সংবাদ শিরোনাম
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে হামলা ও লুটপাঠের ঘটনায় দাঙ্গাবাজ কনর মিয়া ও কবির মিয়ার ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড  » «   ওসমানীনগরে হামলা চালিয়ে প্রবাসীর বসতঘর দখলের অভিযোগ  » «   দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৬  » «   সিলেটের ওসমানীনগরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, আটক ১  » «   দেশে আধুনিক ক্রীড়ার রূপকার ছিলেন শহীদ শেখ কামাল: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   দক্ষিণ সুরমায় মেয়েকে ফিরে পেতে এক পিতার আকুতি  » «   বানারীপাড়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দূর্দান্ত প্রতারক রঞ্জন গ্রেফতার  » «   দক্ষিন সুরমার সুলতানপুর-গহরপুর সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ৩  » «   সাংবাদিক অজয় পালের প্রতিকৃতিতে সিলেটের সর্বস্থরের নাগরিকদের শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’ শেরপুরে হাজারো মানুষের ঢল  » «   দক্ষিণ সুমরার বাইপাস এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত  » «   আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠছে: মন্ত্রী ইমরান  » «   আওয়ামীলীগের বিদায় নিশ্চিত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্টা করতে হবে :কাইয়ুম চৌধুরী  » «   অবকাঠামো উন্নয়ন এর মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে-প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ  » «   ছাতকে অধ্যক্ষ অপসারণের দাবীতে সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগ  » «  

‘জঙ্গি’ রিপনের লাশ নেবেন না স্বজনরা

12সিলেটপোস্ট রিপোর্ট:বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার রাজশাহী’র মাস্টারমাইন্ড আবু ইব্রাহীম ওরফে তারেক ওরফে রিপন ওরফে তানের লাশ নেবেন না তার স্বজনরা। ইতোমধ্যেই তারা তাদের সিদ্ধান্তের কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। নিহত রিপনের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।রাজশাহী মহানগরীর পাঠানপাড়া এলাকার ১৬৯ নম্বর বাড়িটি রিপনের। রিপনের বাবা গোলাম সবুর ওরফে বাবলা মারা যাওয়ার পর তার দাদি তাকে তিনতলা এ বাড়িটি বানিয়ে দেন। রিপন থাকতেন নিচতলায়। দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন তার চাচা আবদুস সালাম। আর তিনতলা ভাড়া দিয়েছেন রিপন। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িটিতে গেলে নিচতলা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।দোতলায় উঠে কথা হয় রিপনের চাচি বেবি বেগম ও চাচাত বোন তমা খাতুনের সঙ্গে।তারা জানান, জঙ্গি রিপনের লাশ তারা নিতে আগ্রহী নন। রাষ্ট্রবিরোধী জঙ্গিকে নিজেদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেও লজ্জা পান তারা।বেবি বেগম জানান, ছোটবেলায় রিপনের বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা ঝর্ণা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছেন। তিনি এখন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের একটি হোস্টেলের আয়া হিসেবে চাকরি করেন। তিনি ছেলের লাশ নিতে চাইবেন না। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন যারা আছেন, তারাও কেউ লাশ নিতে আগ্রহী নন।পাশের দরগাপাড়া মহল্লার ৯২ নম্বর বাড়িটি রিপনের দুলাভাই হাফিজুর রহমানের। এ বাড়িতে গিয়ে কথা হয়, রিপনের বোন সামিনা ফেরদৌস তিন্নার সঙ্গে।তিনি জানান, রিপনের একমাত্র অভিভাবক বলতে গেলে এখন তিনিই। তবে তিনি তার লাশ গ্রহণ করবেন না।তিনি আরও জানান, সোমবার রিপন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়ার পর ওই দিনই বিকালে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকেসহ তার স্বামী হাফিজুর রহমান, চাচা আবদুস সালাম ও চাচাতো ভাই ইউসুফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তখনই তারা পুলিশকে রিপনের লাশ না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।কান্নায় ভেঙে পড়ে সামিনা ফেরদৌস বলেন, ‘বোন হিসেবে ভাইয়ের জন্য মন কাঁদছে। কিন্তু কিছু করার নেই। কোনো দেশবিরোধী জঙ্গির লাশগ্রহণ করতে পারি না। লাশগ্রহণ করলে সমাজের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে ছোট হয়ে যাব। আমরা আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ লাশ নেয়ার পক্ষে না।’সোমবার ভোরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবির সামরিক কমান্ডার বদর মামা ওরফে খালেদ মামা এবং আনসার রাজশাহীর এই মাস্টারমাইন্ড আবু ইব্রাহিম ওরফে তারেক ওরফে রিপন নিহত হন। খালেদ মামার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে।মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বগুড়ার শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরফান আলী জানান, তাদের লাশ এখন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা আছে। তাদের স্বজনরা লাশ নেবেন কী না তা এখনও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তারা লাশ নিতে না চাইলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন অথবা আঞ্জুমানে মফিদুলের মাধ্যমে ‘জঙ্গিদের’ লাশ দাফন করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়াার করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by:

.