সংবাদ শিরোনাম
শাওন হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ  » «   পার্কিং ট্রাকের পিছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা সুনামগঞ্জ -সিলেট মহাসড়কে নিহত ১ আহত ২  » «   জামালগঞ্জে নৌ দুর্ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ২ জনের মরদেহ উদ্বার  » «   জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   মুন্সীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় সিলেটে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল  » «   দোয়ারাবাজারে হাওর থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার  » «   ৪ মেয়ে জন্ম দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী কারাগারে  » «   আওয়ামীলীগ সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : কাইয়ুম চৌধুরী  » «   নবীগঞ্জে নিখোঁজের ২দিন পর বিবিয়ানা নদী থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   শাল্লায় মেম্বার ও চেয়ারম্যান কর্তৃক শালিশের নামে কিশোরীকে ধর্ষণ  » «   গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   জৈন্তাপুরে বালু ভর্তি ট্রাক আটক:১ মাসের ব্যাবধানে ২ ট্রাক ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ-আটক-১  » «   নবীগঞ্জে কবরস্থান ও সরকারি রাস্তা জোর পূর্বক দখল: হত্যার হুমকি, অভিযোগ দায়ের  » «   দোয়ারাবাজারে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার  » «   নবীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের গাছ বিক্রি’র নিলামে অনিয়ম! ১৫ লাখ টাকার গাছ ২ লাখ টাকায় বিক্রি!  » «  

মিতু হত্যায় তিনজন ছাড়াও অংশ নিয়েছিল ‘ব্যাকআপ গ্রুপ’

23সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডটি ছিল সমন্বিত। এতে তিন মোটরসাইকেল আরোহী ছাড়াও একটি ‘ব্যাকআপ গ্রুপ’ অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বুধবার দুপুরে সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, এ ঘটনায় সমন্বিত একটি টিম কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘শুধু তিনজনই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে এমন নয়। মাহমুদা খানম মিতু কখন বের হবেন এটা পর্যবেক্ষণ এবং হত্যার পর মোটর সাইকেলে করে যারা পালাবে তাদের ‘ব্যাকআপের’ জন্য আলাদা গ্রুপ ছিল।’

তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা যখন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করছিল, তখন জিইসি মোড়ের দিকে কিছুটা অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল একটি কালো মাইক্রোবাস। মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যাওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় ঘটনাস্থলে আসে মাইক্রোবাসটি। পাঁচ সেকেন্ডের মতো ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে চলা শুরু করে মাইক্রোবাসটি।

পরে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায় ওই মাইক্রোবাস। কালো কাচের এ মাইক্রোর চালকের আসনের পাশের জানালাটা খোলা ছিল। অন্যসব জানালা বন্ধ ছিল। এ কারণেই গোয়েন্দারা মাইক্রোবাসের যাত্রীর সঙ্গে এ খুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

এর আগে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর পুলিশ এর প্রকৃত মালিক দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশ জানায়, মিতু হত্যা কান্ডে যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহৃত হয়েছে সেই মোটরসাইকেলের নম্বরটি ছিল ভুয়া। একই নম্বরের মোটরসাইকেল প্রকৃত মালিকের কাছেই রয়েছে। উদ্ধারকৃত ‘চট্ট মেট্রো-ল-১২-৯৮০৭’ নম্বরের মোটরসাইকেলটি বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য মতে, মো. আবদুর রহিমের নামে নিবন্ধিত। তার পিতার নাম মৃত সৈয়দ আহমেদ। ঠিকানা-১৮/১৯ টেরিবাজার, সিটি টাওয়ার, চট্টগ্রাম। ২০১৪ সালে মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন করা হয়। মোটরসাইকেলটি তার হেফাজতেই রয়েছে।

মিতু হত্যা মামলায় পরে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বরের সূত্র ধরে এই মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক দেলোয়ার হোসেনকে নগরীর জামালখান এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। আটক মোটরসাইকেলটির প্রকৃত নম্বর চট্ট মেট্রো-হ-১৩-১৫৯৭। এর মালিক নগরির জামাল খান এলাকার মৃত গোলাম শরীফের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। ২০১০ সালে গাড়িটি নিবন্ধন করা হয়।

এদিকে আটকের পর দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ২০১১ সালে বোয়ালখালীর গোমদণ্ডি এলাকার বাবুর্চি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর কাছে মোটরসাইকেলটি বিক্রি করেন। গত ৯ মে মোটরসাইকেলটি ওই বাবুর্চির বাড়ি থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুজনকে আটক করে পুলিশ। এ তিনজন নগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছেন,

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা কালো মাইক্রোবাসটি জঙ্গিদের হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, কারণ জঙ্গি অপারেশনের সময় পেছন থেকে এরকম ব্যাকআপ দেওয়ার প্রবণতা থাকে।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার জানান,

মিতু হত্যাকান্ড তদন্তে শুধু ঘটনাস্থলের ফুটেজই একমাত্র ভরসা নয়। নগরীর অন্য এলাকা থেকেও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সবকিছু বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে এসব মোটর সাইকেল এবং মাইক্রেবাস কোথা থেকে এসেছে, মোটর সাইকেল রেখে তারা কোথায় গেছে।‘এসব দেখে মূল জায়গায় হাত দিতে সময় নিচ্ছি,’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইকবাল বাহার আরও জানান,

মোটর সাইকেলের এক মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত উল্লেখ না করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিতু হত্যাকান্ড নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সবার জানার আগ্রহ আছে। কিন্তু সব কিছু সব সময় বলা যায় না, একটা পর্যায় পর্যন্ত বলা যাবে। হত্যাকাণ্ডে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল বাহার বলেন মিতু হত্যাকান্ড মামলায় তদন্তে যাকেই পাওয়া যাক কাউকে ছাড়া হবে না, আমাদের সদস্য হলেও না।

gh6ebOoreqgl

এর আগে রোববার সকালে চট্টগ্রামের জিইসি সংলগ্ন এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার সময় মোটর সাইকেল আরোহী তিন দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

এই ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন যার তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার ভোররাতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হওয়া মোটর সাইকেলটি জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মাহমুদা খানমকে হত্যার ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা জড়িত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মোটর সাইকেলে করে আসা তিন হামলাকারী জিইসি মোড়সংলগ্ন মিষ্টির দোকান ওয়েল ফুডের সামনে মিতুকে প্রথমে ছুরি মারে এবং পরে মাথায় গুলিকরে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

আশপাশের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড শেষ করতে খুনিরা সময় নিয়েছে ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড। এই খুনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিদেশি, হিন্দু ‍পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজকদের হামলার মিল রয়েছে; যেসব ঘটনায় জঙ্গিরাই মূল সন্দেহভাজন।

পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কিছুদিন আগে ঢাকার পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দেওয়ার আগে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে চট্টগ্রামে ছিলেন বাবুল আক্তার। সে সময় জঙ্গি দমন অভিযানে সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন তিনি।

এ কারণে বিভিন্নভাবে হুমকি আসতে থাকায় উদ্বেগে ভুগছিলেন মিতু। ও আর নিজাম রোডের ওই বাসা বদলে ফেলার ইচ্ছার কথাও এক প্রতিবেশীকে বলেছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি দমনে বাবুলের ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

এই ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন যার তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। এদিকে মিতু হত্যার ঘটনায় বুধবার সকালে শিবিরের সাবেক নেতা আবু নাসেরকে হাটহাজারী থেকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, বুধবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় অপহরণসহ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত এই আসামিকে আজ বুধবার ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাশ ভট্টচার্য্য বলেন, ‘শিবির সাবেক নেতা আবু নাসেরের বিরুদ্ধে মিতু হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.