সংবাদ শিরোনাম
দেশে আধুনিক ক্রীড়ার রূপকার ছিলেন শহীদ শেখ কামাল: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   দক্ষিণ সুরমায় মেয়েকে ফিরে পেতে এক পিতার আকুতি  » «   বানারীপাড়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দূর্দান্ত প্রতারক রঞ্জন গ্রেফতার  » «   দক্ষিন সুরমার সুলতানপুর-গহরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ৩  » «   সাংবাদিক অজয় পালের প্রতিকৃতিতে সিলেটের সর্বস্থরের নাগরিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’ শেরপুরে হাজারো মানুষের ঢল  » «   দক্ষিণ সুমরার বাইপাস এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত  » «   আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠছে: মন্ত্রী ইমরান  » «   আওয়ামীলীগের বিদায় নিশ্চিত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্টা করতে হবে :কাইয়ুম চৌধুরী  » «   অবকাঠামো উন্নয়ন এর মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে-প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ  » «   ছাতকে অধ্যক্ষ অপসারণের দাবীতে সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগ  » «   দোয়ারাবাজারে বিজিবি’র অভিযানে চৌদ্দ লক্ষ টাকা উদ্ধার  » «   দোয়ারাবাজারে চিলাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন! ২টিড্রেজার মেশিনসহ বালু জব্দ  » «   কুলাউড়ায় ৩ কেজি গাঁজাসহ ১জনকে আটক করেছে পুলিশ  » «   প্রধানমন্ত্রীর নতুন স্বপ্ন স্মার্ট বাংলাদেশে কেউ পিছিয়ে থাকবেনা : জেলা প্রশাসক  » «  

বালাগঞ্জে চাচার পিটুনীতে ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু

999সিলেটপোস্ট রিপোর্ট :বালাগঞ্জে চাচাদের পিটুনীতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের নাম শরিফুল মিয়া (১৮)। সে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের করছার পার গ্রামের নাজিম মিয়ার ছেলে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে- সোমবার সন্ধ্যার পরে পারিবারিক কলহ নিয়ে নিহত শরিফুলের চাচারা (পিতার চাচাত ভাই) শরিফুলকে মেরে রক্তাক্ত করে বাড়ীর পাশের একটি রাস্তার মধ্যে ফেলে আসে।

মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শরিফুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু শরিফুলের চাচারা (পিতার চাচাত ভাই) তাদের লোকজন দিয়ে শরিফুলকে বাড়িতে নিয়ে আসে বলে অভিযোগ উঠেছে। শরিফুল সারা রাত অজ্ঞান অবস্থায় রক্ত বমি করে।

পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নিকট আত্মীয়রা শরিফুলকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থীয় শরিফুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। লাশ পড়ে থাকে ওসমানী হাসপাতালের মরচুয়ারীতে। মঙ্গলবার রাতে শরিফুল মারা গেলেও নিজেদের দায়িত্বশীল লোকজনের অভাবে দু’দিন পর সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধার পর লাশ গ্রামের বাড়ীতে আনা হলে এশার নামাজের পুর্বে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।

বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন- ঘটনাটি শুনে আমি হাসপাতালে একজন অফিসারকে পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। বৃহস্পতিবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

মৃত শরিফুলের চাচাত ভাই খোকন মিয়া জানান, সোমবার সন্ধা সাড়ে সাতটার দিকে রমজানের প্রথম তারাবিহ’র নামাজ পড়ার জন্য সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসময় নিহত শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া ও তার ভাইদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারামারীর সুত্রপাত ঘটে।

শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাছ ধরার কুছা দিয়ে শরিফুলের বড় ভাই শহিদুলের উরুতে আঘাত করলে তা অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। এমতাবস্থায় শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়ার চাচাত ভাই (পাশ্ববর্তী ঘরের বাসিন্ধা) মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে ছুরাব, আবুল, বাবুল, বোদন, ফেছন মিলে শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়ার পক্ষাবলম্ভন করে তাকে উস্কানী দিয়ে মারমুখী ও হিংস্র করে তুলে।

তখন শরিফুল তার পিতা নাজিম মিয়াকে নিভৃত করার জন্য এগিয়ে যায়। এসময় শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া ও নাজিম মিয়ার পক্ষ নেয়া তার চাচাত ভাইদের সাথে শরিফুলের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়ার পিটে ধারালো দা’র আঘাতে কিছুটা আঘাত প্রাপ্ত হন।

নাজিম মিয়ার আঘাত প্রাপ্ত হলে তার চাচাত ভাইয়েরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলকে জোরপুর্বক টেনে হেছড়ে ঘরের ভিতর ধরে নিয়ে ৪-৫ জন মিলে ষ্টিালের ম্যাগলাইট (টর্চলাইট) দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ী আঘাত করলে মারাত্মক ভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তারা শরিফুলকে বাড়ীর সামনের রাস্তায় নিয়ে আরেক দফা মেরে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পাশে অর্ধেক দেহ পানির মধ্যে রেখে ফেলে আসে। এদিকে নিহত শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া (৬০) ও আহত অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

গ্রামবাসীরা জানান- নিহত শরিফুলরা ৫ ভাই। তাদের মা মারা গেছেন প্রায় বছর দেড়েক আগে। কিছু দিন পুর্বে শরিফুলের পিতা নাজিম মিয়া গ্রামের এক বাক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে (৩ সন্তানের মা) কৌশলে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। কয়েক দিন পরেই শরিফুলের পিতা বাড়ী থেকে এসে ধান, চাল ও টাকা-পয়সা নিতে আসেন। এ নিয়ে পিতার ২য় বিয়ের পর থেকেই শরিফুলদের সংসারে অশান্তি দেখা দেয় এবং মাঝে-মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি হতো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.