সংবাদ শিরোনাম
সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ  » «   জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্বান্ত-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল  » «   দেশের সংকট নিরসনের জন্য আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই :খন্দকার মুক্তাদির  » «   চুনারুঘাটে ছেলের হাতে মা খুন,ছেলে আটক  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মালামালসহ আটক ২   » «   ওসমানীনগর থানার ওসি অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ-মোকাব্বির খান এমপি  » «   ভোলায় পুলিশী ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ঘুষ ছাড়া সহজে কারো পাসপোর্ট হয়না: ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি  » «   সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা  » «   জামালগঞ্জে জামায়াতের আমীর দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র জিহাদি বইসহ ২জন আটক-মামলা  » «   সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু  » «   জৈন্তাপুর সীমান্তের ডিবির হাওর এলাকায় ৪৮ বিজিবি’র মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত  » «   ওসমানীনগরে সাংবাদিকের বাড়িতে কর্মরত যুবকের লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার  » «   দোয়ারাবাজারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «  

এসপির বাসায় কনস্টেবলের না আসার কারণ কি: শামস রাশীদ জয়

6সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :খুন হওয়া এসপির স্ত্রীর বাসায় প্রতিদিন সকালে আসতেন একজন পুলিশ কনস্টেবল। এসপির ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতে। রোববার তিনি আসেননি। কেনো আসেননি এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনলাইন এক্টিভিস্ট শামস রাশীদ জয়।

ফেসবুকে জয় লিখেছেন- ‘কনস্টেবলের না আসার কারণ কি? অসুস্থতা, ডিউটি, আদেশ, দেরী, না অন্য কিছু? আসছে না, সেটা কি জানিয়েছিল?’

জঙ্গিদের আতঙ্ক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর নিহত হবার ঘটনায় একটা ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে : ‘সাদ্দাম হোসেন নামের এক কনস্টেবল জানান, সাধারণত সকালে একজন কনস্টেবল এসে বাবুল আক্তারের ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। পরে মিতু তার ছোট মেয়েকে নিয়ে যেতেন কাছের এক স্কুলে। সেখানে প্লে গ্রুপে ভর্তি করা হয়েছে মেয়েটিকে। রোববার সকালে কনস্টেবলদের কেউ না আসায় মিতু নিজেই ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে বেরিয়ে খুন হন। তার ছোট মেয়ে তখন বাসায়, গৃহকর্মীর কাছে।’

তাহলে কি, নিহত মিতুর সকাল সাড়ে ছয়টায় জনবিরল সময়ে এই রাস্তায় হেঁটে যাওয়াটা রুটিন ছিল না? উনার রুটিন ছিল আরও অনেক পরে বের হওয়া? খুনিরা কি তাহলে এত সময় ধরে অপেক্ষা করতো? পথচারী ও দোকানদারদের প্রশ্নের উদ্রেক না করে এত সময় ধরে অপেক্ষা করা কি ও আর নিজাম রোডে সম্ভব?

না কি, খুনিরা আগে থেকে খবর পেয়েছিল? আগে খবর পেলে সেই খবর কে কে জানতে পারে? সেই কনস্টেবল, কনস্টেবলের সহকর্মী, নিহত মিতুর গৃহকর্মী, ভবনের প্রহরী, পড়শী, বা অন্য কেউ?

কনস্টেবলের না আসার কারণ কি? অসুস্থতা, ডিউটি, আদেশ, দেরী, না অন্য কিছু? আসছে না, সেটা কি জানিয়েছিল?

এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট কারও মোবাইলের লাইনে কি ফোন-ট্যাপিং অন করা ছিল, মানে ইনারা কাউকে খবর না দিলেও সেই খবর কি তৃতীয় পক্ষ পেতে পারতো? সেটা হয়ে থাকলে সেই ট্যাপিং এর অ্যাডমিন কে?

অনেক প্রশ্ন, অনেক ক্লু। এবার ক্লু বেশী হওয়ার কথা। অন্যান্যবার যেমন ফরেনসিক পুলিশ আসার আগেই জনতা আর সাংবাদিক যেভাবে ক্রাইম-সিন পায়ে মাড়িয়ে আলামতের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন, এবার সেটা হয় নি মনে হয়। তাই মনে হচ্ছে খুনিরা দ্রুতই ধরা পড়বে।

এত কথা বলছি, কারণ এই আঘাতটি রাষ্ট্রের উপর। রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের উপর। কতটা সঠিকতা ও দ্রুততার সাথে এই খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে তার উপর অনেকটা নির্ভর করবে এই সমাজের সামনের পথটি আরও শান্তির না আরও নৈরাজ্যের হবে।

ইতিমধ্যেই দেখছি দিকে দিকে থেকে ক্রসফায়ারের দাবী আসছে। ক্রসফায়ার হলে সেটা জনগণও পছন্দ করবে, অতীতেও করেছে। কিন্তু পেছনের অপরাধীরা, গডফাদারেরা পার পেয়ে যাবে। তেমনটা যেন না হয়।

জঙ্গি দমন করতে হলে গডফাদারদের দমন করতে হবে। ক্রসফায়ার করা মানেই গডফাদারদের স্যুট টাই পড়ে সুশীলগিরি, টকশোবাজি, মানবাধিকারবারিগিরি, দূতাবাসমর্দন, বিদেশী জঙ্গিদের দায় স্বীকারের ব্যবসা, অ্যামনেস্টিদের বাণিজ্য, ওয়ান ইলেভেনের জন্য গ্যাংবাজি, ইত্যাদি করার সুযোগে ‘লাইফ’ দেয়া।

দয়া করে জঙ্গিদের গডফাদারদের ‘লাইফ’ দেবেন না। খুনিদের পাকড়াও করেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেন, ও তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সাক্ষ্য, সূত্র, প্রমাণ, ইত্যাদি থেকে জঙ্গিদের সাথে সাথে গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনুন। শুধু আজকের জঙ্গি না, ভবিষ্যতের জঙ্গিও দমন হবে তাতে করে।

পাকড়াও করা জঙ্গিদের বিচার করা হচ্ছে প্রচলিত আইনে। যেই পন্থায় ‘বিলম্ব’ শুধু স্বাভাবিক না, অপরাধীর অধিকারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। মনে হয় সময় হয়েছে জঙ্গিদের বিচারের জন্য পৃথক আইন ও আদালতের ব্যবস্থা করার। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি বা সুপেরিয়র রেসপন্সিবিলিটির দায় সেই আইনের অংশ হতে হবে। জঙ্গি ধরা পড়বে আর ষড়যন্ত্রকারীরা বহাল তবিয়তে ভবিষ্যতে নতুন জঙ্গি উৎপাদন চালিয়ে যাবে, তাতে করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জঙ্গিমুক্ত হবে না – কখনই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.