে ওই মামলাটি রিভিউ আবেদন করেন মানিক লাল ধর। ওই রিভিউ আবেদন করায় সরকার মৎস্যজীবীদের লাইন্সেস নবায়ণ বা নতুন করে লাইন্সেস ইস্যু করতে পারছেন না। এতে সরকার রাজস্ব থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি প্রকৃত মৎস্যজীবীরাও তাদের জীবন-জীবিকার স্থল এ উন্মুক্ত জলমহাল থেকে মাছ ধরতে পারছেন না।

অপরদিকে নবীন মৎস্য ও কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মানিক লাল ধর এর এই এনজিও মৎস্যজীবীদের জন্য জলমহাল নেয়ার কোন বিধান বর্তমান জলমহাল নীতিমালায় নেই বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মৃণাল কান্তি দেব বলেন, জলমহালগুলো মৎস্যজীবীদের জন্য। তবে কোন মহল যদি মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে বাঁধা প্রদান করে তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.