সংবাদ শিরোনাম
এডিশন্যাল ডি আই জি কে জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বিদায় সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট প্রদান  » «   আউশকান্দি কলেজিয়েট স্কুলে বখাটেদের উৎপাত বেড়ে গেছে!ছাত্রী ও অভিভাবকরা আতংকিত  » «   সুনামগঞ্জ জেলা ও দিরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুদকে ঘুষ-দূর্নীতি ও অর্থ কেলেংকারীর অভিযোগ   » «   মাস খানেক পরই বিদ্যুৎ ঘাটতিসহ সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে-পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নান  » «   ওসমানীনগরে পরিমাপে পেট্রোল কম দেয়ায় সুপ্রীম ও আবীর ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা  » «   জগন্নাথপুরে এক কৃষক হত্যা মামলায় ১ জনের আমৃত্যু ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড  » «   সিলেটের ওসমানীনগরে মা-মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ  » «   জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অযৌক্তিক সিদ্বান্ত-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল  » «   দেশের সংকট নিরসনের জন্য আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করার বিকল্প নেই :খন্দকার মুক্তাদির  » «   চুনারুঘাটে ছেলের হাতে মা খুন,ছেলে আটক  » «   জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   দোয়ারাবাজারে ভারতীয় মালামালসহ আটক ২   » «   ওসমানীনগর থানার ওসি অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ-মোকাব্বির খান এমপি  » «   ভোলায় পুলিশী ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   সিলেটে ঘুষ ছাড়া সহজে কারো পাসপোর্ট হয়না: ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি  » «  

নাশকতার শঙ্কায় সংসদ সদস্যরা

8সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। তারা সংসদ ভবন ও সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবন ‘ন্যাম ভবন’ এলাকায় যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। সংসদ ভবনে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যাসহ সাম্প্রতিক কিছু হত্যাকা- নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কেউ-কেউ ভিআইপিদের ওপর হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন বলে বৈঠক সূত্র জানায়।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ আমাদের সময়কে বলেন, এমনিতেই নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদ ভবন এলাকায় ‘ওয়েল প্রোটেকশন’ (সর্বোচ্চ নিরাপত্তা) নিশ্চিতের কথা বলেছেন সংসদ সদস্যরা। এক সংসদ সদস্য জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে বৈঠকে সংসদ সদস্যদের অতিথি আগমনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে। কেননা এখানে অনেকেই আসেন। কে কোন ফাঁকে ঢুকে, কী ঘটিয়ে যায় সেটি তো আর বলা যায় না। তাই সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগেও সংসদীয় কমিটির একাধিক বৈঠকে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়। সর্বশেষ এ কমিটির বৈঠকে সংসদে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য সরকারদলীয় সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদারকি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সংসদ সদস্যদের আবাসস্থলের নিরাপত্তার স্বার্থে সোসাইটি গঠন করে বাড়তি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের দায়িত্ব ছিল ওই কমিটির। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় কমিটির পঞ্চম বৈঠকে ন্যাম ভবন এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৭০ জন আনসার নিয়োজিত করার সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক আনসার সদস্যও দেওয়া হয়। তবে প্রায় দেড় বছর পার হলেও আনসার সদস্যদের থাকার জায়গা না দিতে পারায় তারা নিরাপত্তাকাজে নিয়োজিত হতে পারেননি। এ বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, থাকার জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না বলে ৭০ জন আনসার দায়িত্বে নিয়োজিত হতে পারছে না। তাদের থাকার জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

এদিকে ২০১৩ সালে দুই ফুট উঁচু লোহার বেষ্টনী সরিয়ে সংসদ ভবনের চারদিকে ১৪ হাজার ৩৩৫ ফুট এলাকাজুড়ে ৮ ফুট উঁচু সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু হয়; কিন্তু এ বেষ্টনী নির্মিত হলে স্থপতি লুই আই কানের নকশার ব্যত্যয় ঘটবে এবং সংসদ ভবনের সৌন্দর্য হারাবেÑ পরিবেশবাদীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সাময়িকভাবে কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে দীর্ঘদিন কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় অরক্ষিত সংসদ ভবন এলাকায় নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। পরে সংসদ সদস্যরা দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আবার কাজ শুরু হলেও চলতি বছরের প্রথম থেকে তা বন্ধ। ফলে অরক্ষিতই রয়ে গেছে সংসদ এলাকা। এ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, হয়তো ফান্ডের সমস্যা। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া আছে।

এদিকে ন্যাম ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্যদের থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ ফ্ল্যাটে থাকছেন তাদের স্বজন ও নেতাকর্মীরা। সংসদীয় কমিটিতেও এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগতদের না থাকার বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এছাড়া বৈঠকে সংসদ ভবন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, কুকুর নিধন বা হত্যা না করার ব্যাপারে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর মৌখিক নির্দেশনা ছিল। ফলে কোনো সংস্থাকে দিয়ে কুকুর নিধন করা যাচ্ছিল না। এজন্য সংসদীয় কমিটির সদস্যরা কুকুরের উৎপাত থেকে বাঁচতে কী করা যায় তা ঠিক করতে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করার তাগিদ দেন।

বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাসরত সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে একটি পড়ার টেবিল, একটি চেয়ার ও একটি বুক সেলফ সরবরাহের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে টিভি-ফ্রিজ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বলা হয়। এছাড়া ন্যাম ভবনে গণপূর্ত বিভাগ নিয়োজিত কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোশাক সরবরাহেরও সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, পঞ্চানন বিশ্বাস, ফজলে হোসেন বাদশা ও তালুকদার মো. ইউনুস এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.