সংবাদ শিরোনাম
এডিশন্যাল ডি আই জি কে জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বিদায় সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট প্রদান  » «   আউশকান্দি কলেজিয়েট স্কুলে বখাটেদের উৎপাত বেড়ে গেছে!ছাত্রী ও অভিভাবকরা আতংকিত  » «   সুনামগঞ্জ জেলা ও দিরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুদকে ঘুষ-দূর্নীতি ও অর্থ কেলেংকারীর অভিযোগ   » «   মাস খানেক পরই বিদ্যুৎ ঘাটতিসহ সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে-পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নান  » «   ওসমানীনগরে পরিমাপে পেট্রোল কম দেয়ায় সুপ্রীম ও আবীর ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা  » «   জগন্নাথপুরে এক কৃষক হত্যা মামলায় ১ জনের আমৃত্যু ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড  » «   সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ  » «   জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্বান্ত-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল  » «   দেশের সংকট নিরসনের জন্য আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই :খন্দকার মুক্তাদির  » «   চুনারুঘাটে ছেলের হাতে মা খুন,ছেলে আটক  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মালামালসহ আটক ২   » «   ওসমানীনগর থানার ওসি অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ-মোকাব্বির খান এমপি  » «   ভোলায় পুলিশী ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ঘুষ ছাড়া সহজে কারো পাসপোর্ট হয়না: ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি  » «  

সিলেটের জঙ্গি আবদুল হকের জবানবন্দিতে অবাক গোয়েন্দারা

13সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন সিলেটের আবদুল হক। দেশের সাহিত্যিক-সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সরকারের মন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক থেকে শুরু করে বিভিন্নজনকে হুমকি দিয়ে আলোচনায় চলে আসা আবদুল হকের প্রযুক্তিজ্ঞান অবাক করেছে গোয়েন্দাদেরও।গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে হুমকিদাতা আবদুল হককে। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গাংপাড় গ্রামের খলিলুর রহমান ছেলে। ছাতকের নিজগাঁওয়ের তোফাজ্জল আলীর পুত্র আমিনুর রহমান তার সহযোগী।জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া বিস্ময়কর তথ্য। সে ও তার সহযোগি আমিনুর রহমান ২ ডিসেম্বর নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
আবদুল হককে গ্রেপ্তারের পর দু’দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মোট পাঁচদিনের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তেমন শিক্ষিত না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে তার অনেক জ্ঞান। সিলেটের জকিগঞ্জের একটি মাদরাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরিও করেছেন। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আবদুল হক বলেছেন, প্রযুক্তির প্রতি প্রবল কৌতূহল তার। বিভিন্ন সফটওয়্যার ও অ্যাপস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। এর মধ্যে একটি অ্যাপস পেয়ে যান। যা দিয়ে তার শত্রুদের শায়েস্তা করা সহজ হবে বলে ধারণা করেন।
তার সঙ্গে বিরোধ ছিল এ রকম তিন ব্যক্তির মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে হুমকির বার্তা প্রেরণ করেছেন জানিয়ে আবদুল হক বলেন, প্রতিবেশী ফায়জুর রহমানের ও নোমান বিন আরমান যৌথভাবে মুক্তস্বর নামে একটি সাংস্কৃতিক ফোরাম গঠন করেন। এ ছাড়া আবদুল হক নিজে একজন ব্লগার। চন্দ্রবিন্দু, সামহোয়্যারইন, বিসর্গসহ বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। সংগঠন নিয়ে ২০১০ সালে ফায়জুরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় তার। একপর্যায়ে ফায়জুরকে শায়েস্তা করার জন্য তার মোবাইলফোন নম্বর দিয়ে একটি অ্যাপসে অ্যাকাউন্ট খুলেন। ওই অ্যাপস থেকে কোড প্রেরণ করা হয় ফায়জুরের মোবাইল ফোনে। কোডটি সংগ্রহ করে দেন আবদুল হকের বন্ধু আমিনুর।
জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুর জানিয়েছেন, চুক্তিনামা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার অজুহাতে পূর্বপরিচিত ফায়জুরের কাছে গিয়েছিলেন। ওই সময়ে আবদুল হকের পরামর্শ অনুসারে কৌশলে ফায়জুরের ফোনে আসা কোডটি তার ফোনে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিলেন আমিনুর। এভাবেই শুরু হয় হুমকি বার্তার প্রাথমিক মিশন। একইভাবে স্থানীয় শাহবাগ মাদরাসার সহকর্মী শিক্ষক সাদ ও ফায়জুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সালেহ আহমদ ফোয়াদের নামে আইডি করেন। সম্পর্কের সুবাধে তাদের ফোন থেকে নিজেই কোড সংগ্রহু করেছিলেন আবদুল হক।পরবর্তীকালে এই তিন ব্যক্তির ফোন নম্বর থেকেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষাবিদ প্রফেসর আনিসুজ্জামান, বিশিষ্ট সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুনতাসির মামুন ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানকে হুমকি দেয়া হয়। এর মধ্যে সিলেটের একজন সাহিত্যকর্মী সৈয়দ মবনুর নামে আইনমন্ত্রীকে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করা হয়। প্রায় প্রতিটি বার্তাতেই প্রাণনাশের হুমকিসহ প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য ছিল। মিজানুর রহমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে লিখেছে, ‘উই উইল স্টপ ইউর হার্টবিট ফরএভার।’আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গাংপাড় গ্রামের ফায়জুর রহমান জানান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে হুমকি দেয়ার অপরাধে ২০১৩ সালের জুন মাসে ফায়জুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইভাবে ২০১৪ সালের ৩০ই জুন আইনমন্ত্রীকে হুমকি দেয়ার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মোবাইলফোনটি পুলিশের কাছে জব্দ থাকলেও ফায়জুরের ওই ফোন থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেয়া অব্যাহত ছিল। এতেই টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।একইভাবে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র  সালেহ আহমদ ফুয়াদ আদালতকে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পূর্বে তিনি ও আবদুল হক সিলেটের জকিগঞ্জের শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। একই বোডিংয়ে থাকার কারণে তার মোবাইলফোনটি আবদুল হক প্রায়ই ব্যবহার করতেন। গত ১১ই নভেম্বর সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার ফোন থেকে প্রফেসর আনিসুজ্জামানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক সাদ সংসদ সদস্য শেখ সেলিমকে হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তিনি এখনও কারাগারে রয়েছেন।দেশের দেড় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির হুমকিদাতাকে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন থেকেই তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। সূত্রমতে, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং হাসান আজিজুল হককে হুমকি দেয়ার পরপর ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. যায়েদ শাহরিয়ার একটি টিম নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জে যান। ভুক্তভোগী ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসে আবদুল হকের নাম।পরবর্তীকালে গত ২৪ নভেম্বর এআইজি মনিরুজ্জামান ও ডিবির ডিসি সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশনায় গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল হককে। গ্রেপ্তারের আগে ছাতকে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আবদুল হক।২ ডিসেম্বর ১৫৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়ার পর আবদুল হক ও আমিনুরকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. যায়েদ শাহরিয়ার জানান, হুমকির শিকার দেশের প্রায় সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হুমকি দিয়েছে আবদুল হক। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করতে বেগ পোহাতে হয়েছে। কোন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আবদুল হকের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.